default-image

গ্রামের নাম খোশালপুর। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এই গ্রামটিতে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালায়। তার একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমার মা একদিন বিকেলে চায়ের টেবিলে বসে আমাকে বলেছিলেন। তখন আমার মা শাহীনা আলমের বয়স ছিল ছয় কি সাত বছর। তখনকার ঘটনা তাঁর মনে পড়ে না। কিন্তু যে ঘটনাটি তিনি আমাকে বলেছিলেন সেটি তিনি তাঁর বড় বোনের কাছে শুনেছিলেন। ঘটনাটি ছিল এ রকম—

বিজ্ঞাপন

আমাদের গ্রামের ঠিক পাশের গ্রামটিতে পাকিস্তানি বাহিনী একদিন হঠাত্ করেই আক্রমণ চালায়। সেই গ্রামে একজন কৃষক ও তাঁর পরিবার ছিল। কৃষকটির নাম ছিল বেলাল। তিনি তাঁর পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলছে, খাবার জোগাড় করা অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু তার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেলাল তাঁর পরিবারের জন্য খাবার আনতে বাজারে গিয়েছিলেন। ঘরে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছোট দুটি ফুটফুটে ছেলেমেয়ে। মেয়েটির বয়স ছিল পাঁচ থেকে ছয় বছর এবং ছেলেটির বয়স মাত্র সাত মাস। সেদিন বাজারে মিলিটারি নেমেছে। কিন্তু বেলাল তা জানতেন না। বেলাল বাজারে গিয়েই মিলিটারিদের গুলিতে প্রাণ হারান। মিলিটারিরা বাজারে তাদের আক্রমণের পালা শেষ করে আসে গ্রামের ভেতরে আক্রমণ চালাতে। তখন বেলালের স্ত্রী তাঁর ছেলেটিকে উঠানে বসিয়ে গোসল করাচ্ছিলেন। ঠিক ওই সময় মিলিটারিরা এসে বেলালের বাড়িতে ঢুকে পড়ে।

মিলিটারিদের মধ্যে একজন এগিয়ে এসে বেলালের স্ত্রীর হাত থেকে ছেলেটিকে ছিনিয়ে নিয়ে নৃশংসভাবে মাটিতে ফেলে পাড়া দিয়ে মেরে ফেলে। বেলালের স্ত্রী ছেলের মৃত্যু দেখে শোকে আধপাগল হয়ে যান। তিনি দিশেহারা হয়ে তাঁর মেয়েটিকে বাঁচাতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মিলিটারিরা তাঁর মেয়েটিকেও গুলি করে মেরে ফেলে এবং বেলালের স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। অতঃপর যখন মিলিটারিরা চলে গেল তখন বেলালের স্ত্রী আত্মহত্যা করেন।

 জান্নাতুল জাকিয়া চৈতী

স্কুল: বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়

শ্রেণী: ৯ম, শাখা: ক

বিজ্ঞাপন