default-image

সীমান্তসংলগ্ন মুক্ত এলাকায় টহল দিচ্ছেন রমিজ উদ্দীনসহ তিন মুক্তিযোদ্ধা। হঠাত্ তাঁদের আক্রমণ করে একদল পাকিস্তানি সেনা। মুক্তিযোদ্ধারা দেখলেন, পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের চারদিক থেকে ঘেরাও করছে। রমিজ উদ্দীন বিচলিত হলেন না। সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতে থাকলেন। তাঁর মাথায় তখন একটাই চিন্তা, সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে হবে। কিন্তু বেশিক্ষণ লড়াই করতে পারলেন না। শত শত গুলি ছুটে আসছে তাঁর দিকে। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেল তাঁর শরীর। নিজের জীবন দিয়ে দুই সহযোদ্ধা ও পেছনে মূল শিবিরে থাকা সহযোদ্ধাদের পশ্চাদপসরণ করার সুযোগ করে দিলেন। রক্ষা পেল ২১ জন সহযোদ্ধার প্রাণ। এ ঘটনা ১৬ মে ১৯৭১ সালে ঘটেছিল বালুমারা ফরেস্ট এলাকায়।

বালুমারা ফরেস্ট অফিস হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার অন্তর্গত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হবিগঞ্জ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ১ বা ২ মে শায়েস্তাগঞ্জের খোয়াই নদীর তীরে রেললাইনের পাশে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করলেও বালুমারা ফরেস্ট অফিসসহ আশপাশের কিছু এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে ছিল। ফরেস্ট অফিসে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শিবির। মুক্ত এলাকায় ছিলেন ২২ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দলসহ রমিজ উদ্দীন। তাঁরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে মুক্ত এলাকার সীমান্তে প্রতিরক্ষা অবস্থান নিলেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পাকিস্তানি সেনারা বালুমারা এলাকায় তখন পর্যন্ত আক্রমণ না চালালেও মুক্ত এলাকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে। তারা মুক্ত এলাকায় নিয়মিত গুপ্তচর পাঠাতে থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের এক সহযোগীর নাম ছিল তমাই মহালদার। মুক্ত এলাকায় সে গোপনে এসে তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে পৌঁছে দিত। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে একদিন আটক করে প্রাণদণ্ড দেন। এরপর পাকিস্তানি সেনারা ১৬ মে আকস্মিকভাবে মুক্ত এলাকায় আক্রমণ করে।

রমিজ উদ্দীন কৃষিকাজ করতেন। তবে মুজাহিদ প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিল তাঁর। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি এতে যোগ দেন। তখন তাঁর স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার বছর খানেক আগে তিনি বিয়ে করেন।

বিজ্ঞাপন