default-image

’৭১-এর মার্চের শেষ দিকে বা এপ্রিলের প্রথম দিকে ডা. আশিকুর রহমান, আফজাল হোসেন, আবদুস সামাদের নেতৃত্বে খুলনার ইসলামাবাদ কমিউনিটি সেন্টারের মাঠে বাঁশের লাঠি আর কাঠের বন্দুক নিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। পরে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যেতে মনস্থির করি। এ জন্য বটিয়াঘাটা দিয়ে একপর্যায়ে চুকনগরে পৌঁছাই। সেখানে অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভারতগামী ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) সদস্যদের সঙ্গে মিশে যাই।

বিজ্ঞাপন
default-image

এপ্রিলের শেষ দিকে উকশো বর্ডার দিয়ে ভারতে হিঙ্গেলগঞ্জ মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে যাই। ওখান থেকে নাম লিখিয়ে আমাদের বিহারের চাকুলিয়ায় এক মাস প্রশিক্ষণের জন্য পাঠায়। ফিরে আসি সম্ভবত জুন মাসে। কুলিয়ার যুদ্ধ আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। সেখানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে টানা ১৪ দিন যুদ্ধ হয়। খালের একপারে আমরা, ওপারে পাকিস্তানি আর্মি। ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা, ক্যাপ্টেন শাহজাহান, ক্যাপ্টেন সেলিমের নেতৃত্বে আমরা তিন দিক থেকে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে শত্রুরা পিছু হটে। এখানেও একটি ব্রিজ উড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাদের আসতে বাধা দেওয়া হয়। এই যুদ্ধে শহীদ হন ইউনুস নামে এক মুক্তিযোদ্ধা। তাই এখানকার নাম রাখা হয় ইউনুসনগর। পরে সাতক্ষীরা হয়ে সলুয়া ও মেজর জলিলের নির্দেশে শিরোমণি যুদ্ধের জন্য যাই।

আজকের অনুভূতি

আমরা কষ্টে আছি

দেশ স্বাধীন হলে সাধারণ মানুষ দুবেলা দুমুঠো খেয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, সব শ্রেণীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, শোষণ-বঞ্চনার অবসান হবে। কিন্তু স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সামরিক শাসনের মাধ্যমে এই দেশকে পুনরায় পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র লুপ্ত করে লুটতরাজের রাজনীতি কায়েম করা হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শত্রুদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়েছে। তারা আজ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। লুটেরারা আজ দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ আমরা যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি, আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। আমরা আজও দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছি। পয়সার অভাবে ছেলেমেয়েকে ঠিকমতো পড়ালেখা শেখাতে পারিনি। আমরা কষ্টে আছি। আর যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা জনগণের কথা না ভেবে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। স্বাধীনতার আজ ৪০ বছর পার হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে।

সাক্ষাত্কার: শেখ আবু হাসান, খুলনা।

বিজ্ঞাপন