default-image

১৭ জুন ভোরে বাথুলীতে হাজির হলো একদল পাকিস্তানি সেনা। তারা আক্রমণ করল মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারদের দলের ওপর। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা আক্রমণ চালালেন। মো. হাবিবুর রহমান ও তাঁর সহযোদ্ধারা সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা আক্রমণ প্রতিহত করে চললেন।

যুদ্ধ চলতে থাকল। এর মধ্যে আবদুল কাদের সিদ্দিকীও (বীর উত্তম) মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। তাঁর সঙ্গেও ছিলেন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে থেমে গেল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা। শেষে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটে গেল। ওই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলেই থাকল।

দুই দিন পর ১৯ জুন ভোরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাথুলীতে আবার হাজির হলো। এবার তারা ব্যাপক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করল। মো. হাবিবুর রহমান ও তাঁর সহযোদ্ধারা এতে দমে গেলেন না। আগের মতোই বীরত্বের সঙ্গে পাকিস্তানি আক্রমণ প্রতিহত করে চললেন।

বিজ্ঞাপন

বেলা আনুমানিক ১১টা। এ সময় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া শেল এসে পড়ে মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে। নিমেষে বিস্ফোরিত শেলের টুকরো এসে লাগল তাঁর পায়ে। আহত হয়েও তিনি দমে গেলেন না। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে লাগলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ পারলেন না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়তে লাগলেন। সহযোদ্ধারা দ্রুত মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারকে উদ্ধার করে পাঠালেন চিকিত্সকের কাছে। প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়ার পর তাঁকে পাঠানো হয় হেডকোয়ার্টার্স চিকিত্সাকেন্দ্রে।

বাসাইল থানা টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত। জেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। করটিয়া-সখীপুর সড়কে বাসাইলের অবস্থান। কাদেরিয়া বাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্পসহ সব কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণস্থল ছিল সখীপুর। মে-জুন মাসে যুদ্ধের প্রয়োজনে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের জন্য কাদেরিয়া বাহিনী বেশ কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ জুন বাসাইল থানা দখল করা হয়।

বাথুলী যুদ্ধে আহত মো. হাবিবুর রহমান তালুকদার পরে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে আর অংশ নিতে পারেননি। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এরপর তিনি কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক বিভাগে কাজ করেন।

মো. হাবিবুর রহমান তালুকদার ১৯৭১ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজের এইচএসসির ছাত্র ছিলেন। ছাত্ররাজনীতিও করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাতে যোগ দেন। টাঙ্গাইলের সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রবল আক্রমণে টাঙ্গাইলে তাঁদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। তখন তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে তিনি কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান