default-image

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনের বেলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থানে যান মোশাররফ হোসেন। গোপনে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরক্ষা অবস্থান। তারপর ফিরে যান নিজেদের শিবিরে। শিবিরে বসে তৈরি করেন মানচিত্র। দূরত্ব হিসাব করে তা বুঝিয়ে দেন দলনেতার কাছে। দুই-তিন দিন পর নির্ধারিত হয় আক্রমণের সময়। তখন আবার চলে যান পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানের কাছে। এবার অবস্থান নেন উঁচু গাছে।

নির্ধারিত সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থানে শুরু হয় গোলাবর্ষণ। গাছের ওপর বসে মোশাররফ হোসেন লক্ষ করেন সেগুলো সঠিক নিশানায় পড়ছে কি না। ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দলের কাছে নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশনায় নিখুঁত নিশানায় গোলা পড়তে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনারা। এ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের।

মোশাররফ হোসেন ছিলেন মুক্তিবাহিনীর গোলন্দাজ দলের সদস্য। মুজিব ব্যাটারির ওপি হিসেবে তিনি শত্রু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আক্রমণ পরিচালিত হতো। সফলতার সঙ্গে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

মোশাররফ হোসেন ১৯৭১ সালে কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মুজাহিদ বাহিনীর প্রশিক্ষণও তাঁর নেওয়া ছিল। ২৫ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসিক এলাকায় ছিলেন। পরে ঢাকা থেকে পালিয়ে নিজ এলাকায় যান। সেখানে এলাকার ছাত্র-যুবক সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে তাঁদের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। কিছুদিন পর ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ২ নম্বর সেক্টরের রাজনগর সাবসেক্টরে দুই-তিনটি গেরিলা অপারেশনে অংশ নেন। পরে তাঁকে মুক্তিবাহিনীর গোলন্দাজ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

বিজ্ঞাপন