default-image

সীমান্তসংলগ্ন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে সরাসরি আক্রমণ করা হবে, এ জন্য ঘাঁটির চারপাশ মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ছদ্মবেশে দিনে রেকি করল। রাতের বাস্তব অবস্থাও দেখা প্রয়োজন। সীমান্তের ওপারের মুক্তিবাহিনীর শিবির থেকে বেরিয়ে পড়লেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে আছেন মো. আবদুল মান্নান। তাঁদের দলনেতা সালাহ্উদ্দীন মমতাজ (বীর উত্তম)।

সাড়াশব্দহীন অন্ধকার রাত। রাতের অন্ধকারে মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটির আশপাশ পর্যবেক্ষণ করছেন। অন্ধকারে ভুল করে তাঁরা চলে গেলেন পাকিস্তানি এক পর্যবেক্ষণ চৌকির কাছে। সেখানে ছিল দুই পাকিস্তানি সেনা। দুজনের একজন ‘হল্ট’ বলে চিত্কার করে উঠল। তাঁরা তাদের আটক করে হত্যা করলেন। এরপর তাঁরা দুই পাকিস্তানি সেনার মাথার ক্যাপ ও অস্ত্র নিয়ে ফিরে গেলেন নিজেদের শিবিরে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনা ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই ঘটেছিল কামালপুর বিওপিতে। কামালপুর জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত। ৩১ জুলাই মো. আবদুল মান্নান ও তাঁর সহযোদ্ধারা সেখানে আক্রমণ করেন। তার আগে তাঁরা সেখানে সেদিন রেকি করেন। ৩১ জুলাই কামালপুরে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। মো. আবদুল মান্নান সি কোম্পানির নেতৃত্ব দেন। তাঁর কোম্পানি এফইউপি প্রোটেকশন ও গাইড হিসেবে কাজ করে। আক্রমণের জন্য পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা অবস্থান থেকে ৬০০ গজ দূরে এফইউপি নির্ধারণ করা হয়। আগের দিন রাতে হঠাত্ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আক্রমণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের সেখানে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টি ও ঘোর অন্ধকারে গাইডরা পথ হারিয়ে ফেলেন। এই অতিরিক্ত সময় যুদ্ধের পরিকল্পনায় না থাকায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগেই তাঁরা নিজেরাই নিজেদের প্রিএইচ আওয়ার বোমার শিকার হন। নিজেদের গোলা ও পাকিস্তানি গোলা তাঁদের ওপর এসে পড়তে থাকে। এতে সেখানে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন মো. আবদুল মান্নানের প্রচেষ্টা ও প্রেরণায় মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বেড়ে যায়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল বিক্রমে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রায় ৪০ জন শহীদ এবং আবদুল মান্নানসহ ৭০-৮০ জন আহত হন। আবদুল মান্নানের ঊরুতে গুলি লাগে।

মো. আবদুল মান্নান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। তখন তাঁর পদবি ছিল লেফটেন্যান্ট। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি এতে যোগ দেন। ভারতে পুনর্গঠিত হওয়ার পর তাঁকে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির নেতৃত্ব দেওয়া হয়। কামালপুর যুদ্ধ ছাড়াও কয়েকটি জায়গায় তিনি প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন