রংপুর-সৈয়দপুর-দিনাজপুর সড়কের দশমাইল এলাকা। ১৯৭১ সাল। এপ্রিলের মাঝামাঝি। এখানে অবস্থান নিয়েছেন একদল প্রতিরোধযোদ্ধা। তাঁদের এই দলে আছেন ইপিআর, ছাত্র ও যুবক। ইপিআর সদস্য আবদুল হালিমও আছেন এই দলে। তিনি অ্যান্টি ট্যাংক (সিক্স পাউন্ডার) গান অপারেটর। ওদিকে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে এগিয়ে আসছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি বহর। এই বহরে আছে ট্যাংক, আর্টিলারি গান ও ২৬ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স।
পাকিস্তানি সেনাদের সামরিক শক্তি প্রতিরোধযোদ্ধাদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তার পরও প্রতিরোধযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ চালালেন। শুরু হলো প্রচণ্ড যুদ্ধ। কিন্তু সেদিনের যুদ্ধ ছিল অসম যুদ্ধ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও আর্টিলারির তীব্র গোলার সামনে প্রতিরোধযোদ্ধারা বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে বাধ্য হন। ১৬ এপ্রিল দিনাজপুরের পতন হয়।
দিনাজপুরের পতন হলে আবদুল হালিম আর মূল দলে যোগ দিতে পারেননি। এই দল থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান। সেখান থেকে পরে তিনি নিজ এলাকায় চলে আসেন।
আবদুল হালিম পরে ২ নম্বর সেক্টরের রাজনগর সাব-সেক্টর এলাকায় যুদ্ধ করেন। গণবাহিনীর একটি দলের সঙ্গে তিনি ছিলেন। দলনেতা ছিলেন আবদুর রব চৌধুরী। আর তিনি ছিলেন সহদলনেতা। তাঁরা নোয়াখালী জেলার রায়গঞ্জ, দত্তপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী বা তাদের সহযোগী রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। দত্তপাড়ার যুদ্ধে স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার ননী চেয়ারম্যান তাঁদের হাতে নিহত হন।
আবদুল হালিম ১৯৭১ সালে দিনাজপুর ইপিআর হেডকোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। ২৮ মার্চ বেলা তিনটায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল দিনাজপুর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে আক্রমণ চালায়। এরপর ইপিআর সদস্যরাও পাকিস্তানি সেনাদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান। আবদুল মজিদ ছিলেন অ্যান্টি ট্যাংক গানচালক। তিনি সে সময় পাকিস্তানি অবস্থানে গোলাবর্ষণ করেন। পরে তাঁরা হেডকোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। ইপিআর সদস্যদের প্রথম প্রতিরোধের ফলে পাকিস্তানি সেনারা দিনাজপুর থেকে ৩১ মার্চ পালিয়ে যায়।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান