default-image

‘বাংলাদেশে গণহত্যা এবং বিচার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, গণহত্যা অপরাধের মধ্যে চরমতম অপরাধ। যার লক্ষ থাকে নির্দিষ্ট বা সমগ্র একটি জাতি বা গোষ্ঠী বা কোনো সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দেওয়ার। আর যখন গণহত্যা সংঘটিত হয়, তখন সভ্যতার বিরুদ্ধেই অপরাধ ঘটে। সবারই দায়িত্ব গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এর বিচার নিশ্চিত করা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিচারকে (মানবতাবিরোধীদের) সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং বৃহৎ পরিসরে মূল্যায়ন করবে। দেশের আর্থসামাজিক কাঠামো মূল্যায়নে এই ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক বিচার দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ও দীর্ঘ যাত্রায় বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, গণহত্যা প্রতিরোধ, বিচার এবং সৌধ-স্মারকের মাধ্যমে তা স্মরণীয় করে রাখা উচিত। বিশ্বের সব অঞ্চলে গণহত্যা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। গণহত্যা ও জঘন্য অপরাধ কখনোই না, কখনোই না এবং আবারও কখনোই না বলায় বাংলাদেশ নিজের বার্তা প্রচার অব্যাহত রাখবে।’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অধ্যাপক অ্যালেক্সজান্ডার হিনটন বলেন, গণহত্যা নিয়ে দুই ধরনের বিবেচনা দেখা যায়। একটি বিস্মৃত গণহত্যা, অপরটি হচ্ছে আড়ালে রাখা গণহত্যা। অনেক দেশে অনেক গণহত্যার তথ্য এখনো অজানা। এসব নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

আর্জেন্টিনার বিচারক কার্লোস রোজানস্কি বলেন, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দূরত্ব অনেক। তবে এসব দেশে নির্যাতনসহ অপরাধের ধরন এক। অপরাধ সংঘটনের বহুদিন পর এ ধরনের বিচার সম্পন্ন করা সত্যিকার অর্থে কঠিন, যা বাংলাদেশে হয়েছে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এত দিন পরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচারের সৌন্দর্য।

শুরুতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, গণহত্যা অপরাধের মধ্যে চরমতম অপরাধ। এই অপরাধের লক্ষ্য নির্দিষ্ট বা একটি সমগ্র জাতিকে বা সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দেওয়া। সবার দায়িত্ব গণহত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ও বিচার নিশ্চিত করা। দুটি বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত বিশেষত, বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যায় জড়িত দুজন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আছেন। বিদেশে থাকলে তাঁদের খুঁজে বের করার আবেদন যাতে প্রত্যাখ্যান না হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক প্রচারণা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরটি হচ্ছে ফেরত পাঠানো ১৯৫ পাকিস্তানির বিচার এখনো হয়নি, অথচ তাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাঠামোশৈলী ও আর্কাইভের প্রশংসা করে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব আর্কাইভিস্টের ট্রুডি এইচ পিটারসন বলেন, ইতিহাস কখনো রক্তাক্ত আবার কখনো সোনালি আভায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে। তবে ইতিহাস যদি জাগরূক থাকে, যেটিই হোক না কেন, তা ভবিষ্যতের আলো দেখায়।

এরপর সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী।

আয়োজকেরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পঞ্চমবারের মতো এ সম্মেলন করছে। এবার আগারগাঁওয়ে জাদুঘরের নিজস্ব নতুন ভবনে সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ১৩ জন বিশেষজ্ঞ কর্ম অধিবেশনে অংশ নেবেন।

সূত্র: ২০ মে ২০১৭, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, শনিবার, প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন