default-image

শহীদ সুধীর কুমার ঘোষ পেশায় ছিলেন কাঠ ব্যবসায়ী। কিন্তু এলাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন মূলত লেখক, শিক্ষানুরাগী, শরীরচর্চাবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে। যশোর শহরের বেজপাড়ায় তাঁদের বাড়ি। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও স্বাধিকার চেতনায় উদ্বুদ্ধ। অনেক রকম গুণের সমাবেশ ঘটেছিল মুক্তমনের মানুষটির ভেতরে।

সুধীর কুমার ঘোষের জন্ম ১৯১৫ সালে। তাঁর বাবা শরৎচন্দ্র ঘোষ। বনেদি ব্যবসায়ী পরিবার ছিল তাঁদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এতে যুক্ত ছিলেন সুধীর কুমার। বাংলা একাডেমির শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ ও আগামী প্রকাশনীর শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ–এ একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটেও তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য রয়েছে। তবে বিশদ কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ সালে তিনি বিয়ে করেন, স্ত্রী কণকলতা দেবী। তাঁদের চার ছেলে ও চার মেয়ে। জানা গেছে, সুধীর কুমারের আত্মীয়স্বজন এখন থাকেন বিদেশে।

সুধীর কুমার ঘোষ সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তাঁর দুটো বই প্রকাশিত হয়েছিল শরীরচর্চা এবং সনাতন ধর্ম সংঘ নামে। খেলাধুলা, বিশেষ করে শরীরচর্চায় তিনি খুব উৎসাহী ছিলেন। এলাকার তরুণদের শরীরচর্চায় অনুপ্রেরণা দিতেন। এমনকি তাঁদের জন্য সুধীর নিজের বাড়িতে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্রও স্থাপন করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

যশোরে শিক্ষাবিস্তারে সুধীর কুমার ঘোষের অবদান অনেক। যশোর সিটি কলেজ ও যশোর পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুধু যশোর শহরই নয়, আশপাশের এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনহিতকর কাজে তিনি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এ ছাড়া গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে সুধীর কুমার ঘোষের উদ্যোগেই যশোরে সর্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রচলন হয়েছিল। এই দুর্গাপূজায় সব বর্ণের হিন্দুসহ এলাকার অন্য ধর্মের লোকও অংশ নিতেন।

এসব নানা করণে এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষটির প্রতি নজর ছিল পাকিস্তানি ঘাতকদের। একাত্তরে গণহত্যা শুরুর প্রথম দফাতেই ২৮ মার্চ বর্বর হানাদার সেনারা সুধীর কুমার ঘোষের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে। তারা সুধীর কুমার ও তাঁর এক ছেলে সত্যব্রত ঘোষকে বাড়ি থেকে যশোর সেনানিবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়। সুধীর কুমার ঘোষ ও তাঁর ছেলের মৃতদেহ আর পাওয়া যায়নি।

গ্রন্থনা: আশীষ–উর–রহমান