বিজ্ঞাপন
default-image

গাজী আবদুল ওয়াহেদ ১৯৭১ সালে যশোর ইপিআর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। তিনি অস্ত্রাগারের দায়িত্বে ছিলেন। ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল যশোর সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে ইপিআর হেডকোয়ার্টারের সামনে অবস্থান নেয়। শেষ রাতের দিকে তারা হেডকোয়ার্টার লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে সেখানকার বাঙালি ইপিআর সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। কিছুক্ষণ পর পাকিস্তানি সেনারা সেখান থেকে চলে যায়। পরদিন ২৬ মার্চ যশোর ইপিআরের সেক্টর কমান্ডার অবাঙালি লে. কর্নেল আসলাম এসে তাঁদের অস্ত্র জমা দিতে বলেন। তাঁরা তাতে রাজি হননি। ৩০ মার্চ ভোরে যশোর সেনানিবাসে গোলাগুলির শব্দ শুনে ইপিআর হেডকোয়ার্টারে অবস্থানরত বাঙালি ইপিআর সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তখন হাবিলদার কাজী তৈয়বুর রহমানের নির্দেশে তিনি ও সেপাই আবদুল গনি শাবল দিয়ে অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে ফেলেন। তারপর অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা অবস্থান নেন। সে সময় পাকিস্তানি সেনারাও শহরে অবস্থান নিয়েছিল। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে তাঁরা পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালান। তাঁদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা যশোর শহর থেকে পালিয়ে সেনানিবাসে আশ্রয় নেয়। তারা সেখানে এসে সাদা পতাকা ওড়ায়।

গাজী আবদুল ওয়াহেদসহ তাঁর সহযোদ্ধারা তখন ভেবেছিলেন, পাকিস্তানি সেনারা সম্ভবত সেনানিবাস থেকে আর বের হবে না। তাঁদের জয় হয়েছে। কিন্তু তাঁদের সে ধারণা ছিল ভুল। ৩ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। একই সঙ্গে সেনানিবাস থেকে ইপিআর সেনাদের অবস্থানের ওপরও ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়। পাকিস্তানি সেনাদের নতুন এই আক্রমণে তাঁদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ সময় ইপিআর সদস্যদের বিভিন্ন দল একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বস্তুত, পাকিস্তানি সেনারা যশোর শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাঁরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন।

এরপর গাজী আবদুল ওয়াহেদ তাঁর দলের সঙ্গে মেহেরপুরে চলে যান। পরে সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যান ভারতে। তিনি মেহেরপুর এলাকাতেই সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন। তবে কোন কোন জায়গায় তিনি যুদ্ধ করেছেন, সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায়নি। কারণ, তিনি এখন আর বেঁচে নেই। তাঁর ছেলে বা পরিবারের সদস্যদের কেউই এ সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দিতে পারেননি; বলতে পারেননি তাঁর কোনো সহযোদ্ধার নামও।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান