default-image

শহীদ আবদুর রহমান দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব সচেতন ছিলেন। স্বাধীনতাসংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তাঁর ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করতেন যুদ্ধে যেতে। তখন তিনি ছিলেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের তরুণ প্রভাষক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে রসায়ন শাস্ত্রে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন আবদুর রহমান। অসহযোগ আন্দোলন ও বাঙালির স্বাধীনতা নিয়ে সেই উত্তপ্ত দিনগুলোতে তিনি আলোড়িত হয়েছেন, প্রগতিশীল আন্দোলনে যুক্ত থেকেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পরের বছর ১৯৬৭ সালে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এই কলেজ থেকেই তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শহীদ আবদুর রহমানের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বামানডাঙ্গা গ্রামের এক কৃষক পরিবারে। তাঁর বাবা বাদশা মণ্ডলের অবস্থা তেমন সচ্ছল ছিল না বটে, তবে তিনি চেয়েছিলেন ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে। গ্রামের পাঠশালাতেই আবদুর রহমানের প্রাথমিক শিক্ষা। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে নিবিষ্ট মনে অধ্যয়ন করে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে যুক্ত হয়েছিলেন শিক্ষকতায়, মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পর্বে তিনি বিয়ে করেছিলেন। শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার পর পরিবার নিয়ে রংপুরেই বসবাস করতেন। কলেজে শিক্ষাদানের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি তাঁর ছাত্র ও তরুণদের যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।

আবদুর রহমানের দুই ছেলে, এক মেয়ে। রংপুরের পরিস্থিতি তখন বেশ সংকটময় হয়ে উঠেছিল। একটা পর্যায়ে পরিবার নিয়ে রংপুরে থাকা আর নিরাপদ মনে করলেন না তিনি। পরিবার নিয়ে গেলেন গ্রামের বাড়ি নাগেশ্বরীতে। তবে নিজে গ্রামে থাকেননি তিনি।

স্ত্রী-সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে ফিরে যাচ্ছিলেন আবদুর রহমান। তাঁর ছেলে মো. আশেকুর রহমানের ‘আমার বাবা’ নামে একটি লেখা আছে স্মৃতি: ১৯৭১ বইতে (রশীদ হায়দার সম্পাদিত, পুনর্বিন্যাসকৃত দ্বিতীয় খণ্ড, বাংলা একাডেমি)। সেখানে তিনি বাবা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমার বাবা ছিলেন বরাবরই স্বাধীনতার পক্ষে। তিনি যুদ্ধে যোগ দিতে তাঁর প্রিয় ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করছিলেন। দেশের অবস্থা যখন ভয়াবহ ও হানাদার বাহিনীর অত্যাচার শেষ সীমায়, তখন আমাদের তিনি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলেন। শত বারণ সত্ত্বেও তিন আমাদের রেখে আবার রংপুর রওনায় হন। পথেই তিনি রাজাকার-আলবদরের দৃষ্টিতে পড়েন। তারা তাঁকে ধরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। দিনটি ছিল ২ জুন ১৯৭১। এরপর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

আশেকুর রহমান লিখেছেন, মুক্তিসংগ্রামের ভেতর দিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও তাঁদের পরিবারের সংগ্রাম শেষ হয়নি। তাঁর মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সন্তানদের বড় করতে কঠিন সংগ্রাম করেছেন।

গ্রন্থনা: আশীষ-উর-রহমান।

বিজ্ঞাপন