default-image

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব বাংলায় সংঘটিত ঘটনার পর ব্রিটেন সরকার, গণমাধ্যম ও সে দেশের জনগণ চুপচাপ ছিল না। পাকিস্তান কমনওয়েলথভুক্ত দেশ হওয়ায় এ ঘটনায় ব্রিটেন সরকার আরও উত্কণ্ঠা দেখায়।

২৫ মার্চ রাতে তত্কালীন পূর্ব বাংলায় সংঘটিত গণহত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই হাউস অব কমন্স সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ২৯ মার্চ হাউস অব কমন্স সভায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ-বিষয়ক সচিব স্যার অ্যালেস ডগলাস হিউম পূর্ব বাংলায় বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোয় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পাকিস্তানকে তাদের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান। ডগলাস হিউম আলোচনাটি উত্থাপন করেন এভাবে, ‘আমি আশা করব, কমনওয়েলথের একটি সদস্যদেশ পাকিস্তানে প্রাণহানিতে পুরো হাউসই আমার সঙ্গে শোক প্রকাশে যোগ দেবে’ (সূত্র: হাউস অব কমন্স সভার কার্যবিবরণী, ২৯ মার্চ ১৯৭১)। এ ছাড়া ওই দিন হাউস অব কমন্স সভার আলোচনায় তিনি পূর্ব বাংলায় বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তার কথাও উত্থাপন করেছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলও হামলার শিকার হয়। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেদিন পুরো হাউসই ডগলাস হিউমের সঙ্গে শোক প্রকাশ করেছিল। এ ছাড়া হাউস অব কমন্স সভায় এপ্রিল, মে, জুন, সেপ্টেম্বর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে পূর্ব বাংলায় সংঘটিত এবং চলমান ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। হয় তর্ক-বিতর্ক।

বিজ্ঞাপন

৫ এপ্রিল ১৯৭১ হাউস অব কমন্স সভার আলোচনায় ডগলাস হিউম ও অন্য সদস্যরা পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। হাউস অব কমন্স সভার সদস্যরা পাকিস্তানের ঘটনাকে তাদের অভ্যন্তরীণ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করলেও এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় যুক্ত না হওয়ার কথা বললেও পাকিস্তান সরকারকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মীমাংসায় রাজনৈতিক সমঝোতাকে বেছে নিতে অনুরোধ করে। ৫ এপ্রিল হাউস অব কমন্স সভায় ডগলাস হিউম বলেন, ‘[পূর্ব পাকিস্তানে] কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য না থাকলেও এটা সন্দেহাতীত যে সেখানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আমি আশা করছি, এই সংঘাত বন্ধ করতে, পুরো হাউস ও দেশই আমার সঙ্গে পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানাবে’ (সূত্র: হাউস অব কমন্স সভার কার্যবিবরণী, ৫ এপ্রিল ১৯৭১)।

পূর্ব বাংলায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবেতর অবস্থার সংবাদ পেয়ে ব্রিটিশ কিছু এমপি তাঁদের নিজেদের উদ্যোগে পশ্চিম বাংলায় শরণার্থী শিবির ও পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশ সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভ্রমণ করেছিলেন। ভ্রমণকারী এমপিদের একজন, ব্রুস ডগলাস, ১৯৭১ সালের ১৪ মে হাউস অব কমন্স সভার একটি আলোচনায় তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছিলেন। ব্রুস ডগলাস তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘[পূর্ব বাংলায়] কী ঘটছে এবং কেন ঘটেছে, তা সবাই কমবেশি ভালো জানেন। পাকিস্তান সরকারের তথ্য অনুযায়ী নিহত হওয়া মানুষের সংখ্য ১৫,০০০ কিন্তু স্বাধীন হিসাব অনুসারে নিহত হওয়া মানুষের সংখ্যা সর্বনিম্ন হলেও ১,০০,০০০। অনেকে ধারণা করেন, নিহত মানুষের সংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, দেশের [পূর্ব বাংলার] দুই মিলিয়ন মানুষ মনে করছে তাদের দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা খুবই আতঙ্কজনক। এ কারণেই তারা দেশ ছেড়ে ভারতে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে’ (সূত্র: হাউস অব কমন্স সভার কার্যবিবরণী, ১৪ মে ১৯৭১)।

এরপর হাউস অব কমন্স সভার সদস্যদের কাছে ডগলাস হিউম পশ্চিম বাংলায় শরণার্থী শিবিরের দুর্দশার কথা আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি ও তাঁর আরেক সহকর্মী রাসেল জন স্টোনহাউস শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন, সেখানে অল্প পরিসরে বৃষ্টি-কাদায় জড়াজড়ি করে মানুষ জীবন যাপন করছে। হাউস অব কমন্স সভাকে তিনি বলেন, এটা খুবই পরিষ্কার যে পাঞ্জাবিরা যেভাবে পূর্ব পাকিস্তানিদের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে গত ছয় সপ্তাহে, তাতে করে মনে হচ্ছে, পাকিস্তান আর এক দেশ থাকতে পারবে না। ডগলাস হিউম বলেন, ব্রিটিশ সরকার যেন সংঘাত বন্ধে এর প্রভাব খাটানোর উদ্যোগ নেন এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকে ত্রাণকাজে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রভাবিত করেন। এ ছাড়া তিনি ব্রিটিশ সরকারকে আহ্বান জানান, পাকিস্তানে যাতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় থাকে, সে জন্য ব্রিটেন যেন কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মী ও সমব্যথী ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিলেন রাসেল জন স্টোনহাউস। হাউস অব কমন্স সভার বিভিন্ন বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন। হাউস অব কমন্স সভায় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করবেই। স্বাধীনতা লাভ করতে তাদের অনেক মাস লাগতে পারে অথবা কয়েক বছর লাগতে পারে, কিন্তু আমার কাছে এটা অসম্ভব মনে হয় যে এক হাজার মাইল দূরের ৭৫ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশে পাকিস্তান শাসন ধরে রাখতে পারবে, বিশেষ করে সেখানকার মানুষ যখন তা চাইছে না। পরিস্থিতি এমন যে বাঙালিরা স্বাধীনতা লাভ করবেই। আমি মনে করি, বাংলাদেশের জন্ম হবেই এবং বাংলাদেশের জন্ম হবে মানুষের স্বার্থে এবং বিশ্ব শান্তির স্বার্থে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ লড়াইয়ে তাদের আমাদের সমর্থন দিতে হবে’ (সূত্র: হাউস অব কমন্স সভার কার্যবিবরণী, ১৪ মে ১৯৭১)। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও স্টোনহাউস বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন। পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত অপারেশন সার্চ লাইটের কয়েক দিন পর, ৩১ মার্চ স্টোনহাউস তার বিবৃতিতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের হামলাকে বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেন। স্টোনহাউস তাঁর বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানে সংঘটিত নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে ব্রিটেন যদি এ ব্যপারে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তা হবে ভুল। স্টোনহাউসের এ বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড ব্রিটেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

ব্রিটিশ সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে দুর্গত বাঙালিদের ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেছিল। ১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সহায়তার পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। এ ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানেও ব্রিটিশ সরকার দুই মিলিয়ন পাউন্ড অর্থের ত্রাণ সহযোগিতা পাঠিয়েছিল।

ব্রিটিশ সরকার ছাড়াও বেসরকারিভাবে ব্রিটিশ জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল ছিল। ব্রিটিশ জনগণ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর আক্রমণ ও নিষ্ঠুরতার নিন্দা জানিয়েছিল; রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধে লর্ড সভার সদস্য লর্ড ফ্রেনার জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন (সূত্র: বাংলাদেশ ডকুমেন্টস)। পূর্ব বাংলায় গণহত্যা প্রসঙ্গে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শ্রমিক দলের সদস্য ডগলাস মান বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি পূর্ব বাংলায় দ্রুত হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানান। বাঙালিদের হত্যা ও নির্যাতন করায় পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করারও দাবি জানান তিনি (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, ত্রয়োদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৪-৪৬)। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ শ্রমিক দলের ১২০ জন এমপি বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি জানান। ২৫ জুন ব্রিটেনের কনওয়ে হলে লেডি গিফর্ডের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জনসভায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার বিচার করার জন্য সিকউরিটি কাউন্সিলকে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার দাবি জানায় (সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, ত্রয়োদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬০)।

ব্রিটেনে ‘অপারেশন ওমেগা’ নামে আরেকটি সংগঠন পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ভারতের মাটিতে বাঙালি শরণার্থীদের দুর্দশার কথা প্রচার করে। অপারেশন ওমেগা বাংলাদেশে প্রবেশ করে মানবিক সাহায্যকাজ পরিচালনার চেষ্টাও চালিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল গঠিত ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্রিটিশ সংগঠনও বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছিল (সূত্র: অ্যাকশন বাংলাদেশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি, জুলাই ১৯৭১)। ১৯৭১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘ব্রিটিশ ওভারসিজ সোশ্যালিস্ট ফেলোশিপ সমিতি’ বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ব্রিটেনে ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস’ নামে একটি সংগঠনও পূর্ব বাংলায় গণহত্যার কথা তুলে ধরেছিল। সংগঠনটি তাদের আবেদনে লিখেছিল, ‘পূর্ব বাংলার ৭৫ মিলিয়ন মানুষ আজ সামরিক জান্তার পরিকল্পিত গণহত্যার মুখোমুখি। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যারা তাদের নিজে দেশে অবস্থান করছে, তারা মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস করছে’ (সূত্র: ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের প্রস্তাব ও আবেদন, ১১ অক্টোবর ১৯৭১)। সংগঠনটি ব্রিটিশ জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছিল: ১. দ্রুত সামরিক দমন-পীড়ন বন্ধ করা ২. পূর্ব বাংলার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি ৩. এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে শরণার্থীরা তাদের নিজ দেশে ফিরতে পারে এবং নিরাপদে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারে ৪. পাকিস্তানে সামরিক শাসনকে শক্তিশালী করতে পারে—এমন সব সহযোগিতা বন্ধ করা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ভূমিকাও বেশ জোরালো ছিল। ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, গার্ডিয়ান, নিউ স্টেটসম্যান, টাইমস, ইকনোমিস্ট, সানডে টাইমস, অবজারভার, বিবিসিসহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যম মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন ও বাঙালিদের দুর্দশা বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদগুলো ছিল বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল। বাংলাদেশে গণহত্যা শুরুর পরপরই ৩১ মার্চ ‘ম্যাসাকার ইন পাকিস্তান’ (‘পাকিস্তানে হত্যাকাণ্ড’) শিরোনামে গার্ডিয়ান সংবাদ ছেপেছিল। এপ্রিল মাসের ২ তারিখে নিউ স্টেটসম্যান ‘উইপ ফর বাংলাদেশ’ (‘বাংলাদেশের জন্য কাঁদো’) শিরোনামে একটি হূদয়স্পর্শী সংবাদ প্রকাশ করে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিভিন্ন হূদয়স্পর্শী ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি করেছিল।

 আজিজুল রাসেল: সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা, প্রথম আলো