default-image

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মূল ঘাঁটি ছিল জামালপুরের পিটিআই ভবনে। পাকিস্তানি সেনাদের কামালপুর ঘাঁটির পতনের পর ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো জামালপুরে আসতে থাকেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল মিত্রবাহিনী। তাঁরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে অগ্রসর হতে থাকেন। এদিকে সীমান্তবর্তী সব ঘাঁটি থেকে সরে আসা পাকিস্তানি সেনারা জামালপুরে সমবেত হওয়ায় সেখানকার পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বেশ জোরালো হয়ে ওঠে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহ সামনে রেখে পাকিস্তানি সেনারা প্রতিরক্ষা অবস্থান গড়ে তোলে। ৬ বা ৭ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা জামালপুর শহর ঘেরাও করতে থাকেন। তাঁরা বেষ্টনী গড়ে তোলেন হাটচন্দ্রা, বগাবাইদ, যোগীরগুফা, তিরুটিয়া, পলাশগড়, কালাবো মোল্লাপাড়া হয়ে বেলটিয়া, শাহপুর, লাঙ্গলজোড়া, মাহিমপুর ও হরিপুর পর্যন্ত। ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই বেষ্টনী রচনার কাজ শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে এটা বুঝতে পারেনি। পরে বুঝতে পেরে ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ পারে এসে তারা গুলি ছুড়তে থাকে। এর মধ্যে মিত্রবাহিনী কয়েকবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্য অনুরোধ জানায়। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান মাহমুদ তা প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তারপর পাকিস্তানি সেনারা বেলটিয়া গ্রামের কাছে সমবেত হয় এবং যুদ্ধ শুরু করে। কিন্তু তারা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে চরমভাবে মার খায়। তারা পালানোর চেষ্টা করতে থাকে। পাকিস্তানি সেনারা বেলটিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের ওপর ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে সেদিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নির্ভীক মোতাসিম বিল্লাহ খুররম বাংকার থেকে বেরিয়ে অগ্রসরমাণ পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করতে যান। তখন পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া এক ঝাঁক গুলি এসে লাগে তাঁর শরীরে। শহীদ হন তিনি। এ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে অর্থাত্ ১০ ডিসেম্বরে ঘটেছিল জামালপুরে। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সহযোদ্ধারা পাঠিয়ে দেন তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মোতাসিম বিল্লাহ ১৯৭১ সালে বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। তিনি ছিলেন তাঁর দলের উপদলনেতা।

বিজ্ঞাপন