default-image

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাসার কাছে জাহাঙ্গীর আলম (৬৬) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, মুরাদনগরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও নিহত মুক্তিযোদ্ধার পারিবারিক সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম সপরিবারে যাত্রাবাড়ী থানার ৫৯/৩ ধলপুরে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুরাদনগরের দারোরা ইউনিয়নের পায়ব গ্রামে। গতকাল ভোরে মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভা ছিল। ওই সভায় অংশ নেওয়ার জন্য ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে মুরাদনগরের উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে বের হন। বাসার ৪৪০-৫০০ গজ দূরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সকালে রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁর বাসায় খবর পাঠান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। তাঁর কান, গাল ও গলায় এবং দুই হাত ও পিঠে ছয়টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। জাহাঙ্গীরের শার্ট ও প্যান্টের পকেট থেকে টাকা ও মুঠোফোন খোয়া যায়নি। তবে তাঁর কাছে থাকা কিছু নথিপত্র পাওয়া যায়নি। এই নথিগুলো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বলে দাবি করেছেন নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আবদুস সাত্তার। জাহাঙ্গীরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। আজ শুক্রবার সকালে নিজ গ্রামে জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা হবে।

জাহাঙ্গীর আলমের বড় ছেলে দিদারুল আলম ওরফে রিপন বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করে আসছিলেন। এ ছাড়া টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়েও তিনি আপত্তি জানান। এ নিয়ে মুরাদনগরের একটি মহল তাঁর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল। গত ১৯ মে শুক্রবার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি ওই ইউনিয়নের বেশ কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তখন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেলুল কাদেরের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয়।’

দিদারুল বলেন, তাঁর বাবার ওপর ওই হামলার ঘটনায় গত ২২ মে দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কাজিয়াতল গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মনিরুজ্জামান, প্রয়াত জুনাব আলীর ছেলে আমির হোসেন ও দারোরা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে জাকির হোসেন ও তাঁদের সন্তানদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তাঁর বাবাকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়। হুমকিদাতারাই তাঁর বাবাকে খুন করেছে বলে তিনি মনে করছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী হোসনা বেগম তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত ঘটনা। খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ১৯ মে মুরাদনগরে জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

সূত্র: ২ জুন ২০১৭, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, শুক্রবার, প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন