default-image

মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় দল সিলেট শহরের উপকণ্ঠে এমসি কলেজসংলগ্ন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থানের মুখোমুখি প্রতিরক্ষা অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের দলে ছিল প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের চারটি কোম্পানি—ব্রাভো, ডেলটা, আলফা ও চার্লি। আরও ছিলেন গণবাহিনীর বেশ কিছু সদস্য। ব্রাভো কোম্পানিতে ছিলেন সুবেদার ফয়েজ আহমদ। ডেলটা কোম্পানি প্রথমে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ করে। পাকিস্তানি সেনারাও মর্টারের সাহায্যে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধাদের গোলা শেষ হয়ে যায়। তার পরও তাঁরা কয়েকটি মেশিনগান, হালকা মেশিনগান ও অন্যান্য হালকা অস্ত্র দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতে থাকেন। পরে মিত্রবাহিনীর বিমান আকাশ থেকে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানে হামলা চালালে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

সেদিনের যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাদের শতাধিক সেনা নিহত এবং অসংখ্য আহত হয়। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্রাভো ও ডেলটা কোম্পানির ২০ জন সদস্য শহীদ এবং ২৪-২৫ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে সুবেদার ফয়েজ আহমদও ছিলেন। তিনি অসীম সাহস ও রণকৌশল দেখিয়ে শহীদ হন।

ফয়েজ আহমদ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার ছিলেন। যশোর সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২৯ মার্চ তাঁদের রেজিমেন্ট পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আক্রান্ত হয়। এরপর তিনি ভারতে চলে যান। অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে।