default-image

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের জন্ম ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে হলে কী হবে, তাঁর নামে স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার হচ্ছে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে। কেন? কারণ, হাজীপুর গ্রামটাই আর নেই, অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন মৌটুপী গ্রামেই থাকেন। সেখানেই জমি কিনে একটা বাড়ি করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

মোস্তফা কামালের বাবা হাবিবুর রহমানও ছিলেন সেনাসদস্য, হাবিলদার। কুমিল্লা সেনানিবাসে বাবার সরকারি আবাসে কাটে মোস্তফা কামালের ছেলেবেলা। স্কুলে পড়া অবস্থায় ’৬৭ সালের শেষ দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাত্ নিরুদ্দেশ হয়ে যান তিনি। ’৬৮ সালে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরি চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল পাওয়া যায় তাঁর হদিস। চাকরির দুই বছর পার হতে না হতে শুরু হয় স্বাধিকার আন্দোলন। অচিরেই পাকিস্তান-পক্ষ ত্যাগ করে তাঁর রেজিমেন্ট। ২৮ এপ্রিল আখাউড়ার গঙ্গাসাগরের উত্তরে পাকবাহিনীর সঙ্গে অসম যুদ্ধে শত্রুর গুলিতে শহীদ হন মোস্তফা কামাল।

সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গন থেকে তাঁর মরদেহ আখাউড়া বয়ে এনে সমাহিত করেন। সরকার পরে সেখানে স্থাপন করে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্স।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০০৬ সালে পরিবারের সহায়তায় বীরশ্রেষ্ঠ পুত্রের শেষ আশ্রয়স্থলটি দেখে এসেছেন মা মালেকা বেগম। বারবার ছুটে যেতে মন চায়, কিন্তু শরীর অসহায়।

‘ছেলে দেশের জন্য শহীদ হইল। দেশের মানুষের লগে আমারও গর্ব হয়। আমি একজন বড় শহীদের, বীরশ্রেষ্ঠর মা। আমার পাওনের আর কিছু নাই। তয় আমার শহীদ পোলার সংসারটায় ভাগ্য লাগে নাই। বেবাকই দুনিয়া ছাড়ল।’ মোস্তফা কামালের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে কেউই বেঁচে নেই, মা ছাড়া থাকার মধ্যে আছে শুধু একটা মাত্র ভাই মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকার কমলাপুরে নবনির্মিত মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অস্থায়ী মাঠকর্মী পদে চাকরি করেন। গত দুই মাস তাঁর বেতন হয় না। প্রয়াত বাবা হাবিবুর রহমানের পেনশনের মাসিক ৯০০ টাকা আর বড় ভাই বীরশ্রেষ্ঠর মাসিক ভাতা আড়াই হাজার টাকা আট-নয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের চিকিত্সা-পথ্য জোগানোর পর সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। তাই মোস্তাফিজের চাকরিটা স্থায়ী করার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সবাই।

মোস্তফা কামালের ভাতিজা সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের পরিবারের অবস্থা বিবেচনা করে বাবার চাকরিটা স্থায়ী করে দেয় বা নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লাইব্রেরি ও জাদুঘরে একটা স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের পরিবারটি বাঁচে।’

বীরশ্রেষ্ঠর নামে সদ্য প্রতিষ্ঠিত কলেজ প্রাঙ্গণের এক কোণে ভোলা জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লাইব্রেরি ও জাদুঘর নির্মাণের কাজ চলছে। জেলা পরিষদ প্রায় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্মাণ করছে এই কমপ্লেক্স। গত ২২ নভেম্বর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন