default-image

বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য এ দেশের বীর বাঙালিরা পাকিস্তানিদের সঙ্গে যে যুদ্ধের সম্মুখীন হয় তা আমি নিজ চোখে দেখিনি। কিন্তু যুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া অনেক ছোট-বড় ঘটনা ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। তেমনি ছোট কিছু ঘটনা আমি আমার দাদি ছায়দা বিবির কাছ থেকে শুনেছি। সেটি ছিল ১৯৭১ সালের মে মাসের কথা। মে মাসের কোনো একদিন দাদি তাঁর দুই ছেলেকে বারইপাড়া নামে এক গ্রামে রাখার জন্য যাচ্ছিলেন। একটু পেছনে ছিলেন দাদিদের গ্রামের এক লোক। যাঁর নাম ছিল আবদুল। কিছু দূর যেতেই পেছনে চিত্কার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেলেন দাদিরা। তাই তাঁরা একটু পেছনে এসে আড়ালে লুকিয়ে দেখলেন, আবদুল নামের ওই লোককে পাকিস্তানিরা ধরে ফেলেছে এবং তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু করে দিয়েছে। সেই জায়গার নাম ছিল চিন্তামন এবং সেখানে অনেক কূপ ছিল। দাদিরা দেখলেন আবদুল নামের ওই লোকের ওপর কিছুক্ষণ বর্বর নির্যাতন করে পরে সেখানকার একটি কূপের মধ্যে তারা আগে কাঁটা ফেলে, তারপর মৃতপ্রায় আবদুলকে ধাক্কা দিয়ে কাঁটার ওপর ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বিজ্ঞাপন

দাদিরা সেদিন আরও একটি ছোট ঘটনা দেখেছিলেন। পাকিস্তানিরা সেখানে আরেক হিন্দু বৃদ্ধ লোককে ধরেছিল। হিন্দুদের নাকি আগে হত্যা করত। তাই ওই বৃদ্ধ লোককে প্রাণের ভয়ে বাধ্য হয়ে বলতে হয়েছিল যে তিনি মুসলমান এবং তাঁকে সেখানে টুপি পরতে হয়েছিল। আর লোকটি খুব বৃদ্ধ হওয়ায় তাঁকে পাকিস্তানিরা প্রাণে হত্যা করেনি। তাঁকে শুধু কিল-ঘুষি দিয়ে জর্জরিত করে সেখানে ফেলে রেখে চলে যায়। কিন্তু অত্যাচারের ফলে সেই বৃদ্ধও বেশি দিন বাঁচেননি।

রিক্তা পারভীন

সিদ্দিশী উচ্চবিদ্যালয়

শ্রেণী: ৯ম, রোড: ০৬, বিভাগ: ক