বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসটি দীর্ঘ, কিন্তু এ অঞ্চলের উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসটিও কম দীর্ঘ নয়। এ আন্দোলন চলেছে কৃষক-মজুর থেকে নিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবীদের অংশগ্রহণে এবং নেতৃত্বে, বিচ্ছিন্ন অথবা পরিকল্পিতভাবে, যার প্রকাশ তেভাগা থেকে নিয়ে নানকার বিদ্রোহে, তিতুমীর থেকে নিয়ে স্বদেশি আন্দোলনের যোদ্ধাদের অসংখ্য প্রতিরোধে এবং যুদ্ধে। ঔপনিবেশিক বাস্তবতা যত তীব্র এবং ক্ষমাহীন হয়েছে, উপনিবেশমুক্তির সংগ্রামও তত শক্তিশালী হয়েছে। ১৯৮৭-এর দেশভাগ ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটায়। দেশভাগে বাংলা বিভক্ত হলো, পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হলো গণতান্ত্রিক ভারতের সঙ্গে, আমরা অংশীদার হলাম অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক এবং সমরবাদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের।

এক হাজার মাইল ব্যবধানে থাকা দুই প্রদেশের উদ্ভট এক ভূগোলের রাষ্ট্রটি শুরু থেকেই প্রমাণ করল ঔপনিবেশিক শাসন তিরোহিত হয়নি, বরং এর রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গের পরিচালকেরা ইংরেজ বড়লাট-ছোটলাটদের আদলে তৈরি নয়া ঔপনিবেশিক শাসক। পশ্চিমের প্রদেশটি শুধু পুবের প্রদেশটিকে এর উপনিবেশ বানিয়ে ফেলল না, পশ্চিম প্রদেশের নিম্নবর্গীয় মানুষজন, বালুচ এবং সিন্ধিদেরও ঔপনিবেশিক বিভাজনে ফেলে প্রান্তে ঠেলে দিল। পুবের উপার্জন ছিল বেশি, কিন্তু কামান-বন্দুক আর ক্ষমতা ছিল পশ্চিমের হাতে। ফলে আমরা ঔপনিবেশিক ফুটন্ত কড়াই থেকে পড়লাম পাকিস্তানি চুলায়। এই চুলাগত অবস্থানটি আবিষ্কার করতে আমাদের সময় লাগেনি, যেহেতু ঔপনিবেশক তাত্ত্বিকেরা যেমন বলেন, নিষ্পেষণের মাত্রা যত বাড়বে, প্রতিরোধও তত তীব্র হবে। সেই ১৯৪৮ সালে ঢাকায় যখন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হুংকার দিলেন, উর্দুই হবে উদ্ভট পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা, আমরা তীব্র প্রতিবাদে জানিয়ে দিলাম তার এই স্বপ্ন উদ্ভটের অঞ্চল ছেড়ে বাস্তবে রূপ নেবে না।

পাকিস্তানিদের ঔপনিবেশিক কৌশলও ছিল ইংজেরদের মতো, তবে ইংরেজরা যা করেছে অনেক সময় নিয়ে, পাকিস্তানিরা করতে চেয়েছে প্রচণ্ড তাড়াহুড়ায়, এক থেকে দশ বছরে। শুরুতেই তারা শাসনব্যবস্থাকে নিজেদের মতো করে বিন্যাস করেছে, গণতন্ত্রকে দূরে রেখেছে, সমর নেতৃত্ব তৈরি করেছে, তারপর এক উদ্ভট গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে, যা তাদের কায়েমি স্বার্থকেই রক্ষা করেছে। তারা আমাদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও চেষ্টা করেছে। ইংরেজদের মতো পাকিস্তানিরাও বাঙালিদের মধ্যে একটি অনুগত শ্রেণি তৈরি করেছে, তাদের মনোজগৎ, সংস্কৃতিচিন্তা এবং ইতিহাসচিন্তাকে সম্পূর্ণ দখলে এনে। এরা সক্রিয় ছিল পাকিস্তানি আমলের ২৪ বছর, একাত্তরে এবং এর পরেও। এ নিয়ে অবশ্য আফসোস করে লাভ নেই। উপনিবেশতত্ত্ব যেমন বলে, ঔপনিবেশিক শাসনে হাইব্রিড (বা মিশেল) চরিত্রের ও চিন্তার পাশাপাশি অনুগত শ্রেণির অভ্যুদয়ও অনেকটাই স্বতঃসিদ্ধ।

পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে যেসব রাজনীতিবিদ পূর্ব বাংলায়, অর্থাৎ বাংলাদেশে সংগ্রাম শুরু করেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই, তাঁদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সবচেয়ে পূর্বাপর চিন্তা ও সক্রিয়তার; সবচেয়ে বলিষ্ঠ এবং বিচক্ষণ। আমাদের উপনিবেশমুক্তির সংগ্রামে যেসব রাজনীতিবিদ শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব এবং প্রত্যেকের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাব। একই সঙ্গে এ বিষয়ও তুলে ধরব যে বঙ্গবন্ধু তাঁর অসামান্য সাংগঠনিক ক্ষমতা, বাঙালির অধিকার নিয়ে তাঁর আপসহীন সংগ্রাম, প্রতিপক্ষের শক্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শন অথবা জেলজুলুমকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার তাঁর শক্তি ও সাহসের কারণে উনিশ শতকের ষাটের দশকের শুরু থেকেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন। এই অবস্থান তাঁকে অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছিল।

রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধুর একটি গভীর উপলব্ধি ছিল এই যে পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালির অবস্থান উপনিবেশের প্রজার মতো। ফলে তাঁর অধিকারের সংগ্রামটি আত্মনিয়ন্ত্রণের এবং স্বশাসনের সংগ্রামে রূপান্তরিত না করলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বাঙালি প্রান্তিক অবস্থানেই থেকে যাবে। তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা পড়লে বোঝা যায়, তিনি একদিকে অধিকার (গণতান্ত্রিক, নাগরিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ইত্যাদি) আদায় ও সুরক্ষার জন্য লড়ছিলেন, কিন্তু অন্যদিকে ঔপনিবেশিক অবস্থানের বাইরে বেরোনোর জন্য নানা উপায় খুঁজছিলেন। তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে প্রতিরোধের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, অসাম্প্রদায়িক বাঙালিয়ানা এবং জাতিগত আত্মপরিচয়কে একটি সুরক্ষাবর্ম হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি জানতেন, বাঙালির অর্থনৈতিক ভিত্তিটি মজবুত হতে হবে, কৃষি ও সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ উৎপাদনশীলতা ও সমাবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এসব ভাবনার একটি তাত্ত্বিক রূপ এবং সে অনুযায়ী একটি কর্মপরিকল্পনা যে প্রয়োজন, তা তিনি উনিশ শতকের ষাটের দশকের শুরু থেকেই অনুভব করছিলেন। ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যে ছয় দফার দাবি জাতির সামনে তুলে ধরলেন, তা এই চিন্তাভাবনার একটি ফলিত রূপ। ছয় দফা, প্রকৃত অর্থে, ছিল বাঙালির উপনিবেশমুক্তির সনদ।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছয় দফার দাবিতে মাঠে ছিলেন (অর্থাৎ কারাগারের বাইরে যে কয়েকটা দিন তিনি ছিলেন, তার প্রতিটা দিন) এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বশাসনের অধিকারের গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনটি তিনি চালিয়ে গেছেন। কিন্তু ১৯৭১-এর ১ মার্চ তিনি বুঝলেন, গণতান্ত্রিক পথে সমাধান আসবে না, সমাধান আসবে একমাত্র উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তিতে। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যে বক্তব্য দেন, তা প্রত্যক্ষভাবে উপনিবেশমুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে।

১৯৬৬ সালে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাজনীতি সম্পর্কে আমার সম্যক একটি ধারণা জন্মাতে শুরু করে এবং আমার বন্ধুদের মতো আমিও বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করতে শুরু করি। ১৯৭০-এর নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের অনেকের ধারণা ছিল, গণতান্ত্রিক পথে আমাদের অধিকার আদায় হয়তো সম্ভব। কিন্তু ১৯৭০–এর নভেম্বরে ভয়ংকর ও প্রাণবিনাশী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লাখ লাখ বাঙালির মৃত্যুর পর পাকিস্তানিদের উদাসীনতা আমাদের প্রথম বুঝিয়ে দিল, ওরা এবং আমরা আলাদা দুই জাতি, নির্বাচন–পরবর্তী পাকিস্তানি কর্মকাণ্ড সেই ধারণাকে সংহত করল। ১ মার্চের দুপুরের পর ঢাকার পূর্বাণী হোটেলে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনতে গিয়ে মনে হলো ‘এখনই অথবা কখনোই না’—নাউ অর নেভার। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ হলে আমরা নিশ্চিন্ত হলাম, এবার আমাদের সংগ্রাম সত্যিকারভাবে শুরু হলো। ‘এখনই’ জয়যুক্ত হলো। তারপর ৭ মার্চ অপরাহ্নে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শুনতে শুনতে মনে হলো উপনিবেশমুক্তির মন্ত্রটিই তিনি যেন দিচ্ছেন।

কী ছিল সেই ভাষণে, কীভাবে ভাষণটি হয়ে দাঁড়াল উপনিবেশমুক্তির মন্ত্র? আমার বিবেচনায়, এই ভাষণের চারটি বিষয় নিয়ে ভাবলে প্রশ্ন দুটির উত্তর পাওয়া যায়। ভাষণটিতে প্রথমত, ঔপনিবেশিক শাসনের রূপ এবং বাঙালির অধিকারহীনতার ইতিহাসটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত যুক্তিযুক্তভাবে তুলে ধরা; দ্বিতীয়ত, আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক শাসনের আগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্পেষণের বিস্তার সম্পর্কে জানানো, তৃতীয়ত, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম এবং ঔপনিবেশিক প্রতিক্রিয়ার—যার পরিণামে আমাদের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে—তার বর্ণনা; এবং চতুর্থত, উপনিবেশমুক্তির চূড়ান্ত সংগ্রামের ডাক। প্রথম দুটি বিষয়ে রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষ এবং পরদিন বেতারযন্ত্রের সামনে বসা লাখ লাখ মানুষ শুধু অবহিত ছিলেন না, ভুক্তভোগীও ছিলেন। তাঁরা উপনিবেশের শোষণে সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত হতে দেখেছেন। তৃতীয় বিষয়টিও ছিল অসংখ্য বাঙালির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের। যাঁরা আমাদের স্বাধিকার ও স্বশাসনের দীর্ঘ আন্দোলনের ভরকেন্দ্রগুলোতে—শহর, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজপথ—ছিলেন না, যেমন বাংলার কৃষক ও গ্রামীণ জনপদের মানুষ, তাঁদেরও পরোক্ষ এবং আবেগী অংশগ্রহণ ছিল, যার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটেছে একাত্তরে। গ্রাম যেমন সবার জন্য তার দরজাগুলো খুলে দিয়েছিল।

তবে চতুর্থ বিষয়টি নিয়েই ছিল সবার কৌতূহল, উৎসাহ, প্রত্যাশা। আমি যখন ৭ মার্চের জনসভায় যোগ দিই, বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসার অনেক আগে, শুনেছি অনেক মানুষের এ রকম মন্তব্য, বঙ্গবন্ধু আজ স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। তিনি তা করেছেন, তবে সরাসরি একপক্ষীয়ভাবে নয়, বরং কৌশলে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। বিষয়টি দেশের মানুষ বুঝেছেন, বিদেশিরাও বুঝেছেন। তবে যে বিষয় এখনো অনেকটা অনালোচিত রয়ে গেছে, তা বঙ্গবন্ধুর উপনিবেশমুক্তির গূঢ়ার্থসংবলিত আহ্বান। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি পাকিস্তানি উপনিবেশ থেকে মুক্তির যে সম্ভাবনা তুলে ধরলেন, তাতে শুধু উপনিবেশের প্রত্যক্ষ শাসন থেকে মুক্তি নয়, বরং উপনিবেশের অন্যান্য শাসন থেকে মুক্তির আহ্বানও বঙ্গবন্ধু জানালেন। তিনি একটি ভবিষ্যতের ছবি আঁকলেন, যেখানে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজব্যবস্থায় যে উপনিবেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল—যার প্রভাবে এসব অঞ্চলে মৌলিক অনেক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল—তা গুঁড়িয়ে দিয়ে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, মেধা, সক্ষমতা, প্রয়োজন এবং আদর্শ চিন্তার সমন্বয়ে নতুন বিন্যাস সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ঔপনিবেশিক শাসনের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব যেখানে পড়ে—শিক্ষা ও সংস্কৃতি—সেখানেও হবে নতুন দর্শনের প্রতিফলন। সে রকম প্রত্যাশাই ছিল ওই ঘোষণায়। বঙ্গবন্ধু জানতেন, বস্তুর ও চাক্ষুষ বাস্তবের অঞ্চলে উপনিবেশের খুঁটি গাড়া স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া যতটা সহজ, মনের উপনিবেশ কাটিয়ে ওঠা ততটা নয়। তাই তিনি ভাষণজুড়ে শ্রোতার মনকে জাগাতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করতে বলেছেন, প্রশ্নের উত্তর খুজে নিতে বলেছেন। প্রতিদিনের সহজ কিন্তু বলিষ্ঠ ভাষায় বাঙালিয়ানার শক্তির জায়গাটা তিনি আলোয় নিয়ে এলেন। আমাদের জানালেন ঘরে ঘরে যে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে, তা হবে একই সঙ্গে উপনিবেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এবং জাগ্রত ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত মনের প্রতিরোধের।

৭ মার্চ বিকেলে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে, আমার মনে হয়েছিল, এখন উনিবেশমুক্তির সংগ্রাম ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টি বাংলা না-জানা এক বিদেশি সাংবাদিক বুঝেছিলেন। তিনি হোটেলে ফিরে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিলেন, ‘মানুষটা যে সাহস দেখালেন, এটি ধরে রেখো। এখন এই সাহসের প্রতিটি ফোঁটা তোমাদের প্রয়োজন হবে।’

৭ মার্চের ভাষণ ছিল উপনিবেশমুক্তির মন্ত্র, দিকনির্দেশনা এবং কর্মপরিকল্পনা। এই ভাষণ আমাদের নিয়ে গিয়েছিল ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর: লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে উপনিবেশমুক্তি উদ্‌যাপনের মুহূর্তে।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক; সাবেক অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।