default-image

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম সরকারি নির্দেশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ছিল:

১. কোন বাঙ্গালী কর্মচারী শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন না। ছোট বড় প্রতিটি কর্মচারী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করবেন। শত্রু কবলিত এলাকায় তারা জনপ্রতিনিধিদের এবং অবস্থা বিশেষে নিজেদের বিচার-বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করবেন।

২. সরকারী, আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের যে-সমস্ত কর্মচারী অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা স্ব স্ব পদে বহাল থাকবেন এবং নিজ নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিবাহিনীকে সাহাঘ্য করবেন।

৩. সকল সামরিক, আধা সামরিক লোক কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অবিলম্বে নিকটতম মুক্তিসেনা শিবিরে যোগ দেবেন। কোন অবস্থাতেই শত্রুর হাতে পড়বেন না বা শত্রুর সাথে সহযোগিতা করবেন না।

বিজ্ঞাপন

৪. যে কেউ শত্রুপক্ষকে খাজনা-ট্যাক্স দেবে, অথবা এ ব্যাপারে সাহাঘ্য করবে, বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিবাহিনী তাদেরকে জাতীয় দুশমন বলে চিহ্নিত করবে এবং তাদের দেশদ্রোহের দায়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে নৌ-চলাচল সংস্থার কর্মচারীরা কোন অবস্থাতেই শত্রুর সাথে সহযোগিতা করবেন না। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তাঁরা যানবাহনাদি নিয়ে শত্রুকবলিত এলাকার বাইরে চলে যাবেন।

৬. কালোবাজারী, মুনাফাখোরী, মজুদদারী, চুরি, ডাকাতি বন্ধ করতে হবে; এদের প্রতি কঠোর নজর রাখতে হবে।

৭. গ্রামে গ্রামে রক্ষীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। মুক্তিবাহিনীর নিকটতম শিক্ষাশিবিরে রক্ষীবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠাতে হবে।

৮. শত্রুপক্ষের গতিবিধির সমস্ত খবরাখবর অবিলম্বে মুক্তিবাহিনীর কেন্দ্রে জানাতে হবে।

৯. স্বাধীন বাংলা মুক্তিবাহিনীর যাতায়াত ও যুদ্ধের জন্য চাওয়া মাত্র সমস্ত যানবাহন (সরকারী/বেসরকারী) মুক্তিবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

১০. বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী অথবা বাংলাদেশ সরকার ছাড়া অন্য কারো কাছে পেট্রল, ডিজেল, মবিল ইত্যাদি বিক্রি করা চলবে না।

বিজ্ঞাপন

১১. কোন ব্যক্তি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অথবা তাদের এজেন্টদের কোন প্রকারের সুযোগ-সুবিধার সংবাদ সরবরাহ অথবা পথনির্দেশ করবেন না। যে করবে, তাকে আমাদের দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

১২. শত্রুবাহিনীর ধরা পড়া সমস্ত সৈন্যকে মুক্তিবাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে হবে।

‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এবং সাপ্তাহিকজয় বাংলা , ১১ই মে ’৭১ সংখ্যায় মুদ্রিত।’