default-image

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমাদের বেতার যন্ত্রচালক করপোরাল বি পি সিং ১০টা ৪৫ মিনিটে আমার কাছে একটা লগ নিয়ে এলেন। তাতে ছিল ঢাকার গভর্নর হাউস ও পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলাপচারিতা। আমি ভেবেছিলাম, এটা কোনো নৈমিত্তিক কথাবার্তা। করপোরাল সিং জানালেন, আলাপটা গোপনীয়। সেটা শুনতে ও রেকর্ড করতে তাঁকে সংকেত ভাঙার পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়েছে। এ কথা শুনে আমি বেশ উৎসুক হয়ে উঠলাম।

বিজ্ঞাপন

লগবুক পরীক্ষা করে আমি আলাপচারিতার অডিও রেকর্ডটি আনতে বললাম। লক্ষ করে দেখলাম, যে তরঙ্গে ওই আলাপটি ধরা হয়েছে, তা সাধারণত কৌশলগত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। আলাপে গভর্নর হাউসে সে দিন বিকেলে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়। গভর্নর নিজে তাতে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত থাকবেন, তাঁদের নাম শুনে আমার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে থাকবেন জেনারেল টিক্কা খান, সামরিক আইন প্রশাসক, এওসি, পিএএফ, ঢাকা (বিমানবাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান)। রেকর্ডটি আমি বারবার শুনলাম। তারপর যন্ত্রচালককে সেটা টাইপ করে দিতে বললাম।

দুর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের ওসি স্কোয়াড্রন লিডার কাপুর সে দিন ছিলেন না। তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁকে লখনৌ যেতে হয়েছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের তখন বেশ সংকটাপন্ন অবস্থা। যে কথাগুলো আমি শুনেছি, তা যে গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে পেরেছিলাম। সে দিনই ১২টা ৫০ মিনিটে এডিএসআইকে (বিমান) নির্ধারিত লাইনে ফোন করে বিষয়টি আমি জানালাম। এক ঘণ্টা পর, উইং কমান্ডার ব্যানার্জি আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলেন, এসব আলাপচারিতার কোনো অডিও রেকর্ড আছে কি না। আমার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বললেন, আমি নিজেই যেন সেটা পরিদপ্তরে নিয়ে যাই।

বাকি ঘটনা তো ইতিহাস।

অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম এল বালা: ভারতের তৎকালীন ওয়্যারলেস এক্সপেরিমেন্টাল ইউনিটের সদস্য

বিজ্ঞাপন