default-image

১১ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন বিচার শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে—পাকিস্তানের শুরু থেকেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার ধরন ও ইতিহাস বোঝা প্রয়োজন।

...১৯৬৬ সালে যখন মুজিবুর স্বায়ত্তশাসনের জন্য ছয় দফা ঘোষণা করলেন, যার ওপর ভিত্তি করে গত নির্বাচনে তাঁর নিরঙ্কুশ বিজয় ঘটল—তখনই তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো হলো।

সরকারের সমর্থনপুষ্ট সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলেন। তাঁদের উদ্ভাবিত অভিযোগ একসময় ঝেড়ে ফেলতে হয়।

বিজ্ঞাপন

দাবি জানাল, স্বায়ত্তশাসন নতুন কিছু নয়। এমনকি পাকিস্তানের ভিত্তি হিসেবে খ্যাত লাহোর প্রস্তাব, যার খসড়া জিন্নাহ নিজেই প্রণয়ন করেছিলেন, তাতে বলা হয়েছে যে ভারতকে এমনভাবে ভাগ করতে হবে, পূর্বে ও উত্তর-পশ্চিমে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে একের অধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হবে, যার ইউনিটগুলো হবে স্বশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিট রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারেনি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা পূর্বাঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রাধান্য বিস্তার করে শাসন করে গেছেন।

কিন্তু পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ১৯৭০ সালে মুজিব ও তাঁর দলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী করে নিয়ে আসে।

তারপর গণহত্যা শুরু হয়, মুজিব আবার বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, লাহোর প্রস্তাবে যে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে, মুজিবের ছয় দফায় তাও চাওয়া হয়নি। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় দিয়ে দিতে প্রস্ত্তত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন