এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞের অধ্যায়

মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে অন্যতম ভয়ংকর গণহত্যার ঘটনাটি ঘটে ঢাকার অদূরে জিঞ্জিরায় ২ এপ্রিল ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধের চিকিৎসা ইতিহাস রচনার সূত্র ধরে এই রোমহর্ষ গণহত্যার নানা ইতিবৃত্ত সংগ্রহ করেছি। জিঞ্জিরা গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো লেখা হয়নি। কিন্তু নানাজনের স্মৃতিচারণায়, মুক্তিযুদ্ধের কিছু দলিলে তার বিবরণ আছে, সেই সঙ্গে এ বিষয়ে নিবিড় সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে আমরা সংগ্রহ করেছি কিছু নতুন তথ্য।

বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পারে কেরানীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন জিঞ্জিরা। পাকিস্তানি আমল থেকে নানা রকম ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য এলাকাটি বিখ্যাত। একসময় ‘মেড ইন জিঞ্জিরা’ কথাটিও বেশ প্রচলিত ছিল, খানিকটা নেতিবাচক অর্থে। জনসংখ্যা জরিপের তথ্য থেকে জানা যায়, জিঞ্জিরা ও পার্শ্ববর্তী শুভাঢ্যা এবং কালিন্দী ইউনিয়নে জনবসতি বরাবর বাংলাদেশের গড় যেকোনো ইউনিয়নের চেয়ে বেশি। এলাকায় নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকাই এই ঘনবসতির কারণ বলে বিবেচনা করা যায়।

বিজ্ঞাপন

গণহত্যার পরিকল্পনা

নানা সূত্র থেকে আমরা জানতে পারি, ২৫ মার্চে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাকাণ্ড শুরু হলে শহরের অসংখ্য আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে জিঞ্জিরা, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল। তিনটি ইউনিয়নের জনসংখ্যার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি মানুষ তখন বসবাস করছিল ওই এলাকায়। সেখানকার মানুষের ঘরবাড়ি, বারান্দা, বৈঠকখানা, স্কুল, মসজিদ—সর্বত্র তখন আশপাশের এলাকা থেকে আসা অগণিত আশ্রয়প্রার্থী জড়ো হয়েছিল। তারা সবাই পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল সেখানে। এই রকম একটি পর্বে ২ এপ্রিল এলাকাজুড়ে মর্মস্পর্শী হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

জিঞ্জিরা গণহত্যা পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটটি পাওয়া যায় ঢাকায় তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রেস অফিসার সিদ্দিক সালিকের লেখা উইটনেস টু সারেন্ডার বইটিতে। সিদ্দিক সালিক ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সঙ্গে একই প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। সালিক জানাচ্ছেন, তিনি যখন ঢাকার সামরিক আইন প্রশাসকের সদর অফিসে দায়িত্বরত, তখন পাকিস্তান সমর্থক তাদের আস্থাভাজন কিছু বাঙালি নিয়মিত তাদের ঢাকার তথ্য সরবরাহ করত। তেমনই একজন আস্থাভাজন বাঙালি পাকিস্তানি সেনা সদরে এসে খবর দেয় যে বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জে কয়েক হাজার বিদ্রোহী বাঙালি ইপিআর এবং পুলিশ সদস্য সংগঠিত হচ্ছে এবং তারা পাকিস্তানিদের ওপর পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবরটি তাদের দেওয়া হয় সম্ভবত ১ এপ্রিল। সেদিনই খবরটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেনা সদর অনতিবিলম্বে কেরানীগঞ্জে একটি চূড়ান্ত আঘাতের সিদ্ধান্ত নেয়।

default-image

ফজরের আজানের আগে অভিযান শুরু

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহানজেন আরবাব। তাঁর অধীনে ১৮ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ঢাকায় এই অপারেশন চালায়। অপারেশন সার্চলাইটের মূল নীতি ছিল নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পরিপার্শ্বে ভয়ংকর ত্রাসের জন্ম দেওয়া। ১৮ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একজন সেনা অফিসারকে জিঞ্জিরা অপারেশনের কমান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে অফিসারের নাম উল্লেখ করেননি সালিক। কিন্তু জানিয়েছেন যে সে কমান্ডার ফিল্ড গান, মর্টার, রিকয়েল্লেস রাইফেলসহ তার বাহিনী নিয়ে ১ এপ্রিলের মাঝরাতেই রওনা দেয় বুড়িগঙ্গার দিকে। পুরো বাহিনী তাদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘাঁটি গাড়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে। বুড়িগঙ্গার তীরে শতাব্দীপ্রাচীন পরীবিবি মসজিদের ছাদে তারা বসায় মর্টার, মেশিনগান। তারা পরিকল্পনা করে, ভোরের আলো ফোটার আগে মসজিদের ওপর থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণের কাভারে পাকিস্তানি সেনারা গানবোটে করে নদী পার হয়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে নির্মূল করে আসবে সেখানকার সম্ভাব্য বিদ্রোহের চেষ্টা। পরিকল্পনামতো ২ এপ্রিল ফজরের আজানের প্রাক্কালে শুরু হয় অভিযান।

এই অভিযানের নেপথ্য প্রেক্ষাপট সালিকের বইয়ে পেলেও সেই নারকীয় অভিযানের প্রত্যক্ষ বিবরণ আমরা পাই নানাজনের স্মৃতিচারণায়। তাদের স্মৃতিচারণায় আমরা জানতে পারি, ভোরের আলো-আঁধারিতে আচমকা বিকট মর্টারের শব্দে ঘুম ভাঙে জিঞ্জিরাবাসীর। পরীবিবির মসজিদ থেকে মর্টারের গোলা এসে একের পর এক পড়তে থাকে বাড়িঘরের ওপর, মুহূর্তে আগুন জ্বলে ওঠে বাড়িগুলোতে। ইতিমধ্যে গানবোটে সদরঘাট, পোস্তগোলা থেকে পাকিস্তানি সেনারা এসে নামে কেরানীগঞ্জের মাটিতে। নেমেই গানপাউডার দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিতে দিতে এগোতে থাকে তারা আর চালিয়ে যায় এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার। আগুন থেকে বাঁচার জন্য নিরুপায় মানুষ প্রাণভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকলে সেই নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালাতে থাকে পাকিস্তানি সেনারা।

বিজ্ঞাপন
আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে ২ এপ্রিল শেষ বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আসেন ডা. মতিওর রহমান, আর এস শামসুদ্দিন, অ্যানেসথেসিয়ার অধ্যাপক কাদেরসহ একটি টিম। ওই টিমের সঙ্গে ছিলেন মিটফোর্ডের সার্জন জহুরুল মওলা চৌধুরী।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

ওই দিনটির মর্মস্পর্শী বর্ণনা আছে কবি নির্মলেন্দু গুণের আত্মজীবনীতে, যিনি সেদিন আশ্রয় নিয়েছিলেন জিঞ্জিরায়। প্রাণভয়ে একবার মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। তারপর একটি বাড়ির লাকড়িঘরে আশ্রয় নিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। কিন্তু প্রত্যক্ষ করেন বীভৎস হত্যাযজ্ঞ। তিনি দেখেছেন, মানুষ মর্মন্তুদ চিৎকার করে চারদিকে ছুটছে, তাদের কারও গায়ে আগুন জ্বলছে, কেউ লুটিয়ে পড়ছে গুলি খেয়ে। দেখেছেন দৌড়ে পালাতে গিয়ে গুলি লেগে উড়ে গেছে মাথার খুলি, তবু গতি জড়তায় মাথাবিহীন দেহ ছুটছে পরাবাস্তব দৃশ্যের মতো, দেখেছেন স্ত্রী মুমূর্ষু স্বামীর মাথা কোলে নিয়ে আছেন, গুলির আঘাতে স্বামীর মাথা থেকে ছিটকে বেরিয়ে আছে মগজ। মসজিদকে নিরাপদ ভেবে সেখানে আশ্রয় নিয়েও সেদিন রেহাই পায়নি মানুষ। আমরা জানতে পারি, কালিন্দী ইউনিয়নের মান্দাইল মসজিদের কাছে একসঙ্গে ৬০ জন মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য, সেদিন ছিল শুক্রবার জুমার দিন। সাবেক কূটনীতিবিদ আবদুল হান্নান ডেইলি স্টার পত্রিকায় জিঞ্জিরা গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, অলৌকিকভাবে তাঁর পরিবার সেদিন বেঁচে গেলেও সেই নারকীয় ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী চিরদিনের জন্য স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। সূত্রভেদে আমরা পেয়েছি, সেদিন জিঞ্জিরায় এক হাজার থেকে তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

জিঞ্জিরা হত্যাকাণ্ডের পরের পর্বের কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য পাই সিদ্দিক সালিকের বইয়ে। সালিক জানাচ্ছেন, কেরানীগঞ্জ অপারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারটির সঙ্গে সেদিন সন্ধ্যায় দেখা হলে অফিসারটি তাঁকে জানান যে কেরানীগঞ্জে আসলে কোনো অস্ত্রধারী পুলিশ, রাইফেলস সদস্য বা অস্ত্রশস্ত্র—কিছুই ছিল না। তিনি স্বীকার করেন যে পুরো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অপারেশন চালানো হয়েছে। সেই সেনা অফিসারের নাম আমরা পাইনি, কিন্তু সালিক জানাচ্ছেন, সে অফিসারটি তাঁকে বলেছেন যে এই জিঞ্জিরা অভিযানের জন্য তিনি বিবেকের দংশনে ভুগছেন এবং ভুগবেন ভবিষ্যতে।

হত্যাযজ্ঞ শেষে পাকিস্তানি সেনারা অস্ত্র গুটিয়ে চলে গেছে ঠিকই, কিন্তু এলাকাজুড়ে তখন হাজারের ওপর মৃতদেহ এবং শত শত আহত, অগ্নিদগ্ধ মানুষ। জিঞ্জিরা তখন এক মাতমের নগর। যারা বেঁচে গেছে, তারা তখন প্রাণপণে চেষ্টা করে আহত ব্যক্তিদের বাঁচিয়ে তুলতে। বেপরোয়া হয়ে তারা আহত ব্যক্তিদের নিয়ে যায় মিটফোর্ড হাসপাতালে। আমরা সন্ধান পাই, সে সময় আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছেন সেখানকার বহু পল্লিচিকিৎসক। আমরা এমন এক পল্লিচিকিৎসক নুর মোহাম্মদের খোঁজ পাই, যিনি শুশ্রূষা দিয়েছেন আহত অনেক মানুষকে। শাঁখারীবাজারের অমর সুর আমাদের জানান, গুলি থেকে বাঁচতে তিনি আর তাঁর বোন সাগরিকা সুর যখন প্রাণভয়ে পালাচ্ছিলেন, তখন তাঁর বোনের গায়ে গুলি লাগলে তিনি প্রাণভয়ে বোনকে রেখেই ছুটে পালিয়েছিলেন সেদিন। পরে সেই পল্লিচিকিৎসক প্রয়াত নুর মোহাম্মদই তাঁর বোনকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মিটফোর্ডে, বেঁচে উঠেছিল তাঁর বোন।

মিটফোর্ড ও ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক দল

অমর সুরের বোনের মতো শত শত আহত মানুষ সেদিন এসে উঠেছিল মিটফোর্ডে। কিন্তু আগের দিন রাত থেকে মিটফোর্ড হাসপাতাল পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে থাকায় হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা আতঙ্কে এবং প্রাণভয়ে নিজ নিজ জীবন নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছিলেন। মুষ্টিমেয় যে কজন ডাক্তার–নার্স আটকা ছিলেন, তাঁদের পক্ষে শত শত আহত রোগীর ভিড় সামাল দেওয়া ছিল অসম্ভব। এই অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ফোন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে, অনুরোধ করেন জরুরি ভিত্তিতে একটি সার্জিক্যাল টিম পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। ২ এপ্রিল শেষ বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আসেন অধ্যাপক ডা. মতিওর রহমান, আর এস শামসুদ্দিন, অ্যানেসথেসিয়ার অধ্যাপক কাদেরসহ একটি টিম। ওই টিমের সঙ্গে ছিলেন মিটফোর্ডের সার্জন জহুরুল মওলা চৌধুরী। মিটফোর্ড হাসপাতালে তখন অচলাবস্থা।

২০১৯ সালে আমাদের সঙ্গে আলাপে সেদিনের মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্ণনা দেন অধ্যাপক মতিওর রহমান ও ডা. শামসুদ্দিন। সেদিন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি স্টেরিলাইজ করার কর্মচারী ছিল না, পানির পাম্প চালানোর অপারেটর ছিল না, স্টোরের লোক ছিল না। তাঁরা টের পান, এই ছোট ডাক্তারের দল নিয়ে হাসপাতাল ভরা এই শত শত আহত ব্যক্তির চিকিৎসা করা অসম্ভব। তাঁদের তখন একটি নির্মম সিদ্ধান্ত নিতে হয়। জরুরি বিভাগ থেকে বেছে বেছে সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল অথচ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে—এমন রোগীদের শুধু তাঁরা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে আসেন। আর কোনো বিকল্প না থাকায় এক চরম মানবিক এবং নৈতিক দ্বিধার এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাঁদের। একের পর এক অপারেশন করে গেছেন তাঁরা, বাঁচিয়ে তুলেছেন অনেককে, আবার চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখছেন মানুষকে। প্রতিটি নতুন অপারেশনে প্রয়োজন নতুন রাবার সিট, নতুন যন্ত্রপাতির সেট, নতুন গাউন, মাস্ক, গ্লাভস। কিন্তু উপায়ান্তর না পেয়ে কলের স্তিমিত পানির প্রবাহে একই যন্ত্র ধুয়ে, একই গাউন, গ্লাভস পরে অপারেশন চালিয়েছেন তাঁরা।

অধ্যাপক মতিওর রহমান আমাদের বলেছেন, মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে সেদিন এভাবে সারা রাত এবং পরদিন বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অপারেশন চালিয়ে গেছে তাঁদের যৌথ সার্জিক্যাল টিম। ভোররাতে ক্লান্ত হয়ে মুক্ত বাতাস নিতে বারান্দায় এসে তাঁরা দাঁড়িয়েছেন একবার, দেখেছেন নদীর ওপারে দূরে তখনো কেরানীগঞ্জ আগুনে পুড়ছে। ধোঁয়া চারদিকে। হাসপাতালে তখনো অসংখ্য মৃত্যুপথযাত্রীর আহাজারি। আবার তাঁরা ছুটে গেছেন অপারেশন থিয়েটারে আরও একটি জীবন বাঁচানোর চেষ্টায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই চিকিৎসা সেনাদের অবদান লিখিত হয়নি।

উল্লেখ্য, জগৎ–জোড়া মানুষ ভিয়েতনামের ঐতিহাসিক মাই লাই গণহত্যার কথা জানে, কিন্তু তার চেয়েও ভয়ংকর জিঞ্জিরা হত্যাকাণ্ডের খবর তেমন কেউ জানে না। আমরা উইকিপিডিয়া, উইকিজিরো ইত্যাদি ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখেছি, জিঞ্জিরা হত্যাকাণ্ড নিয়ে রয়েছে বিস্তর ভুল তথ্য। আমরা গভীর সন্দেহে ভেবেছি, কারা এই তথ্য সরবরাহ করছে, আমরা জানি কি? আমরা রুয়ান্ডার বিশ্ব জেনোসাইড মিউজিয়ামে গিয়ে দেখেছি, পৃথিবীর নানা দেশের ছোট–বড় গণহত্যার তথ্য থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে নেই বাংলাদেশের উল্লেখ। আমরা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিইনি আমাদের দেশের ওপর বয়ে যাওয়া নৃশংসতার ইতিবৃত্ত, এমনকি নিজেরাও মনে রাখিনি বিশেষ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা দাবি করি, বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উদ্যোগ আরও জোরদার হোক, সেই সঙ্গে দেশের নানা প্রান্তের প্রতিটি গণহত্যার ঘটনা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হোক জাতীয় পর্যায়ে। সবাই যেন এসব ঘটনা জানে, সেই ব্যবস্থাও করা হোক। সেই সূত্রে ২ এপ্রিল হোক ‘জিঞ্জিরা গণহত্যা দিবস’।

লেখক: শাহাদুজ্জামান: কথাসাহিত্যিক ও জনস্বাস্থ্যবিদ।

এবং খায়রুল ইসলাম: ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক।