default-image

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নয় মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর বাহিনী যৌথভাবে বিস্তৃত পরিসরে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত করেছিল। ১৯৭৩ সালে এই বর্বরতার বিচারের জন্য প্রণীত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন। একাত্তরে সংঘটিত অপরাধের ধরন ও ব্যাপ্তি এতটাই আলাদা ও বিশাল ছিল যে তা বিচারের জন্য সাধারণ ফৌজদারি আইন অক্ষম। এ জন্যই বিশ্বমানবের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালস আইনের ৩(২) ধারায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অপরাধগুলোর যেভাবে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে, সে অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে সংজ্ঞায়ন করা আছে। বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যদি হত্যা, ধ্বংস, উচ্ছেদ, দেশান্তরে বাধ্য করা, কয়েদ রাখা, অপহরণ, আটক রাখা, নির্যাতন, ধর্ষণ অথবা অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়, তবে সেগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একাত্তরের আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের জন্য দেশে যে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, তাতে এখন নয়টি মামলা বিচারাধীন। ট্রাইব্যুনাল-১-এ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম, দলটির বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলাগুলোর বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন রয়েছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা, বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম, জামায়াতের সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মামলা।

বিজ্ঞাপন

জেনোসাইড

বাংলায় গণহত্যা বলা হলেও জেনোসাইড বলতে শুধু বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করা বোঝায় না। একটি নির্দিষ্ট জাতিগত, ধর্মীয় বা নৃগোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হলো জেনোসাইড। এটা যেমন হতে পারে হত্যার মাধ্যমে, তেমনি কোনো গোষ্ঠীর সদস্যকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করার মাধ্যমেও জেনোসাইড হতে পারে। কোনো গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্মনিরোধ করা হলে বা শিশুদের জোর করে এক গোষ্ঠী থেকে আরেক গোষ্ঠীতে পাচার করা হলেও তা জেনোসাইড। ট্রাইব্যুনালস আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধিতে জেনোসাইডের প্রায় একই ধরনের সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। রোম সংবিধির ৬ অনুচ্ছেদে জেনোসাইডের যে পাঁচটি ধরন উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালস আইনের ৩(২)(সি) ধারায়ও সেই পাঁচটি ধরনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরো গোষ্ঠীকে ধ্বংস বা উত্খাতের লক্ষ্যে পরিচালিত নৃশংসতা হিসেবে অভিযোগনামায় একাত্তরে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত আক্রমণের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। নয় মাস জুড়ে দেশব্যাপী এমনই ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি সম্পৃক্ত এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন নয়জন আসামির মধ্য্রেছয়জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে জেনোসাইডের অভিযোগ আনা হয়েছে। জেনোসাইডের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়টি। এ ছাড়া সাঈদীর বিরুদ্ধে চারটি, আলীমের বিরুদ্ধে তিনটি, নিজামী ও মুজাহিদের বিরুদ্ধে দুটি করে এবং আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে জেনোসাইডের একটি অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানের মধ্য গহিরা হিন্দুপাড়ায় হত্যাকাণ্ড, একই দিনে জগত্মল্লপাড়ায় ৩২ হিন্দু হত্যাকাণ্ড, ওই দিনে উনসত্তরপাড়ায় প্রায় ৭০ হিন্দুকে হত্যা, ২০ এপ্রিল হিন্দু-অধ্যুষিত শাকপুরা গ্রামে কমপক্ষে ৭৬ জনকে হত্যা প্রভৃতি গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে। হিন্দু সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ বা আংশিক নির্মূল করার জন্য এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, তদন্তে পাওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ জেনোসাইড হিসেবে গঠন করা হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগগুলোর সর্বশেষটি এমনই এক গণহত্যার অভিযোগ, যার সঙ্গে নেতৃত্বের দায় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে নিজামী ছিলেন ইসলামী ছাত্র সংঘের (জামায়াতের তত্কালীন ছাত্রসংগঠন) পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর প্রধান। আলবদর এমন একটি বাহিনী, যা গড়ে তোলা হয়েছিল গুপ্তহত্যার জন্য এবং এই বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে যৌথভাবে ও সহযোগী বাহিনী হিসেবে কাজ করত। ১৪ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের ধরে ধরে নিধন শুরু করে আলবদর বাহিনী। বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী মানুষকে হত্যার এই পরিকল্পিত ঘটনা জেনোসাইড। ছাত্র সংঘের নেতা ও আলবদরের প্রধান হিসেবে নিজামী যেমন এর দায়দায়িত্ব এড়াতে পারেন না, তেমনি তিনি আলবদরদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় এড়াতে পারেন না।

একাত্তরের প্রায় পুরোটা সময় ছাত্র সংঘের সেক্রেটারির পদে থাকলেও শেষ দিকে এসে সভাপতি হয়েছিলেন মুজাহিদ। গঠন করা অভিযোগে দেখা যায়, ফরিদপুরের হিন্দু-অধ্যুষিত তিনটি গ্রামে জেনোসাইড সংঘটনে সহায়তা করেছিলেন মুজাহিদ। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গণহত্যা সংঘটনে সহযোগিতার।

হত্যা

default-image

বিচারাধীন মামলাগুলোতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে হত্যার অভিযোগ এসেছে বিভিন্নভাবে। কারও বিরুদ্ধে রয়েছে সরাসরি হত্যার অভিযোগ—কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ হত্যাকাণ্ডে যৌথভাবে অংশ নেওয়ার, সহায়তা দেওয়ার বা প্ররোচিত করার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি অভিযোগের প্রথমটিই হত্যার। সেখানে দেখা যায়, একাত্তরের ৪ মে শান্তি কমিটির সদস্য বা ব্যক্তিগোষ্ঠীর সদস্য সাঈদী গোপনে পাকিস্তানি সেনাদের খবর দেন যে পিরোজপুরের মধ্য মাসিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে কয়েকজন লোক জড়ো হচ্ছেন। পরিকল্পিত উপায়ে তাঁদের সাঈদী পিরোজপুর সদর থানায় নিয়ে যান এবং সেখানে ২০ জন নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এখানে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও অভিযোগে দেখা যাচ্ছে, সাঈদী শুধু হত্যাকাণ্ডে অংশই নেননি, বরং তিনি পরিকল্পনা করে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছেন।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ছাত্র সংঘের নেতা ও আলবদর বাহিনীর নেতা মুজাহিদ দৈনিক ইত্তেফাক-এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেনের লেখা একটি নিবন্ধের পাল্টা নিবন্ধ লেখেন, যা জামায়াতের মুখপত্র সংগ্রাম-এর ১৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তিনি সিরাজুদ্দীনকে ভারতীয় দালাল বলে সমালোচনা করেন। ওই সময়ের সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ উল্লেখ করে নিবন্ধ লেখার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রখ্যাত এই সাংবাদিক সেটি না লেখায় তিনি জামায়াত ও আলবদরের লক্ষ্যে পরিণত হন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর রাত তিনটার দিকে মুখ ঢাকা সাত-আটজন সশস্ত্র অবস্থায় সিরাজুদ্দীনকে তাঁর চামেলীবাগের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আর ফিরে আসেননি, তাঁর লাশও পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুজাহিদের বিরুদ্ধে এই অপরাধে সহযোগিতা করা, তাতে অংশ নেওয়া এবং কাজটি সহজ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের অপহরণ বা হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ শ্রেণীর ‘বুদ্ধিজীবী’ বা ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠী’কে টার্গেট করে মুজাহিদ এ কাজ করেছেন।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ অনুসারে, একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা ইনস্টিটিউটে ক্যাম্প গঠন করে, যা রাজাকার ও আলবদর বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নির্যাতন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ইসলামী ছাত্র সংঘের তত্কালীন সেক্রেটারি মুজাহিদ সে সময় নিয়মিত তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে যেতেন এবং পাকিস্তানি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সাধারণ বাঙালি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করতেন। ওই ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার সূত্র ধরে ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। মুজাহিদের বিরুদ্ধে এটি একই সঙ্গে জেনোসাইড ও হত্যার অভিযোগ।

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণ

ট্রাইব্যুনালস আইন অনুসারে সরাসরি ধর্ষণ করা, ধর্ষণে সহায়তা করা, প্ররোচনা বা উসকানি দেওয়াও সমান মানবতাবিরোধী অপরাধ। আবার কারও অধীনে থাকা বাহিনীর সদস্যরা যদি ধর্ষণ করে, তবে তা প্রতিরোধ না করাও অপরাধ। গঠিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সাঈদী, আবুল কালাম আযাদ ও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে গঠিত পঞ্চম অভিযোগে দেখা যায়, একাত্তরের ৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর সদস্য ও আলবদর কমান্ডার আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু ১০-১২ জন সশস্ত্র রাজাকার নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার নতিবদিয়া গ্রামের এক হিন্দুবাড়িতে হামলা চালান। এতে এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পালাতে শুরু করলে তাঁরা ওই বাড়ির দুই নারী সদস্যকে ধরে ফেলেন। পরে আযাদসহ তাঁর চার-পাঁচজন সঙ্গী তাঁদের ধর্ষণ করেন। হিন্দু বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ধর্ষণ’ বলে উল্লেখ করে আবুল কালাম আযাদকে অভিযুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গঠিত ষষ্ঠ অভিযোগের এক জায়গায় দেখা যায়, ২৬ মার্চ মিরপুরে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের এক নৃশংস ঘটনায় কাদের মোল্লার ১২ জন সঙ্গী ১১ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। তত্কালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ও আলবদর বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কাদের মোল্লা ক্যাপাসিটি থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের ঘটনা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেননি। এ জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ষড়যন্ত্র

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গঠিত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। একাত্তরে গোলাম আযম ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি শান্তি কমিটির অন্যতম সংগঠক ছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, তিনি ছিলেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা। গোলাম আযমের পক্ষে তাঁর অবস্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিতে হয়নি বটে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তাঁর পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র অনুযায়ী।

একসঙ্গে কয়েকটি ঘটনার সন্নিবেশ ঘটিয়ে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। একাত্তরের ৪ এপ্রিল ১২ সদস্যের দল টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করে দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে চক্রান্ত করেছে, আলোচনা, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরে নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়, যা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের একটি সহায়ক শক্তি। এ জন্যই একে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বলা হচ্ছে।

এই ঘটনার দুই দিন পর ৬ এপ্রিল তিনি টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১৪ এপ্রিল বৈঠক করেন শান্তি ও ওয়েলফেয়ার-সংক্রান্ত পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে। এসবের ধারাবাহিকতায় ১৯ জুন রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক, পরদিন ২০ জুন জামায়াতের প্রধান সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর সঙ্গে বৈঠক, ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে আবার ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকের ঘটনাক্রমও অভিযোগে যুক্ত করা হয়েছে। ছয়টি পর্যায়ক্রমিক ঘটনার সমন্বয়ে গঠিত এই অভিযোগে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কারণ, সব ঘটনার ধারাবাহিকতা দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষে এবং এ দেশের নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে ধ্বংস করার জন্য করা হয়েছে। এই অভিযোগে একই সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪(১) ও ৪(২) ধারার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে।

পরিকল্পনা

মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। এ জন্য গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৩(২)(এফ) ধারায় পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এখানেও একাত্তরের কয়েকটি ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বিবৃত করে বলা হয়, শান্তি কমিটি গঠনের পরিকল্পনার সঙ্গে গোলাম আযম জড়িত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন