default-image

মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলের নেতৃত্বে মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি তাঁর দল নিয়ে দ্রুত আক্রমণ শুরু করলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে। মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য দলও আক্রমণ শুরু করল। মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণে নিহত ও আহত হলো বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। কিছুক্ষণ প্রতিরোধ চালানোর পর বাকি পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে গেল। যাওয়ার সময় ফেলে গেল বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ। এ ঘটনা ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বরে ঘটেছিল আটগ্রামে।

আটগ্রাম সিলেটের জকিগঞ্জ থানার (বর্তমানে উপজেলা) অন্তর্গত। জকিগঞ্জ থানা সদর থেকে উত্তর দিকে। আটগ্রামের পাশেই চারগ্রাম। ১৯৭১ সালে আটগ্রাম ও চারগ্রাম—দুই জায়গায়ই ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সেনারা। নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্রাভো ও চার্লি কোম্পানি আটগ্রাম ও চারগ্রামে আক্রমণ করে। চার্লি কোম্পানিতে একটি প্লাটুনের নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

বিজ্ঞাপন

এ যুদ্ধ সম্পর্কে ক্যাপ্টেন (পরে মেজর) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম লিখেছেন, ‘নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিলেটের চারগ্রাম ও আটগ্রাম এলাকার শত্রুঘাঁটির ওপর আক্রমণের জন্য আমরা সব কমান্ডিং অফিসার এবং কোম্পানি কমান্ডারগণ এ এলাকা ভালোভাবে রেকি করি। ২২ নভেম্বর সকালে আমি বি কোম্পানি নিয়ে আর্টিলারির সাহায্যে চারগ্রাম ঘাঁটি আক্রমণ করি। সারা দিন প্রচণ্ড যুদ্ধের পর আমরা উক্ত ঘাঁটি দখল করে নিই। শত্রুপক্ষের প্রায় ৩০ জন হতাহত হয় এবং কয়েকজনকে আমরা জীবিত অবস্থায় বন্দী করি। এ ঘাঁটি থেকে আমরা প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাগুলি, খাদ্যদ্রব্য এবং যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দখল করি। এ আক্রমণে সাফল্য লাভ করায় আমাদের সৈন্যদের মনোবল অনেক গুণে বেড়ে যায়। এ যুদ্ধে বি কোম্পানি অত্যন্ত সাহস ও রণকৌশল প্রদর্শন করে। একই দিনে সি কোম্পানি ক্যাপ্টেন নূরের নেতৃত্বে আটগ্রাম ব্রিজ এলাকা আক্রমণ করে এবং দখল করে নেয়। এই স্থানেও আমরা প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাগুলি দখল করতে সক্ষম হই। এভাবে আমরা চারগ্রাম ও আটগ্রাম এলাকা সম্পূর্ণরূপে শত্রুমুক্ত করি।’

মোহাম্মদ ইব্রাহিম চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল যশোর সেনানিবাসে। তখন তাঁর পদবি ছিল নায়েব সুবেদার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি এতে যোগ দেন। প্রতিরোধযুদ্ধকালে যশোরের বেনাপোলে সংঘটিত যুদ্ধে তিনি সামান্য আহত হন। পরে ভারতে গিয়ে পুনরায় সংগঠিত হয়ে যুদ্ধ করেন জামালপুর জেলার কামালপুর, মৌলভীবাজার জেলার ধলই বিওপি, সিলেট এমসি কলেজসহ কয়েকটি জায়গায়।

বিজ্ঞাপন