default-image

সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক এম এ গফুর নিরীহ কিন্তু সাহসী মানুষ ছিলেন। পাবনার গ্রামে হাটের মধ্যে এক রাজাকার তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৈজুরী শ্রীপুর গ্রামের বনেদি জোতদার পরিবারে এম এ গফুরের জন্ম, ১৯২৫ সালে। শিক্ষা পাবনা শহরে। জি সি ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৪১ সালে মাধ্যমিক পাস করেন। সংগীত ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন পাবনার তৎকালীন বিখ্যাত সংগীত শিক্ষক অশ্বিনী নিয়োগীর কাছে। তবে একটি বিশেষ ঘটনা তাঁর সংগীতচর্চায় বড় পরিবর্তন আনে।

বিজ্ঞাপন

পাবনার চলনবিল এলাকা। স্থানীয় জেলেরা ছাড়াও বর্ষায় অনেক এলাকা থেকে লোকে এখানে মাছ ধরতে আসত। নবদ্বীপ হালদার নামের তেমনি এক জেলে এসেছিলেন তাঁর বাড়ির কাছে বিলে মাছ ধরতে। অসাধারণ গানের গলা ছিল সেই জেলের। দোতারার মধুর বাদনের সঙ্গে নবদ্বীপের দরাজ গলার গানের সুর বিলের বাতাসে ভেসে যায়। সেই সুর এক নতুন দ্যোতনার সৃষ্টি করে এম এ গফুরের হৃদয়ে। সিদ্ধান্ত নেন কসংগীতের চর্চা করবেন।

লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে ষাটের দশকে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতে থাকেন এম এ গফুর।

একাত্তরের মার্চের দিকে দেশের অবস্থা উত্তাল হয়ে উঠলে এম এ গফুর ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি আটঘরিয়ার শ্রীপুরে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শহর থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বহু মানুষ তাঁদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। শিল্পী গফুরের বাড়ি ওই এলাকায় শরণার্থীদের একটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে। একটা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারাও ছদ্মবেশে তার বাড়িতে আসতেন। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয় রাজাকাররা ভালো চোখে দেখেনি। এম এ গফুর সম্পর্কে এক স্মৃতিচারণে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন তাঁর স্বজন শাহনেওয়াজ খান (স্মৃতি: ১৯৭১, সম্পাদনা, রশীদ হায়দার, বাংলা একাডেমি, পুনর্বিন্যাসকৃত চতুর্থ খণ্ড)।

একাত্তরের জুনে রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে গিয়ে শিল্পী গফুর সম্পর্কে জানায় যে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করছেন। এরপর একটি সেনা দল নিয়ে রাজাকাররা শ্রীপুর হাটে শিল্পী গফুরকে নির্যাতন করতে থাকে। তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এক রাজাকার তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

গ্রন্থনা: আশীষ-উর-রহমান।

বিজ্ঞাপন