default-image

এয়ারফিল্ডের কাছাকাছি একটা জলাশয়। সেখানে মাছ ধরছেন কয়েকজন। গ্রামবাসী অনেকে প্রায়ই সেখানে মাছ ধরতে আসে। সেদিনও স্থানীয় দু-তিনজন এসেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন ইয়ামিন চৌধুরীসহ আরও পাঁচজন। তাঁদেরও বেশভূষা ওই ব্যক্তিদের মতো। সবারই হাতে বড়শি।

ইয়ামিন চৌধুরী ও তাঁর পাঁচ সঙ্গী আসলে মাছ ধরছেন না, মাছ ধরার ভান করে ওখানে ঘাপটি মেরে আছেন। এভাবে কেটে গেল দেড়-দুই ঘণ্টা। হঠাত্ তারা একটি বিমানের শব্দ শুনতে পেলেন। ক্রমেই শব্দ বাড়তে লাগল। ভালো করে তাঁরা তাকাতেই দেখতে পেলেন, আকাশে একটি বিমান চক্কর দিচ্ছে। আসলে এ বিমানের জন্যই তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই একটি অতিকায় সি-১৩০ প্লেন সেখানে অবতরণ করল।

বিজ্ঞাপন

বিমানটি থামামাত্র দ্রুত তাঁরা পজিশনে চলে গেলেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে এলএমজি। একটু পর গর্জে উঠল তাঁদের প্রত্যেকের হাতের অস্ত্র। টার্গেট থেকে তাঁদের দূরত্ব মাত্র দেড় থেকে দুই শ গজ। ফলে তাঁদের অস্ত্রের কোনো গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো না। গুলিবিদ্ধ বিমানটির একটি জায়গা থেকে ধোঁয়ার ছোট্ট একটা কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেল। সেখানে পাহারায় থাকা পাকিস্তানি সেনারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন। গোলাগুলির শব্দে সংলগ্ন গ্রামের লোকজনও পালিয়ে যাচ্ছিল। ইয়ামিন চৌধুরী ও তাঁর পাঁচ সহযোদ্ধা তাদের সঙ্গে মিশে চলে গেলেন নিরাপদ দূরত্বে।

এ ঘটনা ১৯৭১ সালের জুন-জুলাইয়ের। ঘটেছিল সিলেট জেলার সালুটিকর বিমানবন্দরে। সেদিন তাঁদের অস্ত্রের গুলিতে পাকিস্তানি ওই বিমানের বেশ ক্ষতি হয়। বিমানচালক বিমানটি নিয়ে তখনই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সেটি বিধ্বস্ত হয় ঢাকায় অবতরণ করতে গিয়ে।

ইয়ামিন চৌধুরী মুক্তিবাহিনীভুক্ত গণবাহিনীর যোদ্ধা ছিলেন। মেঘালয়ের ইকো ওয়ানে প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫ নম্বর সেক্টরের ডাউকি ও ভোলাগঞ্জ সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন। তিনি ছিলেন একটি কোম্পানির কমান্ডার। তিনি ও তাঁর অধীন মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত সাহস ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন। তাঁর কোম্পানি ‘হিট অ্যান্ড রান’ নীতি অনুসরণ করে অ্যামবুুশ, রেইড, ডিমোলিশন, আকস্মিক আক্রমণসহ বিভিন্নমুখী অপারেশন চালায় এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিপর্যস্ত করতে সক্ষম হয়। তিনি কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নেন। এর মধ্যে ছাতক, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জের যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রথম অপারেশন মোল্লারগাঁও সেতু ধ্বংস।

বিজ্ঞাপন