default-image

রাধানগর সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার (বর্তমানে উপজেলা) অন্তর্গত সীমান্ত এলাকার ছোট একটি বাজার। ১৯৭১ সালে রাধানগরে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত এক প্রতিরক্ষা অবস্থান। প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিল ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ও টসি ব্যাটালিয়ন।

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর রাধানগরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানের দিকে বেপরোয়াভাবে এগিয়ে আসছে একদল পাকিস্তানি সেনা। হাবিবুর রহমান মেশিনগান দিয়ে গুলি করে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো বাধাই পাকিস্তানি সেনারা মানছে না। এ সময় হাবিবুর রহমানের মেশিনগানের গুলি শেষ হয়ে যায়। তাঁর কাছে শেষ সম্বল চারটি গ্রেনেড। সেগুলো পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে ছুড়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

সুবেদার হাবিবের কারণে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গুলি বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তানি সেনারা তাঁর অবস্থানের ওপর চড়াও হয়। হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করার পর আত্মরক্ষার জন্য তাঁর আর কিছু ছিল না। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে অসংখ্য গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা করে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। গভীর রাতে গ্রামের মসজিদের ইমাম ওই বাংকারের কাছে এসে অস্ফুট আওয়াজ শুনে উঁকি দিয়ে তাঁকে দেখতে পান। তিনি হাবিবকে উদ্ধার করে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। এ যুদ্ধে ৫/৫ গুর্খা রেজিমেন্টের কোম্পানি কমান্ডার, একজন লেফটেন্যান্টসহ প্রায় ১৫০ জন শহীদ হন।

হাবিবুর রহমান ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন দিনাজপুর ইপিআর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে ছাতক, গোয়াইনঘাটসহ কয়েকটি অপারেশনে তিনি অংশ নেন।