default-image

আমার চাচা মো. আতাউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। ১৯৭১ সালের কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘গ্রামের কিছু রাজাকার হানাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। আমার চোখের সামনেই একদিন এক তরুণকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এখানে হানাদাররা বিভিন্ন যুদ্ধে হেরেছে এবং পালিয়ে গেছে। তেমনি একদিনের ঘটনা: আমি এবং আরও একজন বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম।

বিজ্ঞাপন

হঠাত্ আমাদের সামনে একদল পাকিস্তানি মিলিটারি পড়ে। তারা আমাদের ধরে ফেলে এবং জানতে চায়, মুক্তিযোদ্ধারা কোথায়? তখন আমি ফন্দি করে বলি, নদীর ওপারে। হানাদাররা সাঁতার জানত না। তাই তারা বিকল্প পথে ঘুরে যেতে লাগল। তারা একসময় গুলির বাক্স, পানির বোতল আমাদের কাঁধে তুলে দিল। পথিমধ্যে এক রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের আস্তানার খবর বলে দিল। এতে তারা খেপে গেল। আমাদের মারতে উদ্যত হলো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা হানাদারদের আসার খবর জানতে পেরে আগে থেকেই ওত পেতে বসে ছিলেন ঝোপের মধ্যে। ঝোপ থেকে আচমকা আক্রমণ করে বসলেন তারা। তখন দিশেহারা হয়ে পড়ল পাকিস্তানি সেনারা। পাকিস্তানি সেনাদের দুজন মারা পড়ল, একজন আহত হলো। অন্যরা যেদিকে পারে পালিয়ে গেল।

‘আমরা যেন প্রাণ ফিরে পেলাম। আমাদের একজনকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে তাকে শেয়ালের গর্ত থেকে বের করে আনি। আমাদের কাছে হানাদারদের গুলির বাক্স ও পানির বোতল তখনো ছিল। তাই বিলম্ব না করে ওগুলো নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে হাজির হলাম। ক্যাম্পের প্রধান আমাদের আরও সাহসী এবং চতুর হতে বলেন। আমরা তাঁর কাছে বিভিন্ন কৌশল জেনে চলে আসি। এর দুই দিন পরই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।’

 ইয়াছিন আরাফাত

হাজী কামর আলী উচ্চবিদ্যালয়

শ্রেণী: নবম, রোল-১৫

বিজ্ঞাপন