শহীদ বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, টাঙ্গাইল

বিজ্ঞাপন
default-image

পড়া ও পড়ানো—এই ছিল শহীদ অধ্যাপক মোহাম্মদ হজরত আলীর জীবনের সাধনা। উদার মনের ভাবুক স্বভাবের মানুষ ছিলেন তিনি। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ভালো বাসতেন। বিশেষ করে অনাথ–অসহায় মানুষের জন্য অবারিত ছিল তাঁর দরজা।

টাঙ্গাইল জেলার বাসাইলের দাপানাজোর গ্রামে হজরত আলীর জন্ম ১৯৩৬ সালের ১ জুন। তাঁর বাবা আবদুল হাকিম সরকার। ১৯৫১ সালে হজরত আলী মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজ থেকে ১৯৫৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক ও ১৯৫৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি দর্শন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পরপরই মোহাম্মদ হজরত আলী শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পটুয়াখালী কলেজে লজিক ও চাইল্ড সাইকোলজির প্রভাষক হিসেবে তিনি যোগ দেন ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে। এরপর যোগ দেন টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজে। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে চাকরি শুরু করেন ১৯৬১ সালে। সর্বশেষ তিনি অধ্যাপনা করেন খুলনা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে। এখানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ১৯৭০ সালে।

অধ্যাপনার পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি করতেন হজরত আলী। বেশ কয়েকটি বই প্রকাশতি হয়েছিল তাঁর। এ ছাড়া দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সাময়িকীতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোহাম্মদ হজরত আলী দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছিলেন। তাঁর বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো সাধারণ দর্শনশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা পরিচিতি (অবরোহ), সাধারণ মনোবিজ্ঞান। এ ছাড়া দর্শন বিষয়ে ইংরেজিতে লেখা তাঁর একটি বই আ হ্যান্ড বুক অব জেনারেল ফিলোসফি প্রকাশিত হয়েছিল।

চাকরির সুবাদে মোহাম্মদ হজরত আলী গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করলেও নিজের গ্রামের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তাঁর। গ্রামে গেলে অসহায় দরিদ্র মানুষদের সাধ্যমতো সহায়তা করতেন। এ ছাড়া এলাকার তরুণদের যুক্ত করে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে অংশ নিতেন। তাঁদের এসব কাজের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, সে জন্য গ্রামে সমাজসেবামূলক একটি ক্লাবও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাকিস্তানি বর্বর সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালিদের গণহত্যা শুরু করলে তিনি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য। মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করেছিলেন তিনি। এসব কারণে রাজাকারদের রক্তচক্ষুতে পড়েন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ১৮ এপ্রিল রাজাকার–আলবদররা মোহাম্মদ হজরত আলীকে হত্যা করে।

গ্রন্থনা: আশীষ–উর–রহমান

বিজ্ঞাপন