বিজ্ঞাপন
default-image

মাননীয় স্পিকার, আজ সকালে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম পাকিস্তান বিমানবাহিনী আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং আমাদের বেশ কয়েকটি বিমান ক্ষেত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। সমান্তরালভাবে তাদের স্থলবাহিনীগুলো পশ্চিম সীমান্তজুড়ে আমাদের অবস্থানের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে। তাদের প্রচারযন্ত্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে এই অভিযোগ প্রচার করছে যে ভারত তাদের ওপর আক্রমণ ও আগ্রাসন শুরু করেছে।

খবরটি আমার কাছে পৌঁছায়, ঠিক যখন আমি কলকাতা ত্যাগ করছিলাম। [দিল্লিতে] ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার সহকর্মী ও বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করেছি। আমরা সবাই একমত এবং এই সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি যে জাতির স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আগ্রাসী আঘাতকারী শক্তিকে প্রত্যাঘাত করতে হবে।

নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সরকার বর্বরোচিতভাবে দলিত করে চলেছে বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি ও মৌলিক মানবাধিকার। তাদের হানাদার বাহিনী যেসব অপরাধ করে চলেছে, প্রতিহিংসাপ্রসূত হিংস্রতার দিক থেকে সেগুলো তুলনাবিহীন। লাখ লাখ মানুষকে বাস্ত্তচ্যুত করা হয়েছে, আমাদের দেশে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক কোটি মানুষকে। পুরো একটি জাতির এই নিশ্চিহ্নকরণ অভিযানের প্রতি এবং আমাদের নিরাপত্তার ওপর এই হুমকির প্রতি আমরা বারবার বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সবখানেই মানুষ সহানুভূতি প্রকাশ করেছে, ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বোঝা এবং তার বিপদ উপলব্ধি করেছে।...

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ক্রোধান্ধ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশের জনগণ এমন কিছু মূল্যবোধের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নিবেদিত হয়েছে, যেসব মূল্যবোধ উপলব্ধি করতে সামরিক বাহিনী অক্ষম; এবং সেই সব মূল্যবোধ তারা দলিত করে চলেছে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশেই।

মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ-তৎপরতার সাফল্য যতই বেড়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী ততই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের ঐতিহ্য নিপীড়ক স্বৈরাচারীদের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানো; এবং সে কারণেই তাদের রোষানল এখন বর্ষিত হচ্ছে আমাদের ওপর।...

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনকে পাকিস্তান বিস্তৃত করেছে ভারতের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধরূপে।..আমরা শান্তির পক্ষে, কিন্তু আজ শান্তিই বিপন্ন: শান্তি রক্ষা করতে হবে। আজ আমরা লড়াই করছি জাতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে। সর্বোপরি আমরা লড়ছি আমাদের লালিত আদর্শ ও শান্তি রক্ষার স্বার্থে।

বাংলাদেশ ডকুমেন্টস থেকে নেওয়া

ইংরেজি থেকে অনূদিত, ঈষৎ সংক্ষেপিত

সূত্র: ২৬ মার্চ ২০১১ প্রথম আলোর "স্বাধীনতা দিবস" বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত