default-image

বাবা মোহাম্মদ শাহ আলমের কাছে শুনেছি সেই একাত্তরের কথা। রমজান মাসে হঠাত্ একদল মিলিটারি জিপ করে এসে বাবা ও আরও কয়েকজনকে ধরে জিপে ভরে ফেলল। বাবা কিছু বোঝার আগেই গাড়ি ছেড়ে দিল। থামল একটা মস্ত বড় বাড়ির সামনে। বাবা দেখলেন সেই বাড়ির পেছনে অনেক লাশ পড়ে রয়েছে। সেগুলোর অনেককেই চিনতেন বাবা। তাঁর অনেক চেনা বন্ধুও ছিলেন। বাড়ির একটা রুমে রাখা হতো নির্যাতিত মহিলাদের। তাঁদের অনেককে দেখা যায় গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে মারা গেছেন। আবার অনেকে আছেন পাগলের মতো। বাড়ির আরেকটি রুমে মিলিটারিদের অস্ত্র রাখা হতো। আরেকটা রুমে মিলিটারিদের থাকা ও বিশ্রামের জায়গা। বাবাকে ওদের একজন বলল, ‘তোর নাম কী?’ তারা বাংলায় কথা বলছিল। বাবা বললেন, ‘মোহাম্মদ শাহ আলম।’ তাদের আরেকজন জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কী আছো?’ বাবা বললেন, ‘আমি মুসলমান আছি।’ আরেকজন বলল, ‘তাহলে পাঁচ কালেমা পড়ো তো।’ বাবা তখন ছোট, পাঁচ কালেমা ভালো করে পড়তে পারতেন না।

বিজ্ঞাপন

তাই কিছু ভুল হয়। তারা বাবাকে তাদের রাইফেল দিয়ে মারতে লাগল। সেই একাত্তরের মিলিটারিদের মারের দাগগুলো এখনো বাবার পিঠে আছে। তারপর বাবাকে তারা অনেক দিন পর্যন্ত খেতে দেয়নি। কয়েক দিন পর তারা বাবাকে ছেড়ে দিল।

আরেক দিন বাবা ও তাঁর চাচারা খালে মাছ ধরতে গেছেন। বাবা ও তাঁর ছোট চাচা খালে মাছ ধরতে নামলেন। আর বড় চাচা ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন। মিলিটারিরা ছোট চাচাকে ধরে নিয়ে যায়। বাবা ও তাঁর বড় চাচা দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বাবা তাঁর দাদুর কাছে সব কথা খুলে বললে দাদু বেহুঁশ হয়ে পড়েন। বাবার চাচাকে তারা অনেক কষ্ট দেয়। অনেক কাজ করিয়ে আবার পাঠিয়ে দেয়। এক মাস পরই স্বাধীন হয় দেশ।

দেশে ফিরে এল শরণার্থীরা, মুক্তিযোদ্ধারা। আমাদের মুখের ভাষা ফিরে এল, কিন্তু এল না হারানো মানুষগুলো। সেই একাত্তরের রক্তমাখা দিনগুলো কি কেউ ভুলে যেতে পারে?

শাহিনূর কলি শাপলা

শাহপুর আফসার উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়

শ্রেণী: অষ্টম, শাখা: খ, রোল: ৫

বিজ্ঞাপন