লিডিং ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে বড় পরিসরের এই শহীদ মিনারে স্থান পেয়েছে ৫২ ভাষার ‘মা’ বর্ণমালা।
লিডিং ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে বড় পরিসরের এই শহীদ মিনারে স্থান পেয়েছে ৫২ ভাষার ‘মা’ বর্ণমালা। ছবি: প্রথম আলো
default-image

কথিত আছে, আমাদের দেহের ছন্দের মতোই আমাদের মাতৃভাষা। এই ছন্দেই মানুষ খুঁজে পায় তার শুদ্ধাচার, প্রত্যাবর্তন করে ‘মা’র কাছে, যিনি বিশ্বময় বিস্তৃত। লিডিং ইউনির্ভাসিটির প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী সৈয়দ রাগীব আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় ‘মা, অবাক আলোর লিপি’ শহীদ মিনারটি স্থপতি রাজন দাশের এক অসাধারণ সৃষ্টি। এই নান্দনিক স্থাপত্যকর্ম আমাদের এক নির্মল অনুভূতির জন্ম দেয়। রাজনৈতিক-সামাজিক-মানসিক—সব ক্ষেত্রেই যে মাতৃভাষা অত্যাবশকীয়, এই দর্শনটা স্থপতির পরমোৎকৃষ্ট নকশায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। প্রত্যেকের মাতৃভাষা যে তার বেড়ে ওঠা, তার জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য, এই স্থাপত্যকর্ম দেখলেই আমরা অনুভব করি।

পৃথিবীতে অনেক ভাষাই যে হারিয়ে গেছে বা সংকটে আছে, সেই বেদনাদায়ক সত্যটিও স্থপতি রাজনের অনবদ্য কাজের মধ্যে আমরা উপলব্ধি করি। একটি জাতির মাতৃভাষাই তার প্রাণ, এটা না থাকলে তার কীই–বা পরিচয়? লেখক স্যামুয়েল জনসন দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় দুঃখ পাই, যখন কোনো ভাষা হারিয়ে যায়। কারণ, ভাষাই একটা জাতির বংশপরিচয়।’

বিজ্ঞাপন

আমাদের চারপাশেই যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভাষা সংকটে আছে, সিলেটের নাগরী ভাষার বিলুপ্তি ঘটেছে, তা একটি শিল্পকর্মের মাধ্যমে স্থপতি রাজন আমাদের দেখিয়ে দিলেন। কেবল বাঙালি জাতির ভাষা-স্বাধীনতা- মুক্তিসংগ্রাম নয়, বিশ্বের সব জাতির জন্য যে তাদের মাতৃভাষা, তাদের স্বাধীনতার অধিকার আছে, এই শহীদ মিনার তারই কাব্যিক প্রকাশ।

এই বোধটা আমাদের ও অনাগত প্রজন্মের কাছে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য স্থপতি রাজন দাশকে ধন্যবাদ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই শহীদ মিনার আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।

লেখক : সভাপতি, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) সিলেট শাখা