default-image

স্কাইমুন চায়নিজ রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি মাসুদ হোসাইন মিয়া আমার দাদা। তাঁর কাছ থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা শুনেছি। তিনি বলেছেন, ‘২৫ মার্চ রাতে বাবা বাসায় আসেন। এসে বলেন, দেশের অবস্থা খুবই খারাপ। পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছে। তারা ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে জায়গায় জায়গায় মোর্চা গঠন করেছে এবং যেকোনো সময় এ দেশের মানুষের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। কাজী দেওয়ান বোর্ড অফিসে আমাদের বাসা। আমাদের বাসার পাশে ছাত্রাবাস ও ইউনিভার্সিটি। মধ্যরাতে আমরা অনেক গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। গোলাগুলির আওয়াজে আমরা সবাই আতঙ্কিত ছিলাম।

বিজ্ঞাপন

সারা রাত আমরা জেগে ছিলাম। কী হয়েছে দেখার জন্য পরদিন রাস্তায় বের হলাম এবং হাঁটতে হাঁটতে ইকবাল হল, বর্তমানে সলিমুল্লাহ হলের দিকে চললাম। তখন খুব নিরিবিলি রাস্তাঘাট। তারপর হলের ভেতরে ঢুকে দেখি নাট্যশালাটি ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্যানটিনের ভেতরে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকজনের লাশ পড়ে আছে। তাদের মধ্যে দুজন মহিলা ও দুটি শিশু ছিল। সেখান থেকে বের হয়ে পুকুরপাড় দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি, ছাত্রদের লাশ একসঙ্গে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে এবং এখান থেকে রক্তের দুর্গন্ধ বের হয়ে আসছে। তারপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে একটি ছাত্রাবাসে যাই। আমরা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দেখি, সিঁড়িতে ছাত্রদের লাশ টেনে নিয়ে যাওয়ার ফলে রক্ত জমাট হয়ে পড়ে আছে। তারপর আমরা আস্তে আস্তে প্রথম তলায় উঠে দেখলাম ছাত্রাবাসের কক্ষগুলোর দরজা ভাঙা। ছাত্রদের লাশগুলো যখন ভাঙা কাচের গ্লাসের দরজা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনেছে, তাতে চামড়া ও মাংস লেগে আছে।

তারপর যখন ওপরতলায় যাই, দেখতে পেলাম আরেক দৃশ্য। বেশ কিছু লোক নিজের ধান্ধায় মেতে আছে। টাকা-পয়সা, কাপড়-জামা, জুতা ইত্যাদি লুট করে নিচ্ছে। আমরা ধাপে ধাপে সর্বশেষ তলার ছাদে উঠে দেখতে পাই, এক বৃদ্ধ দুটি বাচ্চা নিয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন সেই দৃশ্যগুলোর ছবি তুলছিলেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা।

মো. জলিল মিয়া

ইউসেফ সেগুনবাগিচা স্কুল

শ্রেণী-অষ্টম, রোল-৪, ঢাকা

বিজ্ঞাপন