default-image

খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার বরাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা অনিমেষ অধিকারী। এখন তাঁর বয়স ৭৬। মুক্তিযুদ্ধের বহু বেদনাদায়ক স্মৃতি এখনো তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সেসব ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘হঠাত্ আমাদের গ্রামে একদিন সন্ধ্যাবেলায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠে। তখন আমরা কেবল মাঠের কাজ শেষ করে বাড়িতে পৌঁছাই। হঠাত্ গোলাগুলির শব্দে আমরা কিছু বুঝে উঠতে পারিনি।

বিজ্ঞাপন

তখন অনেক লোক নিহত হলো এবং আহত হয় অনেকে। আমাদের গ্রামে অন্তত আড়াই হাজার লোক মারা গেছে। আমাদের গ্রামে মূলত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিয়ে আসে রাজাকাররা। তাদের মধ্যে হলো শোভনার নিবাসী মো. আতাউর রহমান জোয়ার্দ্দার ও আবদুুল ফকির মোল্লা। তাদের দলবল আমাদের গ্রামটাকে ধ্বংস করে দিল এবং তাদের সাহায্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের গ্রামে অত্যাচার করে এবং গ্রামটি শেষ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যারা দু-একজন পালিয়ে বেঁচে ছিল, তারা সবাই ভারতে যেতে চাইল প্রাণের ভয়ে।

যখন আমরা ভারতের পথে যাচ্ছিলাম, তখন কলারোয়ার কাছাকাছি জায়গায় গিয়েছিলাম। সেখানে শুনলাম, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সামনে থেকে গোলাগুলি শুরু করে দিয়েছে, তখন আমরা সবাই সাধারণ রাস্তা থেকে নেমে বাগানের ভেতর প্রবেশ করলাম। ওই যুদ্ধে সামনের অনেক লোক মারা গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পরে যখন গোলাগুলি শেষ হয়ে গেল এবং পাকিস্তানি বাহিনী চলে গেল, তখন আমরা বাগান থেকে উঠে দৌড়ানো শুরু করলাম। সে সময় একটি লাশের পাশে একটি বাচ্চাকে কাঁদতে দেখা গেল। তখন আমি বাচ্চাটিকে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রাণের ভয়ে নিতে পারলাম না। আমাদের কাছে অনেক সরঞ্জাম ছিল। এভাবে আমরা কয়েকজন অনেক দুঃখ-কষ্ট করে ভারতে প্রবেশ করলাম। আমার যত দূর মনে পড়ে, এই স্মৃতির কথা আমার মন থেকে কোনো দিন মুছবে না। এটাই আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন।

 রকি বিশ্বাস

স্কুল: কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শ্রেণী: নবম, রোল: ২২

বিজ্ঞাপন