default-image

জামালউদ্দীনের দলনেতা গুপ্তচরের মাধ্যমে খবর পেলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল বিরিশিরি থেকে গোলাবারুদ ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে কলমাকান্দা থানায় যাবে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানি সেনাদের অ্যামবুশ করার। বিরিশিরি ও কলমাকান্দা নেত্রকোনার অন্তর্গত। ১৯৭১ সালে যানবাহন চলার জন্য সেখানে কোনো পাকা রাস্তা ছিল না। সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে নাজিরপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে একটি গ্রামীণ পথ ধরে যেতে হতো।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিবাহিনীর তিনটি দল রওনা হলো নাজিরপুরে। একটি দলের নেতৃত্বে ইপিআরের আবদুল গনি। দ্বিতীয় দলের নেতৃত্বে পুলিশের রহমতউল্লাহ। তৃতীয় দলের নেতৃত্বে নাজমুল হক। তাঁর দলে জামালউদ্দীনসহ ৩০ জন। সিদ্ধান্ত হলো, তাঁরা নাজিরপুরে অবস্থান নেবেন তিনটি পৃথক স্থানে। ২৫ জুলাই রাতের মধ্যেই তাঁরা নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিলেন।

বিজ্ঞাপন

জঙ্গলের ভেতর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর পাকিস্তানি সেনাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে আবদুল গনির দল কোনো খবর না দিয়েই ফিরে যান নিজেদের ক্যাম্পে। রহমতউল্লাহর দলের সামনে দিয়ে খাদ্যসামগ্রীসহ যাচ্ছিল একদল রাজাকার। তাদের বেশির ভাগকে রহমতউল্লাহর দল প্রায় বিনা যুদ্ধে আটক করে। এরপর তিনি তাঁর দল নিয়ে অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন। এর মধ্যে পালিয়ে যাওয়া রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের কাছে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়।

২৬ জুলাই সকাল নয়টার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দল চারদিক থেকে গুলি করতে করতে সেদিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এতে জামালউদ্দীনের দলনেতা বিভ্রান্ত হন। পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করা হচ্ছে। সেদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকার কথা। যখন বুঝতে পারলেন তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনারা ক্রল করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানে ঢুকে পড়ে। জামালউদ্দীন ছিলেন এলএমজিম্যান। তিনি তাঁর এলএমজি দিয়ে বীর বিক্রমে পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে লাগলেন। জামালউদ্দীনের সাহস ও রণকৌশল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু পাকিস্তানি সেনারা জামালউদ্দীনের এলএমজি অবস্থান চিহ্নিত করে চারদিক থেকে তাঁর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জামালউদ্দীন ১৯৭১ সালে ছিলেন ১৭-১৮ বছরের যুবক। কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসের প্রথমার্ধে ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। তুরায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ১১ নম্বর সেক্টরের মহেশখোলা সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। এটাই ছিল তাঁর প্রথম সরাসরি যুদ্ধ। এর আগে তিনি কয়েকটি ছোটখাটো অপারেশনে অংশ নেন।