বিজ্ঞাপন
default-image

রাজাকার ক্যাম্পে সামনের দিক থেকে আক্রমণ করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল। গোলাম আজাদের নেতৃত্বে সেখানে পেছন থেকে আক্রমণ করলেন আরেক দল মুক্তিযোদ্ধা। দুই দিক থেকে আক্রমণে রাজাকাররা দিশেহারা। গোলাম আজাদ তাঁর দল নিয়ে ক্ষিপ্রগতিতে সুরক্ষিত বাংকারে গ্রেনেড চার্জ করে ঢুকে পড়লেন ক্যাম্পের ভেতরে। রাজাকাররা হতভম্ব। গোলাম আজাদ তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেন। রাজাকাররা একে একে আত্মসমর্পণ করতে থাকল। এ ঘটনা ১৯৭১ সালের অক্টোবরের। ঘটেছিল বুনোগাতিতে।

বুনোগাতি মাগুরা জেলার অন্তর্গত। সেখানে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের শক্ত একটি ক্যাম্প। অক্টোবরের শেষ দিকে এক দিন ভারত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় দল রওনা হয় নড়াইলের লোহাগড়ার উদ্দেশে। সন্ধ্যার পর তারা সীমান্ত অতিক্রম করে। এ দলের একটি প্লাটুনের নেতৃত্বে ছিলেন গোলাম আজাদ। সীমান্ত অতিক্রম করে সারা রাত হেঁটে তাঁরা শেষ রাতে পৌঁছান বুনোগাতিতে। সেখানে তাঁরা যাত্রাবিরতি করেন। বুনোগাতিতে ছিল রাজাকারদের ক্যাম্প। মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে অবস্থানকালে জানতে পারেন, দু-তিন দিন পর পর পাকিস্তানি সেনারা ওই এলাকায় এসে টহল দিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে রাজাকার ক্যাম্পেও অবস্থান করে। রাজাকারদের সহায়তায় স্থানীয় গ্রামবাসীকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতনও তারা করেছে। কয়েক দিন আগে তারা বুনোগাতি বাজার পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার বিবরণ শুনে মুক্তিযোদ্ধারা ওই রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।

রাজাকার ক্যাম্পটি ছিল একটি স্কুলে। সিদ্ধান্ত হলো, মুক্তিযোদ্ধারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করবেন। একটি দল সামনে, অন্য দল পেছন দিক থেকে। সামনের দলের নেতৃত্ব দেবেন এম এইচ সিদ্দিকী বীর উত্তম। তাঁরা সামনে থেকে আক্রমণ করে রাজাকারদের ব্যতিব্যস্ত রাখবেন। এই সুযোগে গোলাম আজাদের নেতৃত্বে অপর দলটি পেছন দিক থেকে ঝটিকা আক্রমণ করে ক্যাম্প দখল এবং রাজাকারদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে। গোলাম আজাদ তাঁর দল নিয়ে প্রচণ্ড গুলির মধ্যেই পাকা বাংকারের কাছে পৌঁছে সেখানে গ্রেনেড চার্জ করেন। এতে রাজাকার ক্যাম্প পতনের সূচনা হয়। এ যুদ্ধে কয়েকজন রাজাকার নিহত ও আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

গোলাম আজাদ ১৯৭১ সালে এইচএসসি শিক্ষার্থী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে ভারতে যান। বিহার রাজ্যের চাকুলিয়ায় প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেন। যুদ্ধ করেন ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টরে। নড়াইলের লোহাগড়া, গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়াসহ আরও কয়েকটি স্থানে তিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান