বিজ্ঞাপন
default-image

ইংরেজি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পৌঁছাতে মাঘের শীতের তীব্রতা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফাল্গুনের হাওয়ায় আমের মুকুলের গন্ধে ডাক এসে যেত একুশের প্রভাতফেরির। ঘর আর প্রতিবেশীর উঠানের বাগান থেকে তোলা ফুল হাতে নিয়ে খালি পায়ে মায়ের হাত ধরে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গাইতে গাইতে দল বেঁধে শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা করা। বেদিতে ফুলগুলো বিছিয়ে দিতে দিতে মিনারের ফাঁক দিয়ে হু হু করে আসা বাতাসের দোলায় বুকের গভীরে কেমন একটা কষ্টের নড়াচড়া। সেই কষ্টের জমিতে ছোট্ট একটা বীজ কিন্তু রোপিত হয়ে গেল।

শরীরে এক আশ্চর্য শিহরণ জাগে—কিছুতেই আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে দেব না কাউকেই। আমার ভাষার অধিকার, আমার অস্তিত্বের অধিকার। আমার ভাষার অমর্যাদা তো আমার অস্তিত্বের মর্যাদাকেই অস্বীকার করা। সেই বোধ থেকেই শুরু আমার মর্যাদার লড়াই। তারপর কতবারই না কতভাবে এই মর্যাদার লড়াই করতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে। লড়াই করতে হয়েছে কোনো পরিচয়েই যেন কেউ কোনো রকম বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে। একেক করে কয়েকটি তারিখ আমাদের সেই প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠতে থাকল। বায়ান্ন, চুয়ান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি আর উনসত্তর। এ তারিখগুলো স্তরে স্তরে গ্রথিত হলো আমাদের ইতিহাসে মহান একাত্তরের সোপান হিসেবে।

দ্বিজাতিতত্ত্বের যে অনাচার সংক্রমিত করে দেওয়া হয়েছিল এ দেশের মানুষের চেতনা-চিন্তায়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দেশের মানুষেরাই ধর্মভিত্তিক, সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাকে প্রত্যাখ্যান করে সবার ওপরে ‘মানুষ’ পরিচয়কে ধারণ করতে চেয়েছে। আর এই ‘মানুষ’ হওয়ার প্রত্যয়ই হলো মানবাধিকারের মূলমন্ত্র, মূল শর্ত।

স্মরণে আনা যেতে পারে, বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটির জন্মেরও মূল সূত্র সেটাই। কারণ, বাংলার মানুষ মুক্তি চেয়েছিল প্রধানত অসাম্য ও বৈষম্য থেকে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের আমলে বারবার তাকে দাঁড় করানো হয়েছে দেশের প্রতি আনুগত্য প্রমাণের পরীক্ষায় তার ধর্মীয় পরিচয়ের মাপকাঠিতে। সম্মান আর মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে হলে তাকে উত্তীর্ণ হতে হয়েছে বিজাতীয় শাসকদের আরোপিত মানদণ্ডের বিচারে। অন্যথায় মেনে নিতে হয়েছে অপমান আর প্রবঞ্চনা, কখনো কখনো অন্যায়-অত্যাচারও।

সার্বিক বিচারে পাকিস্তানিদের স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক সামরিকতন্ত্রী শাসনের বিরুদ্ধেই—২৫ মার্চে যা এ দেশের মানুষের ওপর নেমে এসেছিল গণহত্যার মতো ভয়ংকর আঘাতের রূপে, বাংলাদেশের মানুষ ঘোষণা দিয়েছিল স্বাধীনতাযুদ্ধের। এ যুদ্ধ শুধু একটি হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে একটি ভূখণ্ড দখলের যুদ্ধ ছিল না। এ যুদ্ধ ছিল মানুষের মৌলিক আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ, যার সর্বজনীনতার কথা আমরা বলেছি আমাদের নানান প্রকাশের মধ্য দিয়ে। উনসত্তরে আমরা স্লোগান দিয়েছি ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’। আমরা আমাদের অস্তিত্বের উৎস খুঁজে পেতে চেয়েছি দেশের মাটি, নদী আর প্রকৃতির মধ্যে। প্রকৃতি কখনো কারও পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে কোলে টেনে নেয় না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গানে আমরা বলেছি, ‘আমার এ দেশ সব মানুষের’। আমরা আরও বলেছি, ‘এ দেশ সব মানুষের—চাষার, মুটের, মজুরের, গরিবের, নিঃস্বের, ফকিরের’। একই গানেই উচ্চারিত হয়েছে—

নেই ভেদাভেদ হেথা চাষা আর চামারে

নেই ভেদাভেদ হেথা কুলি আর কামারে

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান

দেশমাতা এক সকলের।

ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় মানুষেরা বিভীষিকাময় নৃশংস অধিকার লঙ্ঘনের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানবাধিকারের যে দলিল রচনা করেছে, আমাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও প্রকারান্তরে সেই কথারই প্রতিধ্বনি করছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১-তে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’

এই কথাগুলোকে সংবিধানেরই ৭(ক) অনুচ্ছেদে জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে দেশের সর্বোচ্চ আইন বলে অভিহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে অন্য যেকোনো আইন এই সংবিধানের সঙ্গে যদি অসামঞ্জস্য হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে। (৭) (২)

১৯(৩) অনুচ্ছেদে ঘোষণা দেওয়া হলো, জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। মৌলিক অধিকার অধ্যায়ে ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

default-image

২৮ অনুচ্ছেদের বক্তব্য হলো ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।

সংবিধানের তৃতীয় ভাগ, যেখানে মৌলিক অধিকারের অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেই অধ্যায়টি এ ক্ষেত্রে স্মরণে না আনলেই নয়। এ অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৩১ থেকে ৪০-এ আইনের আশ্রয়ে লাভ, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি শ্রম, বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরা, সমাবেশ, সংগঠন, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্স্বাধীনতা ও পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

’৭২ থেকে কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের আক্রমণ, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির অনুপ্রবেশ, সর্বোপরি রাজনৈতিক সংস্কৃতির চরম অধঃপতন ও দুর্বৃত্তায়নের মধ্যে দিয়েও বাংলাদেশ নানা সূচকে বিশ্বকে চমৎকৃত করেছে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা তাঁদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বের প্রামাণ্য দলিলের স্বীকৃতি পেয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, বাংলাদেশের মানুষ কেমন আছে, যখন প্রতিদিন গণমাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে নানা অপরাধ আর অনাচারের খবর জানতে পারি; যার প্রতিকারের রাষ্ট্রীয় দায় চরম উদাসীনতায় বা সদিচ্ছার অভাবে উপেক্ষিত থেকে যায়। বিশ্বের কোনো দেশই অপরাধমুক্ত নয়, কিন্তু সুশাসন ও মানবাধিকার রক্ষার যে কিছু মাপকাঠি আছে, তার বিচারে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্বস্তিতে থাকার মতো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। রাজনীতিতে বা রাজনীতিকদের মধ্যে কোথাও কোথাও এ ক্ষেত্রে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছার সদিচ্ছা নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু সাধারণভাবে জনগণের অভিজ্ঞতা তার বিপরীত মানসিকতারই সাক্ষ্য দেয়। নয়তো নারী নির্যাতন এত প্রকট অবস্থা ধারণ করবে কেন? এমন দিন নেই যেদিন একাধিক অত্যন্ত ভয়াবহ নারী নির্যাতনের খবর না জেনে থাকা যায়। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণ করে হত্যা, যৌতুকের জন্য হত্যা, সম্ভ্রমহানি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনা আর যৌনপীড়ন—এমন জঘন্য অপরাধের জন্য বিগত প্রায় ১৫ বছরে সাজার হার হলো মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। ইদানীং প্রথম আলোর একটি জরিপে এই তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে। সার্বিকভাবে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলায় সাজার হার হলো ৩ শতাংশ। মামলা করে কত নারী এবং তাঁর পরিবার যে অধিকতর বিপদে পড়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। আর এ ধরনের নির্যাতন যদি আসে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা বিশেষ পরিচয়ের ব্যক্তির কাছ থেকে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনাও অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। মামলা না নেওয়া, তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে দুর্বলতা—নারী নির্যাতনের প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে অবধারিত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

default-image

অপরাধের শিকার হওয়া এক কথা, কিন্তু সেই অপরাধের বিচার না পাওয়া স্পষ্টতই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোষে দুষ্ট। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠীই প্রধান। ’৭২ সালে তারা সমগ্র জনসংখ্যার ২০ শতাংশ থাকলেও ২০১৮-তে চলে গেছে ১০ শতাংশের নিচে।

তাদের ভাষ্যমতে, তারা ক্রমাগত ক্ষমতাহীনতা, অসহায়তা, শারীরিক দুর্দশা, দারিদ্র্য ও নিঃসঙ্গতা বা বিচ্ছিন্নতার বঞ্চনার মধ্যে নিপতিত হতে বাধ্য হয়ে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ওপর এখন পর্যন্ত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনকে কার্যকর হতে না দেওয়ায় এ জনগোষ্ঠী ২৬ লাখ একর জমি হারিয়েছে, যা তাদের বঞ্চনাকে তীব্রতর করে তুলেছে। সংখ্যালঘু নারীর ওপর নির্যাতনে যে বিশেষ মাত্রায় অসহায়ত্ব ও বিচারহীনতা যুক্ত হয়, এ কথা ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন হয় না। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ওপর—বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে—তা প্রতিনিয়ত তাদের ভাবতে বাধ্য করছে যে এ দেশটি তাদের নয়। সাধারণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অথবা তাদের নামে একইভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক বা অনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মানুষ বা দলের নামে প্রতিদিন যে প্রতিকারহীন লুটতরাজ, অপহরণ, ভূমি বা সম্পত্তি দখলের, এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে, তাতে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও সুশাসনের চিত্রটি যে যথেষ্ট অনুজ্জ্বল, সে কথা স্বীকার না করে উপায় নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে যখন নীতিনির্ধারক বা তাঁদের প্রতিনিধিরা এমন মন্তব্য করেন, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে এসব ঘটনার প্রতিকার দেওয়ার দায়দায়িত্ব তাঁরা গুরুত্বসহকারে ধারণ করেন না; তখন চিত্রটি আরও ভীতিকর রূপ ধারণ করে।

মানুষ হারিয়ে যাবে—বলা হবে নিজের ইচ্ছায় তাঁরা আত্মগোপন করে থাকেন। আত্মীয়-পরিজন, সন্তানসন্ততিকে দুর্বিষহ যন্ত্রণা আর উদ্বেগের মধ্যে ছুড়ে ফেলে এতসংখ্যক মানুষ কেন লুকিয়ে থাকবেন দিনের পর দিন? তাঁদের মধ্যে যাঁরা ফিরে আসছেন, তাঁরা যে নির্যাতনের অভিযোগ আনছেন, যে তথ্য দিচ্ছেন, তার তো কোনো তদন্ত হয় না; তার ওপর শুধু কর্তৃপক্ষের অস্বীকৃতির বক্তব্যই শুনতে হয়। হতবাক হতে হয় জেনে পুলিশ বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের হেফাজতে নির্যাতন হলে অথবা মৃত্যু ঘটলে যেন তাদের সে ঘটনার দায় বহন করতে না হয়, সেই মর্মে আবেদন করেছে।

এরই মধ্যে জাতিসংঘে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার-সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অধিকার-সংক্রান্ত যে দুটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ উপস্থাপন করেছে, তা নিয়ে দেশটির প্রতিনিধিকে গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সংবাদ অনুযায়ী প্রশ্নগুলোর যে খুব সদুত্তর দিতে পারা গেছে, তেমনটি নয়।

আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে মানবাধিকার প্রসঙ্গে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর খোঁজার তাগিদকে উপেক্ষা করা যায় না। দিকনির্দেশনার জন্য যতই স্ববিরোধিতা থাকুক না কেন, সংবিধানের যে ধারাগুলো পরিষ্কারভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ইঙ্গিত করেছে, তার অনুসরণ করা যেতে পারে। সেই আলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দলিল ও চুক্তির মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষার উপায়গুলো কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। মানবাধিকারের দলিল, সিডও (নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ) ছাড়াও বিভিন্ন বিশেষায়িত যে সম্পদগুলো রয়েছে, যার বেশ কয়েকটিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে, সেগুলোও এখানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বশেষ যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে গুরুত্ব দিয়ে সেই কাজটি এগিয়ে নিলেও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অনেকটাই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যাবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় মূল যে কথাটি বলা হয়েছে—কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না, বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ’ হয়ে ওঠার মূল প্রণোদনাটিও তা-ই ছিল।

বাংলাদেশ বাংলাদেশই হয়ে ওঠে না যদি না এই কথাটিকে আমরা সত্য করে তুলতে না পারি যে বাংলাদেশ সব মানুষের দেশ।

সুলতানা কামাল মানবাধিকারকর্মী।

সূত্র: ২৬ মার্চ ২০১৯ প্রথম আলোর "স্বাধীনতা দিবস" বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত