default-image

নাদিরা মজুমদারকে

খররৌদ্রময় এই দিন-

শ্যামল বাঙলায় বুঝি অকস্মাত্ নেমে আসে খরা!

খরতাপে রুদ্ধশ্বাস ক্ষুদ্র এই গ্রামীণ শহর,

এরকম এই দিনে চেতনায়ও খরার প্রদাহ-

নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থী যেন বিরক্ত, বিব্রত;

এরকম দুঃসময়ে এল বৃষ্টির শব্দের মতো

সুখকর এই পত্র-প্রাগের প্রাচীর থেকে উড়ে!

বিজ্ঞাপন

কূপিত, বিব্রতকর এই রোদে খামটি খুলিনি,

আমি তো অপেক্ষা জানি : এই খররৌদ্রে কখনো কি

প্রিয় বান্ধবীর লেখা চিঠি খোলা চলে?

অতএব, রেখে দিই যত্ন করে নিজস্ব ড্রয়ারে!

২৭ মার্চের রাতে অকস্মাত্ বৃষ্টি নেমে এল-

যেন দীর্ঘদিন পর হঠাত্ হারিয়ে যাওয়া আমার সন্তান

ঘরে ফিরে এল। বাইরে এখন বৃষ্টি-

বৃষ্টির স্নিগ্ধতা বহুদিন পর যেন

আমার হূদয়ে প্রীত মধ্যযুগ ভরে দিয়ে গেল!

এখনো বাইরে বৃষ্টি : জানালায় জলের প্রপাত-

এই বুঝি প্রকৃষ্ট সময় যখন প্রশান্ত মন,

হূদয়ে যখন আর খেদ নেই, কোনো, ভারাতুর

নয় আর মন, ক্রোধ নেই, ঘৃণা নেই-অবিশ্বাস্য

শান্তিপ্রিয় আজ এই মাঞ্চুরীয় রাখাল বালক-

হূদয়ে কোনোই শোক নেই শোকানুভূতিও নেই-

অসম্ভব শান্ত আজ-সমাহিত-আমার হূদয়!

নষ্ট করে ফেলে দেয়া জীবনের জন্যে নেই কোনো

শোচনা ও তাপ;-বৃষ্টির সৌগন্ধ্যে ভরে আছে মন!

মনে হচ্ছে আমার মতন সুখী কেউ নেই আর

পৃথিবীর কোনো প্রান্তে সাতাশে মার্চের এই রাতে!

২.

এখন আপনার চিঠি খোলা যায় এই পরিবেশে :

এ কী করেছেন! খামে ভরে কেউ কারুকে পাঠায়

গোবি-সাহারার দীর্ঘ হাহাকার, চীনের প্রাচীর?

স্তব্ধ হয়ে থাকি চিঠি পড়ে : সারাটা দুনিয়া জুড়ে

মানুষের এত দুঃখ,-এর থেকে পরিত্রাণ নেই?

-বৃষ্টির প্রপাত শুনে, গাছের সবুজে চোখ রেখে

শিশুদের গালে চুমো খেয়ে আমরা পারি না ফের

এই দুঃখী গ্রহটির অন্তর্গত অসুখ সারাতে?

বিজ্ঞাপন