default-image

যুদ্ধ-উত্তর ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ১৯৭৩ সালের আইনের তৃতীয় অনুচ্ছেদে অপরাধের আইনগত সংজ্ঞার মধ্যে তিনটি বুনিয়াদি অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ‘সমাধান’ তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: ‘আন্তর্জাতিক সনদ, সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে আগ্রাসনমূলক যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।’

বিজ্ঞাপন

সে সময় এই আইন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক আওতার মধ্যে ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যেকোনো অপরাধের’ বিচারের দায়িত্বও ন্যস্ত করেছে, যা অপরাধ সংঘটনের সময়ই প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে বিচারযোগ্য। এখন পর্যন্ত এই আবশ্যকতার বাস্তব গুরুত্ব রয়েছে। কেননা, রোম সনদের ১১তম অনুচ্ছেদ অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০০২ সালের ১ জুলাইয়ের আগে সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে অপারগ। সুতরাং বাংলাদেশ রোম সনদে স্বাক্ষর এবং অনুস্বাক্ষর করলেও, এই পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরাট কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই।

বাংলাদেশের জাতীয় আদালত ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইন এবং ২০০৯ সালের সংশোধনীর বলেই সে সময় পর্যন্ত সংঘটিত প্রাসঙ্গিক অপরাধগুলোর বিচার করতে পারেন। সুতরাং রোমের সনদের ব্যাখ্যা করা এবং রোমের আদালত ও এর অঙ্গগুলোর আওতায় বিচারযোগ্য অপরাধীদের ব্যাপারে আইনের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফৌজদারি আদালতের অবস্থান গুরুত্ববহ হতে পারে।

এই বিবেচনায় আমরা কেবল আশা করতে পারি, বাংলাদেশ ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচার করবে এবং আইনের ব্যাখ্যা করার বেলায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড অর্জনের বিবেচনা মাথায় রেখে নিষ্ঠাবান হবে।

শুভ কামনা।

অটো ট্রিফটেরার: অধ্যাপক, অস্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ও প্রক্রিয়া, সালজবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রিয়া।

বিজ্ঞাপন