default-image

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস। মুক্তিবাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থানরত মো. বিলাল উদ্দিন খবর পেলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা তাঁর এলাকায় ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। পরে আরও কয়েক দিন তিনি একই খবর পেলেন। এরপর নিজেকে স্থির রাখতে পারলেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের গ্রামবাসীকে সাহস জোগাতে তিনি তাঁর নিজের এলাকায় যাবেন।

তারপর একদিন (সঠিক তারিখ তাঁর জানা নেই) মো. বিলাল উদ্দিন দিনের বেলা ভারতের ঢালু থেকে রওনা হলেন। তাঁর সঙ্গে ৩৫ থেকে ৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের দলনেতা তিনি। তাঁদের কাছে অস্ত্র বলতে স্টেনগান, রাইফেল আর হ্যান্ড গ্রেনেড। ভারী কোনো অস্ত্র নেই।

সীমান্ত পেরিয়ে মো. বিলাল উদ্দিন সহযোদ্ধাদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও মানুষজন নেই। পথে পড়ল বিরাট এক খোলা ময়দান। হঠাত্ তাঁরা দেখতে পেলেন, সেই খোলা ময়দানের ভেতর কয়েকটি গরুর গাড়ি। সঙ্গে একদল পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার। গাড়িতে নানা জিনিসপত্র।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানি সেনারাও হয়তো তাঁদের দেখতে পেয়েছিল। আচমকা শত্রুর সামনে পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হতভম্ব দশা। তাঁরা মাত্র প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। যুদ্ধে অংশ নেননি। একমাত্র মো. বিলাল উদ্দিন পেশাদার সেনা। তবে তিনিও রেকি (পর্যবেক্ষণ) দলের সদস্য। সরাসরি যুদ্ধ না করে ছদ্মবেশে দেশের ভেতরে রেকি করে থাকেন।

মো. বিলাল উদ্দিন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। শেষে সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে সরাসরি যুদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

মো. বিলাল উদ্দিন ছিলেন গাছের আড়ালে ও নিরাপদ স্থানে। আর পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা খোলা মাঠে। গুলি, পাল্টা গুলিতে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের বেশ কয়েকজন হতাহত হলো। এরপর তিনি দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরে পড়েন। তাঁর সহযোদ্ধারা আগেই সরে পড়েছিলেন। এ ঘটনা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরানের।

মো. বিলাল উদ্দিন চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রাম ইবিআরসিতে। তখন তাঁর পদবি ছিল নায়েক বা ক্লার্ক। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বালুচ রেজিমেন্ট ইবিআরসিতে আক্রমণ করে। সে সময় তাঁরা নিরস্ত্র অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণে ইবিআরসিতে অবস্থানরত বেশির ভাগ বাঙালি সেনা নিহত হন। অল্পসংখ্যক বেঁচে যান। তিনিও বেঁচে যান এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ১১ নম্বর সেক্টরে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান