default-image

মতিউর রহমান একটি কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন। তাঁর কোম্পানির নাম ছিল ‘কোবরা’। সাচনাবাজারের যুদ্ধে তিনি প্রথম অংশ নেন। এরপর সুরমা নদী ও তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি বাজারে যুদ্ধ করেন। সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সাচনাবাজার। ১৯৭১ সালের ৮ আগস্ট সেখানে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় রকমের এক সংঘর্ষ হয়। এখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল। সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের ওই অবস্থানে আক্রমণ চালান। এই দলে মতিউর রহমানও ছিলেন। সহযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও আরেকজন যোদ্ধা পাকিস্তানি বাহিনীর বাংকার লক্ষ্য করে গ্রেনেড চার্জ করছিলেন। মতিউর রহমান শত্রুপক্ষের বাংকারের মুখ বরাবর এলএমজির গুলি চালিয়ে নিজেদের কাভার দিচ্ছিলেন। সেদিন এ যুদ্ধে সিরাজুল ইসলামসহ ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

বিজ্ঞাপন

সাচনাবাজারে আক্রমণ করার পর মুক্তিযোদ্ধারা ক্রল করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের প্রবল গুলিবর্ষণের কারণে তাঁরা সামনে এগোতে পারছিলেন না। এ সময় কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যান তাঁরা। তাঁদের হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে মতিউর রহমানের সহযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম একাই এগিয়ে যান শত্রুর বাংকারের দিকে। তাঁর চোখের সামনেই গুলিবিদ্ধ হন সিরাজুল ইসলাম। মতিউর রহমান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেও বাঁচাতে পারেননি।

মতিউর রহমান ১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নিজের এলাকায় গিয়ে ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করতে থাকেন। পরে তিনি ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীনে বড়ছড়া সাব-সেক্টরে পাঠানো হয়। পরে তিনি কোবরা কোম্পানির যোদ্ধাদের নিয়ে ৩ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন কিশোরগঞ্জ এলাকায় আসেন। ২০ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী এবং ৯ নভেম্বর করিমগঞ্জের ইটনায় তিনি যুদ্ধ করেন। ২৭ নভেম্বর তাঁর কোবরা কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অষ্টগ্রাম মুক্ত করে কিশোরগঞ্জের ভাটি এলাকায় এক বিরাট মুক্তাঞ্চল গড়ে তোলেন। গচিহাটাতেও তাঁর কোবরা কোম্পানি যুদ্ধ করে।

বিজ্ঞাপন