default-image

চীনা প্রতিনিধিদল এই প্রশ্নের ওপর নিরাপত্তা কাউন্সিলের নিকট একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে, যাতে কাউন্সিলের অন্য সদস্যরা তা পর্যালোচনা করতে পারেন। এখন আমি এই খসড়া সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু ব্যাখ্যা করব। ভারত ও পাকিস্তান—উভয়ের তরফ থেকেই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ আসতে পারে কি না, সে বিষয়ে একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সব প্রকার সামরিক তত্পরতা বন্ধের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়; যদিও সেনা প্রত্যাহারের দিনক্ষণ পেছানো যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে আমরা মোটেও একমত হতে পারি না। কারণ, ভারত সরকার ইতিমধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নির্লজ্জভাবে আগ্রাসন ও পাকিস্তান রাষ্ট্রবিরোধী তত্পরতা শুরু করেছে, আবার পাকিস্তানের ভূখণ্ড দখল করতে নগ্নভাবে সেনাও পাঠিয়েছে। এ মুহূর্তে উপমহাদেশে শান্তি ও নিরাপত্তার মানে হচ্ছে, ভারতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই পাকিস্তান রাষ্ট্রবিরোধী তত্পরতা ও আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে ভারতকে অবিলম্বে, নিঃশর্তে ও পূর্ণাঙ্গরূপে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার ছাড়া শুধু উভয় পক্ষের তরফ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলে তা হবে আগ্রাসনকে সমর্থনের নামান্তর। এর মাধ্যমে পাকিস্তান ভূখণ্ডে অবস্থানরত ভারতীয় সেনাদেরও বৈধতা দেওয়া হবে। এটা হলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সশস্ত্র দ্বৈরথের যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা কোনোভাবেই প্রশমিত হবে না। কোনো সমাধানও আসবে না। ঘটবে তার উল্টোটা, ফলাফল হবে মারত্মক; সোমালিয়ার প্রতিনিধিরা গতকাল ঠিক যা বলেছেন। জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে যে প্রস্তাব পাস করেছে, তাতে ইসরাইলের আগ্রাসী সেনা প্রত্যাহারের কোনো কথা নেই, শুধু যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে সেখানে। এতে কি আগ্রাসনের ফলাফলকে বৈধতা দান এবং আরব জনগণ ও রাষ্ট্রগুলোর ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় পরিসরে আগ্রাসনের হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়নি?

বিজ্ঞাপন

এ রকম মৌলিক নীতিগত ভুল জাতিসংঘের বারবার করা উচিত নয়। এটার যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে পৃথিবীর সব ন্যায়পরায়ণ মানুষ জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলকে এই মর্মে অভিসম্পাত করবে যে তারা ভারত ও তার অদৃশ্য কর্তা সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক পাকিস্তানে আগ্রাসন ও এর ভূখণ্ড দখল করা এবং পাকিস্তানকে বিভক্ত করার অপপ্রয়াসে সমর্থস জুগিয়েছে। এই মারাত্মক কুফলের বিষয়টি আমরা সব পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। সে কারণে আমরা প্রস্তাব রাখছি, যে ধারাগুলোতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক আগ্রাসনকে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং পাকিস্তান থেকে অবিলম্বে ভারতীয় সেনাদের প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এই বিবেচনাধীন খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

৫ ডিসেম্বর ১৯৭১

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র, ত্রয়োদশ খণ্ড,