টাঙ্গাইল জেলার পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরবর্তী ভূঞাপুরের দক্ষিণের একটি গ্রাম মাটিকাটা। ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট কাদেরিয়া বাহিনী সেখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অস্ত্রবোঝাই সাতটি ছোট-বড় জাহাজের ওপর আক্রমণ চালায় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করে নেয়। এ ছিল প্রকৃত জনযুদ্ধের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এক যুদ্ধ। সেদিন পাকিস্তানি বাহিনী যাতে ভূঞাপুরের দিকে আসতে না পারে, সে জন্য এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়কের নারান্দিয়ায় অবস্থান নেয় কাদেরিয়া বাহিনীর একটি কোম্পানি। এর নেতৃত্বে ছিলেন খোরশেদ আলম তালুকদার। অস্ত্র খুইয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ভূঞাপুরে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। এই আক্রমণের মুখে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের টিকে থাকা সম্ভব ছিল না। ফলে কৌশলগত কারণে খোরশেদ আলম ১৩ আগস্ট ভূঞাপুর ছেড়ে সখীপুর হেডকোয়ার্টারের দিকে রওনা হলে ১৪ আগস্ট ঘাটাইলের গর্জনা গ্রামে তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে খোরশেদ আলম তালুকদার আহত হন। সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
খোরশেদ আলম তালুকদার ১৯৭১ সালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। মুুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিলের মাঝামাঝি তিনি খবর পান, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সখীপুরের পাহাড়ি এলাকায় কাদের সিদ্দিকী ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করছেন। এ খবর পেয়ে তিনি ছোট ভাই ইউনুস তালুকদার ও ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সখীপুরে যান এবং কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর বাহিনীতে যোগ দেন। এখানে তিনি ১৫ দিন প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে কাদেরিয়া বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি কালিহাতীতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে প্রথম সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। পরে তাঁর নেতৃত্বাধীন কোম্পানি এলেঙ্গা, শয়া পালিমা, নারান্দিয়া, সিংগুরিয়া, শিয়ালকোলসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান