সূর্যডুবির আলোকচ্ছটায় নানা ভাষার ‘মা’ বর্ণমালা চিকচিক করে ওঠে
সূর্যডুবির আলোকচ্ছটায় নানা ভাষার ‘মা’ বর্ণমালা চিকচিক করে ওঠে ছবি: প্রথম আলো
default-image

মায়ের রূপ সব দেশে সবকালে সব সন্তানের কাছেই অভিন্ন ও সরল। ‘মা’ ধ্বনিতেই এর তাৎপর্য নিহিত। এটি জগতের মধুরতম শব্দ। পৃথিবীর প্রায় সব ভাষাতেই গর্ভধারিণী মায়ের নামের উচ্চারণ ‘ম’ ধ্বনি দিয়ে শুরু। আমাদের ভাষাসংগ্রাম, স্বাধীনতাসংগ্রামে অনেক আত্মত্যাগের মধ্যে এখনো শহীদমাতার গল্পগাথা মুখ্য এক বিষয়। মায়ের ভাষাতেই মানব জাতির সবচেয়ে বেশি সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য।

বাঙালির ইতিহাসে এই মাতৃভাষাই বারবার আত্মপরিচয়ের সঠিক ঠিকানা বাতলে দিয়েছে। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ বাঙালি জাতির আত্ম-আবিষ্কারের দিন, নবজাগরণের দিন, স্বাধীনতার-চেতনার উন্মেষের দিন। প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল বাংলা মায়ের জবান। মাতৃভাষার কণ্ঠ রোধ করা যায় না, একে মুছে ফেলাও যায় না। আমরা চাই ‘জগৎ–জুড়ে উদার সুরে’ মাতৃভাষার মধুর ধ্বনি উচ্চারিত হোক। এটাই তো আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে একটি শহীদ মিনার হতে পারে সবাইকে স্মরণের প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

‘মা, অবাক আলোর লিপি’ নামের এই শহীদ মিনারে বিশ্বমাতা আর আমাদের সব সংগ্রামে শহীদমাতার আসন পাতা হয়েছে। সব মায়ের সম্মিলনের মাঝে বাংলা ‘মা’ মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বাংলার সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব বর্ণমালায় ‘মা’ ধ্বনি এই মিনারের খাঁজে খাঁজে খচিত রয়েছে। ইতিহাসের পথের বাঁকে বাংলা ভাষা যেসব ভাষার সাক্ষাৎ পেয়েছে, স্পর্শ পেয়েছে, সেসব ভাষার মা শব্দও এই মিনারের শরীরে অলংকার হয়ে আছে। সব মিলিয়ে ৫২টি ভাষার নিজস্ব বর্ণমালায় মা শব্দের অংশগ্রহণ রয়েছে এখানে।

মাতৃভাষাহীন জাতি মৃতপ্রায় জাতি। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষার মধ্যে তিন হাজার ভাষাই বিলুপ্তির পথে। এই মিনার ভাষার রাজনীতির বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে থাকা এক প্রতিবাদের সূচনামাত্র।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, স্থাপত্য বিভাগ, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট