default-image

১৭ জানুয়ারি লারকানায় ইয়াহিয়া লক্ষ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দাবির প্রতি তাঁর সমঝোতামূলক মনোভাবকে সেনাবাহিনীর জেনারেলরা পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থকে খাটো করে দেখার প্রবণতা বলে ভাবছেন এবং এর ফলে তাদের মধ্যে প্রায়-বিদ্রোহের মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এই আশ্বাস পান যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানের ‘ঐক্য ও অখণ্ডতা’ রক্ষার জন্য তাঁর পদক্ষেপ সমর্থন করবে। এর মধ্যে ভুট্টো ঢাকায় এসে শেখ মুজিব ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট কোনো অর্জন ছাড়াই ৩০ জানুয়ারির মধ্যে ফিরে যান। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইয়াহিয়ার কঠোর পদক্ষেপ সমর্থন করবে, এ কথা জানার পর ইয়াহিয়ার মনে হয় এখন শেখ মুজিবকে ছয় দফার বিষয়ে ছাড় দিতে আরও জোরালোভাবে বলা যাবে, যা তিনি আগের মাসে ঢাকায় মুজিবের সঙ্গে আলোচনার সময় করতে পারেননি। ইয়াহিয়া শেখ মুজিবকে তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদ যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু মুজিব এর পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি থেকে থাকতে পারে এই সন্দেহে ইয়াহিয়ার অনুরোধ রক্ষায় অপারগতা প্রকাশ করেন; অজুহাত হিসেবে তিনি ইয়াহিয়াকে জানান যে তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই শাসনতন্ত্রের খসড়া প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত আছেন। মুজিব ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছিলেন। ইয়াহিয়া মুজিবকে আবারও আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বাঙালি মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দলকে ঢাকা পাঠান, কিন্তু তাঁরাও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান। ভুট্টো চাইছিলেন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন যেন মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের আগে ডাকা না হয়, সে জন্য ইয়াহিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন না।

মনে হতে পারে, শেখ মুজিবের ইয়াহিয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান এবং দ্রুত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর–কষাকষির অংশ। কিন্তু আসলে তা ছিল না, কারণ সাধারণ নির্বাচনের পর দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এমনকি আগের মাসে ঢাকায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার পরেও তার তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। শেখ মুজিব ও তাঁর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ইসলামাবাদে গিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার জন্য বারবার অনুরোধ আসতে থাকলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়। শেখ মুজিবের অনুসারী ছাত্রনেতারা অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করার দাবিতে তাঁর ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন। নেতারাও তাঁদের আশঙ্কা খতিয়ে না দেখে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে দৃঢ় এক নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবেন।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় ইয়াহিয়া সরকারকে সমর্থন করবে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এই আশ্বাস পাওয়ার পর ইয়াহিয়া পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ ইত্যাদি সরবরাহ বাড়িয়ে চলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা যখন দেখতে পেলেন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকা এবং শেখ মুজিবকে আলোচনার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই, তখন তাঁরা একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য মুজিবের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন। ‘একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা’কে তাঁরা ইংরেজিতে ইউনিলেট্যারাল ডিক্লারেশন অব ইনডিপেনডেন্স, সংক্ষেপে ইউডিআই বলতেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় থেকে শেখ মুজিবের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী সমর্থক গ্রুপে পরিণত হয়েছিল। ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করতে গোপন পরিকল্পনা দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে ঢাকায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্রগুলো ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে গভর্নর আহসানকে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে শেখ মুজিব তাঁর আস্থাভাজন আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেনকে একটি ‘গোপন পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করতে বলেন। ড. কামাল হোসেনের বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল এ রকম:

এখন এটা নথিভুক্ত করা যায় যে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে দলের প্রধান নেতাদের সঙ্গে শেখ মুজিবের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার সম্ভাব্যতা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকায় বিলম্বিত হচ্ছিল বলে আওয়ামী লীগের জন্য তার নিজস্ব বিকল্প পন্থাগুলো বিবেচনা করা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল একটি বিকল্প পন্থা...আমাকে স্বাধীনতার ঘোষণার একটি খসড়া প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল...যথাসময়ে একটি খসড়া হয়েছিল এবং ১০ ফেব্রুয়ারির দিকে তা শেখ মুজিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, তিনি সেটা নিজের কাছে রেখে দেন। খসড়া প্রস্তুত করার কাজে সহযোগী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ এবং এই পন্থা গৃহীত হলে স্বাধীনতা ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটা কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। আলোচনা অনুসারে সেই কর্মপরিল্পনার সবচেয়ে জরুরি অংশগুলোর মধ্যে ছিল প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ, মিছিল ইত্যাদি শুরু করা; লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। এসবের মাধ্যমে যখন সামরিক বাহিনীকে যথেষ্ট মাত্রায় বিভ্রান্ত করা যাবে, তখন প্রধান লক্ষ্য হবে রেডিও স্টেশন, সচিবালয় ও গভর্নর হাউস; নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিতে গভর্নরকে বাধ্য করা হবে।

কিন্তু শেখ মুজিব কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে আলমগীর রহমান নামে আমেরিকান অয়েল মার্কেটিং কোম্পানির এক বাঙালি কর্মকর্তা এবং ইন্টেলিজেন্সের গোপন এজেন্টকে ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের কাছে পাঠান। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা গ্রহণের সম্ভাব্যতা জানার জন্য শেখ মুজিব আলমগীর রহমানকে আর্চার ব্লাডের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এর জবাবে ব্লাড কীভাবে সাড়া দিয়েছিলেন, তা তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন:

আমি আলমগীরকে বলি, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে একটি ঐক্যবদ্ধ, অখণ্ডিত দেশ হিসেবেই দেখতে চায় এবং পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা গ্রহণের সম্ভাবনা আমি নাকচ করে দিই। আমি তাঁকে বলি যে আমরা মনে করি সেই ভূমিকা ইয়াহিয়াই পালন করছেন। আমি আরও বলি যে মুজিবের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে সম্ভাব্য আন্দোলন পাকিস্তান সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া আমাদের পক্ষে সংগত হবে না, কারণ সেটা হবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের নিজেদের জড়িয়ে ফেলা।

বিজ্ঞাপন
default-image

পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ড এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর আর্চার ব্লাডের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে ১২ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদ থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক বার্তায় লেখেন, ‘আমরা এই মর্মে সন্তোষ প্রকাশ করি যে পররাষ্ট্র দপ্তর আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত যে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা

পালন করবে, এই মর্মে আওয়ামী লীগ যে প্রতিশ্রুতি চেয়েছে, তা নাকচ করে এবং এক-অখণ্ড পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে কনসাল জেনারেল সম্পূর্ণ সঠিক আচরণ করেছেন।’

পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা ১৬ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বিশেষ সহকারী হেনরি কিসিঞ্জার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব ও সিআইএর ডিরেক্টরের কাছে একই ধরনের নির্দেশনা পাঠান। একই সঙ্গে তিনি পৃথকভাবে ওই তিন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জরুরি ভিত্তিতে জানতে চান, পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছ থেকে পাকিস্তানে সম্ভাব্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশনা পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সহকারী পররাষ্ট্রসচিব জোসেফ সিসকোকে প্রেসিডেন্টের নিদের্শনা অনুযায়ী অবিলম্বে তা করার নির্দেশ দেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি সিসকো তাঁর স্মারকপত্রে লেখেন, ‘আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাকিস্তানের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছি এই বিশ্বাস থেকে যে পাকিস্তান অখণ্ড থাকলেই আমাদের স্বার্থ সর্বোত্তমভাবে রক্ষিত হবে...এ মুহূর্তে ‘ঐক্যের’ পক্ষে আমাদের অবস্থান অব্যাহত আছে। তবে ভবিষ্যতে উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান এবং পাকিস্তান ভেঙে দুটি পৃথক রাষ্ট্রসত্তা হলে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য যা করতে হবে, সে জরুরি পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।’

কিন্তু পাকিস্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কী নীতি গ্রহণ করা উচিত, সে বিষয়ে অবহিত করতে কিসিঞ্জার ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে একটি স্মারকপত্র লেখেন:

ঢাকায় আমাদের কনসাল জেনারেল (শেখ মুজিবুর) রহমানকে একটি সংবিধানসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ করেছেন এবং রহমান পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার বিরুদ্ধে কোনো পন্থা বেছে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে গেছেন।

যাই হোক, আমরা হয়তো অচিরেই দেখতে পারি, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার বর্তমান ঝুঁকির মধ্যে আলোচনা, দর–কষাকষির অনেক উপাদান থাকা সত্ত্বেও আমরা সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি। এ থেকে প্রশ্ন উঠছে, পূর্ব পাকিস্তান যদি কখনো স্বাধীন হয়, তাহলে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে শেখ মুজিবের বিষয়ে অধিকতর নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত কি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যিনি মূলত বন্ধুসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করলে উপলব্ধি করা যাবে যে পাকিস্তানের অখণ্ডতা টিকিয়ে রাখার উপাদান অতি অল্পই অবশিষ্ট আছে। এ কারণেই আমাদের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ করার যুক্তিটি আসছে; কিন্তু তার বিপরীতে এটা সত্য যে পাকিস্তানের ভেঙে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে যাবে না।

অবমুক্ত ১১৮ নম্বর নথিটির নিচে এমন মন্তব্য করা হয়েছে. ‘স্মারকপত্রটি সম্পর্কে একটি নোটেশন থেকে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে প্রেসিডেন্ট সেটা দেখেছেন। নিক্সন সেটির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদের “কনসাল জেনারেল” শব্দটি থেকে শুরু করে বাক্যটির শেখ পর্যন্ত দাগ দিয়েছেন এবং হাতে লিখে মন্তব্য করেছেন, “গুড”।’ পরের অনুচ্ছেদের তৃতীয় বাক্যটি তিনি দাগিয়েছেন। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘শেখ মুজিবের বিষয়ে আমাদের অধিকতর নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত কি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যিনি মূলত বন্ধুসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।’ তারপর তিনি মার্জিনে এই মন্তব্য লিখেছেন: ‘এখনো নয়—ঠিক আছে—কিন্তু এমন কোনো অবস্থান নেওয়া উচিত হবে না, যা [পাকিস্তানের] ভাঙনের পক্ষে উৎসাহ জোগাবে।’

(স্থানাভাবে সূত্র উল্লেখ করা হলো না। লেখকের বইয়ে সূত্র যথাযথভাবে উল্লেখিত হবে)

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মশিউল আলম