default-image

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেনি মন্ত্রিসভা। ফলে ৬০ বছর বয়সেই অবসরে যাবেন তাঁরা।

মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের বয়স বাড়লে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বয়স বাড়বে—এমন গুঞ্জন উঠেছিল। গতকাল মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স না বাড়ায় সেই গুঞ্জনও থেমে গেছে।

গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাবটি তোলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মন্ত্রিসভা এই অভিমত ব্যক্ত করে যে মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স ইতিমধ্যে দুবার বাড়ানো হয়েছে। ২০১০ সালে এই বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছর এবং ২০১৩ সালে তা আরও বৃদ্ধি করে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে বয়স বাড়ানোর বিষয়টি অনুমোদন করেনি মন্ত্রিসভা।

বৈঠক সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ বছর থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পেশ করে। তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তা আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে। কিন্তু সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রস্তাবটি অনুমোদন না করায় তা উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপিত হয়নি। পরে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মচারী প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি ৬০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পেশের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ বহাল রাখেন। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করে।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তাঁদের বয়স শেষ পর্যায়ে ৬১ করার প্রস্তাব করলেও মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন করেনি। মূল প্রস্তাবে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৬৫ বছর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কিন্তু ১৩-১৪ বছর বয়সের কাউকে তিনি যুদ্ধ করতে দেখেননি। গতকালের বৈঠকে মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় ই-সার্ভিস আইন-২০১৫’ আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠায়। এতে মন্ত্রিসভার কিছু পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়।

সূত্র: ১৯ জানুয়ারি ২০১৬, ৬ মাঘ ১৪২২, মঙ্গলবার, প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন