পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে আশ্রয়ের খোঁজে ভারতের উদ্দেশে
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে আশ্রয়ের খোঁজে ভারতের উদ্দেশেছবি: সংগৃহীত

একাত্তরের ২৫-২৬ মার্চের মধ্যরাতের গণহত্যার পর থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরকে আবদ্ধ করে রেখেছিল সন্ত্রাসের দৃঢ়মুষ্টিতে। যদিও তারা তাদের বাহিনীর বৃহত্তর অংশকে পাঠিয়েছিল প্রদেশের বাকি অংশকে করায়ত্ত করতে। সর্বত্র নজরদারি, দীর্ঘমেয়াদি কারফিউ, যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, সংক্ষিপ্ত বিচারে প্রাণদণ্ড ইত্যাদির মাধ্যমে নগরজুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব পুরোদমে জারি ছিল। পাকিস্তানিরা ভেবেছিল কয়েকটি সংবাদপত্র বন্ধ করে আর কড়া সেন্সরশিপের মাধ্যমে প্রদেশের অন্যত্র কী ঘটছে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে অন্ধকারে রাখবে।

কিন্তু গরিব মানুষজন যাদের শহরের অভ্যন্তরে আসা-যাওয়ার জরুরি তাগিদ ছিল, তারা বয়ে আনতে থাকে সেনাবাহিনীর নির্যাতনসংক্রান্ত নানা খবর। আতঙ্ক, দুর্দশা, ঘৃণা আর বিভিন্ন স্থানের সর্বাত্মক প্রতিরোধের খবর। প্রতিরোধের খবর অবশ্য ইতিমধ্যে কমে গিয়েছিল। এসব খবর নগরবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে চারদিকে চাউর হয়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে তাঁরা বিদেশি বেতার সম্প্রচারের মাধ্যমে শুনতে থাকেন সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, গণহারে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, বাঙালি সেনাদের বিদ্রোহ, স্বাধীনতার জন্য লড়তে তাজউদ্দীন আহমদের ১০ এপ্রিলের ঘোষণা। তার পরপরই প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন এবং এ–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিরামহীন খবর। এই দুঃসহ দখলদারির অবসান ঘটাতে কিছু একটা করার আকাঙ্ক্ষাও মানুষের মনে দানা বাঁধতে শুরু করে এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধে।

বিজ্ঞাপন

শহীদুল্লা কায়সারের পরামর্শ

এ রকম পটভূমিতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে, আমার অত্যন্ত এক পরিচিতজন শহীদুল্লা কায়সার এলেন দেখা করতে। তিনি সরকারবিরোধী একটি দৈনিক পত্রিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গোপন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস৵ হিসেবে বিতর্কিত মতামত পোষণের দরুন তখন খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। শহীদুল্লা কায়সার আমাকে স্বল্প সময়ের জন্য কলকাতায় যেতে রাজি করাতে চেষ্টা করেন। তিনি চেয়েছিলেন আমি কলকাতায় গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করি। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করে ঢাকার কিছু সক্রিয় গোপন গ্রুপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলাপ করি। যাতে তাঁরা শত্রুকবলিত ঢাকা শহরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।

এই কাজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমি আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জিয়াউল হকের সঙ্গে আলাপ করি। তিনি ছিলেন একজন সচ্ছল ব্যবসায়ী। তিনি জোরালোভাবে এই প্রস্তাবের সমর্থন করেন ও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই সফরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেন।

আমাদের ছোট দলের অন্য আরেকজন উপায়ক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মোখলেসুর রহমান (সিধু মিয়া)। তিনি শহরের অদূরে স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা উপকরণ পাঠাচ্ছিলেন। তিনিও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন এবং আমার সফরসূচি ঠিক করেন। তিনি সীমান্ত পারাপারের একটি তুলনামূলক নিরাপদ পথ চিহ্নিত করেন এবং সীমান্ত পার হতে সহযোগিতার জন্য দুজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়োগ করেন। তাঁরা দুই সপ্তাহ পর সম্ভবত সেই একই পথে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দরকার হলে অন্য কোনো পথ দিয়ে আমার ফিরতি ভ্রমণের জটিল ব্যবস্থাও করে রাখবেন। এসব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে এক সপ্তাহ সময় লাগে এবং ৩ মে তারিখে আমি শহর ছাড়ি।

বিজ্ঞাপন

জাফর নকভির সতর্কবাণী

ঢাকা ত্যাগের তিন দিন আগে আমি গুলশানে আমার পাশের বাড়িতে যাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাফর নকভির সঙ্গে দেখা করতে। তিনি আমাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন জরুরি ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য। জাফর নকভি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আবাসিক পরিচালক। আর আমার পাশের বাড়িটিই ছিল তাঁর কোম্পানির গেস্টহাউস। তিনি ছিলেন লাহোরের অধিবাসী। আমাদের পরিচয় হয়েছিল ১৯৬২ সালে। তখন তিনি পাকিস্তান টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদন তৈরির কাজে প্রায়ই ঢাকায় আসা–যাওয়া করতেন।

জাফরের সঙ্গে দেখা হতেই আমাকে বললেন, শহরে কিছুকাল না থাকতে। যেহেতু সংঘর্ষের বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আমি তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, কেন এই সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটার আশঙ্কা? জবাবে জাফর বললেন, প্রতিরোধযোদ্ধারা ভারতের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চলছে। এ অবস্থায় সরকার আর কতকাল নিস্পৃহ থাকতে পারে? আমি জানতাম, ইআরএলের কর্মকর্তা হিসেবে জাফর গভর্নর টিক্কা খানের কাছে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুবার রিপোর্ট করতে যেতেন প্রদেশের পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্টের উৎপাদন ও সরবরাহ বিষয়ে। কাজেই আমি ধরে নিই, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আসন্ন আক্রমণ বিষয়ে তাঁর সতর্কবাণীর একটা বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। আমি জাফরের কাছ থেকে ফিরে এলাম।

দুই দিন আগে আরেকটি সূত্র থেকে আমি এ ধরনের একটা অনুমান শুনেছিলাম যে পাকিস্তান চীনকে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে হামলার মাধ্যমে কৌশলগত সহায়তা দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। যাতে পাকিস্তান ভারতের সীমান্ত বরাবর বিদ্রোহী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টস (ইবিআর) ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) ক্যাম্পগুলোর ওপর তড়িৎগতিতে আক্রমণ চালাতে পারে।

default-image

আগরতলা হয়ে কলকাতায়

৩ মে আমি হাঁটাপথে ঢাকা ত্যাগ করি। ৬ মে সীমান্ত পার হয়ে সকাল সকাল আগরতলায় পৌঁছাই। ওই দিনই সন্ধ্যাবেলায় বিমানযোগে কলকাতা পৌঁছাই। পরদিন সকালবেলায় পার্ক অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ মিশনে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের হদিস করতে গিয়ে আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামের সাক্ষাৎ পাই। তিনি সে সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আমীর-উল-ইসলাম প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য আমাকে দেন। আরও বিস্তারিত ব্রিফিংয়ের জন্য পরদিন একটি সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেন। আরও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের সফর শেষ করে ফেরার পর দ্রুতই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করে দেবেন।

বিজ্ঞাপন

অল্প সময় পরেই একই জায়গায় আমার আরেকজন কাছের বন্ধু মোহাম্মদ নুরুল কাদেরের সাক্ষাৎ পাই। তিনি একাত্তরের মার্চে পাবনায় ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। নুরুল কাদের কেবল নিজের বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এক দুঃসাহসী প্রতিরোধযুদ্ধ চালিয়েছিলেন। এই যুদ্ধের পরপরই নুরুল কাদের সাধারণ প্রশাসনের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি তাজউদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধানে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির জন্য কাজ করছিলেন।

পরবর্তী দুই দিনে নুরুল কাদেরের সঙ্গে দুবার দীর্ঘ বৈঠক হয়। তখন তিনি আমার কাছে তাঁর বিস্তারিত কাজকর্ম ও নানা জায়গা থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জের বর্ণনা করেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন তাঁরা অধিকৃত অঞ্চলে মুক্তিবাহিনী পাঠানোর গতি শ্লথ করে দিয়েছেন। নুরুল কাদের বললেন, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শত্রু অধিকৃত দেশের অভ্যন্তরে অধিকতর সংখ্যায় মুক্তিযোদ্ধা পাঠানোর মতো অবস্থা সৃষ্টি এখনো অনিশ্চিত।

আমীর-উল-ইসলামও যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর আরোপ করেন ভারতে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য।

আমার কাছে এটা কিছুটা গোলমেলে মনে হলো। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ কার্যনির্বাহক প্রতিরোধযুদ্ধকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের কেউই বলতে পারছিলেন না, কেন তা এযাবৎ করা যায়নি।

তাজউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ

default-image

১২ মে সকাল ১০টায় আমি বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের একটি দোতলা বাড়িতে পৌঁছাই। এরপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় দোতলার ছোট একটা কক্ষে। সেখানে আমি দেখতে পাই তাজউদ্দীন দরজার পাশে তাঁর চিরাচরিত হাসিমুখে, তাঁর নিত্যদিনের হালকা ধূসর রঙের ট্রাউজার আর সাদা ছোট আস্তিনের শার্ট পরা অবস্থায়। অবয়বে একজন বিদ্রোহী নেতার কোনো দৃশ্যমান ছাপ ছাড়াই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি মৃদু অভিযোগ জানালেন, কেন আমি এত দেরিতে এলাম। তিনি এই ধারণার বশবর্তী ছিলেন যে দুই সপ্তাহ আগে তাঁর পাঠানো বার্তা আমি পেয়েছিলাম, যা আদতে আমার কাছ পৌঁছায়নি।

এর আগে তাজউদ্দীনের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ৫ মার্চ। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন আমি যাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আগাম আক্রমণের বিষয়ে মেজর মসিহ-উদ-দৌলার পাঠানো বার্তা নিয়ে তাজউদ্দীনের সঙ্গে আলাপ করি। কারণ, দৌলা চেয়েছিলেন এ রকম সিদ্ধান্ত আসতে হবে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃত্বের কাছ থেকে। তাজউদ্দীন আমাকে বলেছিলেন, এ ক্ষেত্রে এ ধরনের পরামর্শের কোনো সুযোগ নেই। তাজউদ্দীন আরও বলেছিলেন, তাঁর দলের অভ্যন্তরে তখন এই মতামতই প্রবল ছিল যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কোনোরকম বাড়াবাড়ি করতে সাহস করবে না। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রদেশে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুকূলে কাজ করছে।

তাজউদ্দীন চেয়েছিলেন আমি যেন এই ধারণার যৌক্তিকতা যাচাই করে দেখি। কিছুটা অনুসন্ধান চালানোর পর দ্বিতীয়বার আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করি মার্চের ১১ তারিখে। তখন তাঁকে বলি যে যুক্তরাষ্ট্রও ঢাকার অন্য দেশের কনস্যুলেটগুলোর মতোই অত্যাবশ্যক নয় এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এটা ইঙ্গিত করছে তাঁদের এমন আশঙ্কাই রয়েছে যে পাকিস্তান শিগগিরই একটা গভীর সংকটের দিকে পা বাড়াবে।

দ্বিতীয়বার দেখা করার সময় আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা মেজর দৌলার আগাম আক্রমণের প্রস্তাবকে কাজে লাগাবেন কি না। তিনি বলেন, তিনি তা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প দেখছেন না। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর একেবারেই কোনো ক্ষমতা নেই।

তৃতীয়বার আমি স্বল্প সময়ের জন্য তাঁর সঙ্গে মিলিত হই মার্চের ২২ তারিখ সকালে। উদ্দেশ্য ছিল ইয়াহিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তরের নতুন বিকল্প প্রস্তাব বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান জানতে। কিন্তু অন্য অনেকের উপস্থিতিতে কথা বলতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। তবু তিনি আসন্ন ঘটনা বিষয়ে অনিশ্চয়তার স্পষ্ট ইঙ্গিত করেছিলেন। তারপর সমুদ্রসম বিশাল পরিবর্তন ঘটে যায়।

যাহোক, কলকাতায় বালিগঞ্জের বাড়িতে দেখা হওয়ার পর ব্যক্তিগত কুশলাদি বিনিময় শেষে প্রথম যে প্রশ্নটি তাজউদ্দীন করলেন তা হলো, ঢাকায় আমার দেখা মানুষজনের কত অংশ মনে করে যে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা সম্পর্কে তাঁদের কতখানি আস্থা আছে? আমি স্বীকার করি যে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু আমার জানা নেই। মোটের ওপর জনগণ তখন পর্যন্ত এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত ছিল যে রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে কোনো আলাপ আলোচনা করত না। তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক এসব বিষয়ে কথা বলত এবং তারা সম্ভবত বিশ্বাস করত যে এই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ায় চেষ্টা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

তাজউদ্দীনকে আরও বলেছিলাম, মানুষের আস্থা সম্ভবত তাদের পক্ষেই তৈরি হবে যারা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিরোধযুদ্ধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে এবং সীমান্তের এপার থেকে আক্রমণ সংগঠিত করতে পারবে। এটা একটা ভালো লক্ষণ যে সম্প্রতি কিছুসংখ্যক গুপ্ত সংগঠন এবং যাদের সামর্থ্য সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা নেই, তারা ঢাকা শহর ও আশপাশের অঞ্চলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বুঝতে পারা যায় সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মনোবল ক্রমেই তলানিতে চলে যাচ্ছে। তড়িৎগতিতে এটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা প্রয়োজন। আমার মনে হয় একমাত্র যে উপায়ে এই মনোবল বৃদ্ধি করা যেতে পারে, তা হলো সীমান্তের এপার থেকে ইবিআর এবং ইপিআরের বিদ্রোহীদের পাঠিয়ে তুলনামূলক দুর্বল পাকিস্তানি অবস্থানগুলোর ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো। (চলবে)