default-image

তারা উদ্দিন সংসারের দৈন্য ঘোচাতে ১৯৭০ সালে যোগ দেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে। ভেবেছিলেন, চাকরি করে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন। চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। কিছুদিন পরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তিনি অংশ নেন সেই যুদ্ধে। ১৯৭১ সালের মার্চে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল সৈয়দপুর সেনানিবাসে।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর। চারদিকে তখন বিজয়ের হাওয়া। মুক্তিবাহিনীর হাতে প্রতিদিন মুক্ত হচ্ছে দেশের এলাকার পর এলাকা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সিলেটের দিকে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জে অবস্থান নিয়েছে মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি দল। এ রকম একটি দলে আছেন তারা উদ্দিন। আলফা কোম্পানি নামের এ দলের নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন আনোয়ার হোসেন (বীর প্রতীক, পরে মেজর জেনারেল)। তাঁদের অবস্থান পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ গজ দূরে। ভোরে শুরু হলো প্রচণ্ড যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা’ ও ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে গুলি করতে করতে সামনে এগোতে থাকেন। একপর্যায়ে শুরু হলো হাতাহাতি যুদ্ধ। সকালে পাকিস্তানি সেনাদের পালিয়ে যেতে দেখা গেল। মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের পেছন পেছন যেতে থাকলেন। কিন্তু এক জায়গায় গিয়ে হঠাত্ থেমে গেলেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছাতক অংশের এক তেমাথায় ছিল পাকিস্তানি সেনাদের আরেকটি প্রতিরক্ষা অবস্থান। এখানে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাদের কোনো অবস্থাতেই হটানো যাচ্ছিল না। ১৫ ডিসেম্বর সারা দিন সেখানে যুদ্ধ চলল। পাকিস্তানি সেনারা সেখানে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে আবার যুদ্ধ শুরু হলো। সেদিন পাকিস্তানি সেনাদের একটি গোলা এসে পড়ল তারা উদ্দিনের পরিখায়। তিনি শহীদ হলেন। সেদিন পাকিস্তানি সেনাদের গোলার আঘাতে প্রাণ হারান মুক্তিবাহিনীর আরও কয়েকজন সদস্য।

তারা উদ্দিন ও অন্য শহীদ যোদ্ধাদের যুদ্ধক্ষেত্রের পাশেই পীরের টিলায় সমাহিত করা হয়। সিলেটের এই এলাকায় ১৮ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত যুদ্ধ হয়। সেদিন দুপুরের পর পাকিস্তানি সেনাদের ওই অবস্থান মুক্তিযোদ্ধারা দখল করতে সক্ষম হন। যুদ্ধে এখানে থাকা বেশির ভাগ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। বাকি সবাই আত্মসমর্পণ করে।

বিজ্ঞাপন