default-image

ধলই বিওপি মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত। ১৯৭১ সালে এখানে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুর্ভেদ্য এক ঘাঁটি। প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিল ৩০ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের দুই কোম্পানি, টসি এবং স্থানীয় রাজাকারের সমন্বয়ে গঠিত দুই কোম্পানি। সবকিছু মিলে এক ব্যাটালিয়ন জনবল। ঘাঁটির অবস্থান ছিল সমতল থেকে বেশ উঁচু জায়গায়। চারদিকে ছিল ঘন বাঁশবন, চা-বাগান, জঙ্গল ও জলাশয়। সেখানে দিনের বেলায়ও আক্রমণ চালানো কঠিন ছিল।

২৮ অক্টোবর ভোরে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি দল (প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা, ব্রাভো, চার্লি ও ডেলটা কোম্পানি) একযোগে ধলই বিওপিতে আক্রমণ করে। চার্লি কোম্পানির একটি প্লাটুনের নেতৃত্বে ছিলেন মো. আবুল হাসেম। তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থানের ডান দিক দিয়ে আক্রমণ করেন। মো. আবুল হাসেম তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঝোড়োগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণের ব্যাপকতা এত বেশি ছিল যে তাঁদের অগ্রযাত্রা একপর্যায়ে থমকে যায়। তখন তিনি ফায়ার অ্যান্ড মুভ পদ্ধতিতে এগোতে থাকেন। কিন্তু উঁচু টিলার ওপর স্থাপিত একটি এলএমজি পোস্ট থেকে পাকিস্তানি সেনারা প্রায় নিখুঁত নিশানায় গুলিবর্ষণ করছিল। মো. আবুল হাসেমের দলের কয়েকজন ওই এলএমজির গুলিতে আহত হন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেন এলএমজি পোস্টটি ধ্বংস করতে। কিন্তু তাঁর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। তাতেও তিনি দমেননি। সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যান।

বিজ্ঞাপন

মো. আবুল হাসেম চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল যশোর সেনানিবাসে। তখন তাঁর পদবি ছিল সুবেদার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি এতে যোগ দেন। যশোরের বেনাপোল, নাভারন, জামালপুর জেলার কামালপুরসহ বৃহত্তর সিলেট জেলার বিভিন্ন জায়গায় তিনি যুদ্ধ করেন। নভেম্বরের শেষ দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত আটগ্রাম সেতু আক্রমণ ও দখলে তিনি অসাধারণ বীরত্ব দেখান। ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। তাঁরা অনেক অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কানাইঘাট যুদ্ধে তিনি আবার আহত হন।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তিনি ‘তঘমায়ে জুমরাত’ (টিজে) খেতাব পান।

বিজ্ঞাপন