default-image

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে পর্যায়ক্রমে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল:

১. নির্বাচনের ফলাফল শুনে ইয়াহিয়া খান প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে যান, তার পরের পাঁচ সপ্তাহ তাঁকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। পাঁচ সপ্তাহ পর তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের কোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানের তৈরি করা ‘অপারেশন ব্লিৎটস’ নামে একটি সংকটকালীন জরুরি পরিকল্পনা হাতে পান।

২. তারপর ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবুর রহমানকে ছয় দফার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নমনীয় করতে রাজি করানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা আসেন, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহজুড়ে তিনি সেই চেষ্টা করেন, এমন আপসমূলক ইঙ্গিত দিয়ে তাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ দেওয়ার প্রস্তাব প্রকাশ্যেই দেন; কিন্তু সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান।

৩. তারপর তিনি ভুট্টোর সঙ্গে বৈঠক করতে লারকানা যান; সেখানে তিনি লক্ষ করেন, পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একযোগে এই সন্দেহে ভুগছে যে তিনি হয়তো পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা করার যোগ্যতা ও সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন।

৪. ২৭ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে মোটামুটি নির্ভরযোগ্য ধারণা পান যে ‘পাকিস্তানের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য’ প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন থাকবে।

৫. আওয়ামী লীগের ছয় দফায় কিছু ছাড় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শেখ মুজিবুর রহমানকে পরপর দুবার ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণ করা থেকে বিরত থাকেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকে, সেটা সামলানো শেখ মুজিবের পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।

৬. এই পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান একটি ‘কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা আগাম জানার জন্য ঢাকার মার্কিন কনসাল জেনারেলের কাছে একজন লোক পাঠান। এরপর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং এক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আরেক ঘটনা এবং সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আরও নানা ঘটনা ঘটতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

ইয়াহিয়ার কৌশলগত পদক্ষেপ

‘পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিলে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হতে পারে, তা বের করার প্রচেষ্টা ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান বিভাগ তিনটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশটির উদ্দেশ্য। তা জানার জন্য দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তিগুলোর অধীনে পাকিস্তান সরকারের যেকোনো অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করা ছিল বৈধ। পাকিস্তান যে এভাবে বিষয়টি জানতে পেরেছিল, তা পরিষ্কার হয়ে ওঠে ১৩ ফেব্রুয়ারি যখন ইয়াহিয়া তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। ইয়াহিয়ার এই কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেশি সময়ের জন্য কমেনি; দুই দিনের মধ্যেই ভুট্টো ঘোষণা করেন যে মুজিব ছয় দফার মূল দাবিগুলো নমনীয় করতে রাজি না হলে তাঁর দল জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবে না।

ইয়াহিয়া সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের একটা গ্রুপকে (‘জান্তা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার পর প্রচলিত চর্চায় ছোট্ট কিন্তু অর্থবহ একটি ব্যত্যয় লক্ষ করা যায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি জান্তা রাওয়ালপিন্ডিতে এক বৈঠকে বসে এবং পূর্ব পাকিস্তানের নমনীয় গভর্নর অ্যাডমিরাল আহসানকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। অ্যাডমিরাল আহসান ইয়াহিয়ার বিশ্বস্ত ছিলেন; সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজটি তিনিই করেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। জান্তা তাঁকে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে সেই পদের জন্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের নাম সুপারিশ করে; কট্টরপন্থী পাঞ্জাবি জেনারেল টিক্কা খান বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ দমনের সময় নৃশংসতার জন্য বেশ পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি ইয়াহিয়া ভুট্টোর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। পরদিন তিনি এলএফওর কিছু শর্ত সংশোধন করেন। ভুট্টোর দলের নির্বাচিত সদস্যদের ওপর ভুট্টোর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইয়াহিয়া এটা করেন, যেন তাঁরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে ভুট্টোর সিদ্ধান্ত অমান্য করতে না পারেন।

২২ ফেব্রুয়ারি ইয়াহিয়া গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসকদের কনফারেন্স ডাকেন, বেসামরিক মন্ত্রীদের বরখাস্ত করেন এবং জাতীয় পরিষদের আসন্ন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সমুদ্রপথে এবং আকাশপথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য পাঠানো বাড়িয়ে দেন। ভারত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তার আকাশসীমা দিয়ে পাকিস্তানি বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে বিমান চলাচল করছিল সমুদ্রপথ ও শ্রীলঙ্কার আকাশসীমা দিয়ে। দুই কাশ্মীরি বিমান ছিনতাইকারী ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দী তাদের সহযোদ্ধাদের মুক্তির দাবিতে লাহোর বিমানবন্দরে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ পুড়িয়ে দিয়েছিল। ভারত সরকার পাকিস্তানের কাছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল, কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাতে রাজি না হলে ভারত তার আকাশসীমার ওপর দিয়ে পাকিস্তানের বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি নিয়ে আকাশপথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছিল বাংকার তৈরি ও মেশিনগান মোতায়েন বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।

পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা যাচাইকারী থেকে শুরু করে আলমগীর রহমান, আর্চার ব্লাড, জোসেফ ফারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হেনরি কিসিঞ্জার, প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পাকিস্তানে অন্যদের কাছে সতর্কঘণ্টা বেজে চলেছিল। ফলে সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া স্থগিত করার লক্ষ্যে ইয়াহিয়ার যাবতীয় আয়োজন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়ে যায়। এসব প্রস্তুতির ভিত্তিতেই ইয়াহিয়া প্রাদেশিক গভর্নর ও কোর কমান্ডারের সঙ্গে যৌথভাবে শেখ মুজিবের ওপর নোটিশ জারি করার পরিকল্পনা করেন।

default-image

ফারল্যান্ডের সাক্ষাৎ

ওদিকে ওয়াশিংটন থেকে পাকিস্তানে রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ডকে ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্দেশনা দেওয়া হয়, ঢাকায় গিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করতে। তাদের ধারণা ছিল, শেখ মুজিব যদি তাঁর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, তাহলে ফারল্যান্ড তাঁকে এ বিষয়ে আরও একটু বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দেবেন। ঢাকায় শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার জন্য ফারল্যান্ডের ইয়াহিয়ার অনুমতির প্রয়োজন ছিল; ফারল্যান্ড ইয়াহিয়াকে বলেন তিনি মুজিবকে কী বার্তা দিতে চান। তা শুনে ইয়াহিয়া উৎসাহের সঙ্গে ফারল্যান্ডকে ঢাকা যেতে বলেন পরদিনই। ফারল্যান্ড ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকক যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন; সাধারণ নির্বাচনের পর সেটাই তাঁর প্রথম ঢাকা সফর। শেখ মুজিব ফারল্যান্ডকে সানন্দে অভ্যর্থনা জানান; তাঁর সঙ্গে অনেক বিষয়ে সোৎসাহে আলাপ করেন, যথা: ভুট্টোর সর্বসাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা থেকে শুরু করে তিনি (শেখ মুজিব) ক্ষমতায় যাওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি বিপ্লবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংকের তহবিলের সদ্ব্যবহার ইত্যাদি। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে নিজের বিঘোষিত অবস্থানে অনড় থেকে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে কিংবা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস মোড় নিলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে কি না—এসব বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। আসন্ন রাজনৈতিক সংকট নিয়ে কোনো উদ্বেগও তিনি প্রকাশ করেননি।

২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ডের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের বৈঠকটি সামগ্রিকভাবে প্রীতিকর ছিল। সেখানে তিনি ভুট্টোর ব্যাপারে নিজের নিরুদ্বেগ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের সুযোগ পান; নিজের প্রদেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করার পর এবং বৈদেশিক সাহায্যের ন্যায্য হিস্যা পেলে কীভাবে তিনি তাঁর প্রদেশে সমৃদ্ধি আনতে চান, সে বিষয়ে ফারল্যান্ডকে বলেন।

ওই বৈঠকে মুজিব যেহেতু পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভের বিষয়ে বা এমনকি পাকিস্তানের সম্ভাব্য বিভক্তিকে কেন্দ্র করে সংকট সৃষ্টির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি, সেহেতু ফারল্যান্ডকেও বলতে হয়নি তিনি কী উদ্দেশ্যে ঢাকা এসেছিলেন। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দলিলে বলা হয়েছে: ‘ফারল্যান্ড লক্ষ করেন, মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের আলাদা হওয়ার পরিবর্তে একটি কনফেডারেশন ব্যবস্থাই শ্রেয় মনে করেন, তবে তিনি জোরের সঙ্গে দাবি জানান, “তাঁর জনগণকে” যেন তাদের অধিকার দেওয়া হয় এবং তাঁদের “ঔপনিবেশিক অবস্থা”র মধ্যে আটকে রাখা না হয়।’

বিজ্ঞাপন

নতুন সংকট

একই দিনে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গভর্নর হাউসে শেখ মুজিবের জন্য এক বিরাট সংকট অপেক্ষা করছিল। তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন, যেহেতু এলএফও সংশোধন করার মাধ্যমে ভুট্টোকে তাঁর দলের এমএনএদের নিয়ন্ত্রণ করার অন্যায্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, এবং যেহেতু ‘ছয় দফা’য় ছাড় দেওয়ার জন্য ভুট্টোর দাবি মেনে নেওয়া হয়নি, সেহেতু ভুট্টোর দল ৩ মার্চ হয়তো জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবে না। অধিবেশন কয়েক সপ্তাহের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হবে, এটা শোনার জন্য শেখ মুজিব মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শেখ মুজিব তাজউদ্দীন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে গভর্নর হাউসের বৈঠকে গিয়ে প্রাদেশিক গভর্নর অ্যাডমিরাল আহসান, কোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান, প্রদেশের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে দেখতে পান। গভর্নর আহসান শেখ মুজিবকে জানান যে পরদিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করবেন।

সেই বৈঠক সম্পর্কে সাহেবজাদা ইয়াকুব খানের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে: ‘আমাদের বলা হয়েছিল আমরা যেন অধিবেশন স্থগিতের বিষয়টি মুজিবকে জানাই। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমি ও ফরমান গভর্নর হাউসে মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তখন মুজিবের সঙ্গে ছিলেন তাজউদ্দীন। অধিবেশন স্থগিতের বিষয়টি জানানো হলে মুজিব বিচলিত হন। তিনি তাজউদ্দীনকে বাইরে যেতে বলেন, তারপর আমাদের বলেন যে এতে তিনি কট্টরপন্থীদের সঙ্গে গুরুতর সমস্যায় পড়ে যাবেন। তিনি অনুরোধ করেন, অধিবেশন যদি একান্তই স্থগিত করতেই হয়, তাহলে যেন একই সঙ্গে একটা নতুন তারিখও ঘোষণা করা হয়। আমরা তাঁকে কথা দিই যে আমরা তাঁর এই মত প্রেসিডেন্টকে জানাব। আমরা কয়েক দফায় সংকেতের মাধ্যমে সেটা জানাই এবং অনুরোধ করি যে একটা সুনির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করা হয় এবং রাওয়ালপিন্ডিকে আবারও এই মর্মে সতর্ক করি যে এটা না করা হলে পরিণতি গুরুতর হতে পারে। আমি ও আহসান মরিয়া হয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পীরজাদা ও জেনারেল হামিদকে আমাদের অভিমত সম্পর্কে অবহিত করি।’

গভর্নর আহসান যখন দেখলেন যে শেখ মুজিবের অনুরোধের পেছনে যুক্তি আছে, তখন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের নতুন তারিখ ঘোষণা করার অনুরোধ জানানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তিনি যখন ইয়াহিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁকে বিনা নোটিশে বরখাস্ত করা হয়।

[স্থানাভাবে সূত্র উল্লেখ করা হলো না। লেখকের বইয়ে সূত্র যথাযথভাবে উল্লেখিত হবে]

●ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মশিউল আলম